সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ছাত্রসংসদের নির্বাচন করার উদ্যোগ নিন

সম্পাদকীয়

দীর্ঘ আটাশ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপড়্গ। আগামী ৩০ মার্চ এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। ডাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধন, ভোটার তালিকা তৈরির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। শিড়্গার্থী, শিড়্গক ও বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজ ‘ডাকসু’ নির্বাচনের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তারা আশা করছেন এর মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হবে।
দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ‘ডাকসু’র গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে। শুধু রাজনীতি কেন, ডাকসুর নানামুখি কার্যক্রম বিশেষ করে সাহিত্য-সংস্কৃতি-ক্রীড়া-এসবের মাধ্যমে অনেক প্রতিভাবান ছাত্র-ছাত্রী তৈরি হয়েছে যারা এসব ড়্গেত্রে যোগ্য অবদান রেখেছেন। কি কারণে এত দীর্ঘসময় ডাকসুসহ দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ এবং কলেজ ছাত্র-সংসদগুলির নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়েছে তার যৌক্তিক কারণ বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কলেজ প্রশাসন বলেনি। এটি আরও দুর্ভাগ্যজনক যে, বিগত শতকের শেষ দিকে স্বৈরাচার পতনের পর গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হবার কাল থেকে ‘ডাকসু’ নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। রাজনৈতিক নেতারা ডাকসু নির্বাচনের কথা বলছেন এখন কিন’ বড় দুটি রাজনৈতিক দলের শাসনামলেও ডাকসুসহ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
‘ডাকসু’ নির্বাচন অনুষ্ঠান ঘোষণার তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী। এটি দেশের রাজনীতিতে যেমন গুণগত পরিবর্তনের সূচনা করবে তেমনি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশেও ব্যাপক অবদান রাখবে। সহশিড়্গা কার্যক্রম পরিচালনায় ছাত্রসংসদের কার্যকর ভূমিকা থাকে। শিড়্গার্থীদের দাবিদাওয়াসহ ইতিবাচক আন্দোলন সংসদের মাধ্যমে গড়ে তোলা সম্ভব। ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও নানা মানবিক আন্দোলন শিড়্গার্থীদের মধ্যে সদ্ভাব ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সরকারি- বেসরকারি শিড়্গাপ্রতিষ্ঠান, সহশিড়্গা কার্যক্রম কিংবা শিড়্গার্থী কল্যাণের নাম করে ভর্তির সময় অর্থও আদায় করে কিন’ এসব অর্থের ব্যয় নিয়ে প্রশ্নও থেকে যায়। ছাত্রসংসদ না থাকায় শিড়্গার্থীদের সাধারণ যৌক্তিক দাবিগুলিও প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে যায়। এমন কি অনেক সময় প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারমূলক আচরণের খবরও গণমাধ্যমে আসে।
আমরা মনে করি কেবল ডাকসু নয়, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ছাত্রসংসদগুলির ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার এবং সংশিস্নষ্ট শিড়্গাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপড়্গ পদড়্গেপ নেবে।
এজন্য শিড়্গাপ্রতিষ্ঠানে সকল মত ও পথের ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে সহাবস’ান নিশ্চিত করতে হবে। ক্যাম্পাসকে অছাত্র ও বহিরাগতমুক্ত করতে হবে। সকলকে নিয়ে আচরণবিধি তৈরি করতে হবে যাতে শিড়্গার পরিবেশ কোন কারণে ড়্গুণ্ন না হয়। ক্যাম্পাসে বৈরিতা ও সংঘাতের যাতে অবসান ঘটে। সেজন্য শিষ্টাচার কৌশল ও প্রণয়ন করা যেতে পারে। একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়নও জরম্নরি।
হল ও ক্যাম্পাসে ভয়ভীতি ও দখলদারিত্বের পরিবেশ অবিলম্বে দূর করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। দীর্ঘসময় ছাত্রসংসদ এবং সহশিড়্গা কার্যক্রম জোরদার না থাকায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক মানবিক গুণাবলী চর্চা ও বিকাশ ব্যাহত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন ও আড়াই দশক ধরে বন্ধ রয়েছে।
আমরা চাই উচ্চশিড়্গার প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্র-সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশব্যাপী গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নব ধারা সূচিত হোক, শিড়্গার সাথে সাথে ‘মানব’ হয়ে ওঠার সকল আয়োজন পূর্ণতা পাক। এ লড়্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিড়্গকসমাজের ভূমিকা গুরম্নত্বপূর্ণ।