সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই ‘পাঠ পরিকল্পনা’

সুপ্রভাত ডেস্ক

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সপ্তাহের কোনদিন, কোন বিষয়ের কতটুকু অংশ পড়ানো হবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। সব শিড়্গা প্রতিষ্ঠানই অনুসরণ করবে সেই ‘পাঠ পরিকল্পনা’ বা লেসন পস্ন্যান। জাতীয় প্রাথমিক শিড়্গা অ্যাকাডেমি (নেপ) এই পাঠ পরিকল্পনার একটি খসড়া এরই মধ্যে তৈরি করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিড়্গা সচিব আকরাম-আল-হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর বিডিনিউজ।
তিনি বলেন, ‘ওই লেসন পস্ন্যান চূড়ানত্ম করে প্রত্যেক স্কুলে পাঠিয়ে দেব। বাংলাদেশের প্রত্যেক স্কুলের লেসন পস্ন্যান হবে এক রকম।’
বিষয়টির ব্যাখ্যায় সচিব বলেন, ‘ঢাকার নীলড়্গেত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে পাঠদান হবে, পঞ্চগড়ের একটা প্রত্যনত্ম স্কুলের বাংলায় সেই একই পাঠ হবে। কর্মকর্তারা মনিটরিং করবে স্কুলে গিয়ে ওই টিচারের কোনটি পড়ানোর কথা ছিল, সে কোথায় পড়াচ্ছে। একটা মনিটরিংয়ের মাধ্যমে করাপশনকে জিরো করার জন্য এ পদ্ধতি অবলম্বন করেছি।’
ঢাকা জেলার চারটি উপজেলার শিড়্গা কর্মকর্তা এবং শিড়্গকদের সঙ্গে সচিবালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এসব কথা বলেন গণশিড়্গা সচিব। অনুষ্ঠানে নতুন প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনও ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে শিড়্গকদের মা-বাবার ভূমিকায় আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা তাদের ভালোভাবে তৈরি করতে পারলে আগামী বাংলাদেশ ভালোভাবে তৈরি হবে। প্রাথমিকের শিড়্গকদের বদলি নিয়ে হয়রানির বিষয়েও কথা বলেন নতুন গণশিড়্গা প্রতিমন্ত্রী জাকির।
‘আমি লড়্গ্য করেছি আপনাদের বদলি নিয়ে টিও অফিসে ঝুট-ঝামেলা হয়। অনেক দালাল-ফালাল আপনাদের পেছনে লাগানো আছে, আমি এগুলো টলারেট করব না। কোনো শিড়্গা কর্মকর্তা যদি আমার শিড়্গকদের হয়রানি করেন, আমি তাদের মার্সি করব না, কঠোর ব্যবস’া নেওয়া হব।’
গণশিড়্গা সচিব বলেন, ‘আমাদের সার্কুলার আছে যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিড়্গকদের সনত্মানদের প্রাথমিক বিদ্যালয়েই পড়াতে হবে। আমরা সেটা আবারও তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেব। অর্থাৎ আমরা আবার নিশ্চিত করব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিচারদের ছেলেমেয়েরা কিন্ডারগার্টেনে পড়তে পারবে না।’ আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রাথমিকের সব শিড়্গকের সার্ভিসবুক সংক্রানত্ম ডেটাবেইজ তৈরি করা হবে জানিয়ে সচিব আকরাম বলেন, ‘কোন শিড়্গক কত তারিখে পিআরএলে যাবেন সেটা তাকে এক মাস আগে জানিয়ে দিতে হবে এবং পিআরএল শুরম্ন হওয়ার দুই মাসের মধ্যে সমসত্ম আর্থিক সুবিধা নিয়ে যেতে পারে সে ব্যবস’া নিতে হবে।
‘এর ব্যত্যয় হলে সেই শিড়্গা কর্মকর্তার বিরম্নদ্ধে কঠোর ব্যবস’া গ্রহণ করা হবে। শিড়্গক সমাজ যাতে কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হয়।’
প্রাথমিক শিড়্গকদের বেতন বৈষম্য নিয়ে সচিব বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারে যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সেটি নিয়ে কাজ করছি, একটা কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে।
‘আমি ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থসচিব ও জনপ্রশাসন সচিবের সাথে কথা বলেছি। তারা আমার সাথে একমত পোষণ করেছেন যে, বেতন বৈষম্য দূরীভূত হওয়া দরকার এবং আমরা দ্রম্নত কার্যক্রম শুরম্ন করেছি। এটা শেষ করে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপড়্গের কাছে জমা দেব এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ সমস্যা সমাধান হবে।’
সহকারী শিড়্গক এবং প্রধান শিড়্গকদের নিয়োগ নীতিমালা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুমোদন করেছে জানিয়ে সচিব বলেন, এখন তা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে আছে, আজ-কালের মধ্যে পাওয়ার কথা।
‘এটা পাওয়া গেলে সরকারি কর্ম কমিশনে যাদেরকে প্রধান শিড়্গকের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের পিএসসির সুপারিশ নিয়ে দ্রম্নত পদোন্নতির ব্যবস’া করা হবে।’