সব্জি চাষিরা জিম্মি মধ্যসত্বভোগী ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে

নিজস্ব প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড

সীতাকুণ্ডের সব্জি চাষিরা মধ্যসত্বভোগী ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সঠিক দাম না পাওয়ায় সব্জিচাষে তেমন লাভবান হচ্ছেন না। বাজারগুলোতে শীতকালীন সব্জিতে ভরপুর হলেও দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে হওয়ায় ক্রেতা ভোক্তারাও আছে চরম ভোগান্তিতে। এক্ষেত্রে বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের তদারকিও নেই বলে জানান ভুক্তোভোগীরা। সরেজমিনে গত বুধবার সীতাকুণ্ডের শুকলাল হাট, বৃহস্পতিবার দারোগা হাট ও শুক্রবার মহন্তের হাটে গিয়ে দেখা যায় শীতকালীন সব্জিতে বাজার ভরপুর। এসব বাজারে শিম, লাউ, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, মূলা, পালং শাক, লাল শাক, বরবটি, বেগুন অন্যতম। এসব বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে চাষিরা তাদের সব্জির পসরা সাজিয়ে রাখে শহরের ও স’ানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য। বাজার কর্তৃপক্ষ চাষিদের পণ্য মাপার জন্য (টাকার বিনিময়ে) কোন বাজারে ২টি কোনটিতে ৪টি পরিমাপক যন্ত্রের ব্যবস’াও করে রেখেছে। এসব বাজারে ভোর হতে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স’ান থেকে আগত ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের উপসি’তিতে চলে পণ্যের কেনাকাটা। এইসব কেনাকাটায় বিক্রেতা তথা গ্রামীণ কৃষকদের সাথে পাইকারি ক্রেতাদের হরহামেশাই পণ্যের দাম ও ওজন নিয়ে চলে ঝগড়া। অনেক সময় এই ঝগড়া হাতাহাতি থেকে মারা-মারিতেও রূপ নেয়। জায়গা থেকে দরদাম ঠিক করে ব্যবসায়ীদের খাঁচায় ভর্তি করে যে দামে কিনে নেয় সে দাম দেয়না, আবার দাম দিলেও পণ্যের নির্দিষ্ট ওজন থেকে বাদ দেওয়ার প্রবণতা লেগেই আছে। নুনাছড়া থেকে ২মণ শিম নিয়ে মহন্তের হাটে আগত কৃষক আবুল কালাম জানান, কেজি ৪০টাকা দরদাম করে খাঁচায় ভরে আমাকে দিচ্ছে ৩৭টাকা অন্য দিকে মণ প্রতি ৪ কেজি করে নাকি বাদ! সেখানেও ঠকাচ্ছে। চাষিরা বিক্রয়ের স’ান থেকে তাদের পণ্য পাইকারদের খাঁচা পর্যন্ত পৌছে দিতে হয় এবং পৌছে দিলেই সেখানে পণ্যের দাম দেয়া হয়। ভুক্তোভোগী এক চাষি জানান, দরদামে ২৬টাকা করে ছোট বড় ১শ৪০টি লাউ বিক্রি করেছি, যা বাজারে খুচরা কিনতে গেলে প্রতিটির দাম ৫০টাকার কম না, লাউগুলি বেপারির জায়গায় পৌঁছে যখন টাকা গুণে দেখি দাম দিচ্ছে ২৪টাকা করে ১শ ২০টির। এই বেপারিরা প্রত্যেকের সাথে এই প্রতারণার কাজটি করে থাকে। হাটের ইজারাদারও সবসময় তাদের পক্ষে থাকে, তাদের কাজ থেকে মোটা অংকের টাকা হাসিল আদায় করা হয় বলে।স’ানীয় ক্রেতারা জানায়, যে বেপারি আমার সামনে সকাল ৯টায় প্রতিটি দেড় হতে দুই কেজি ওজনের ১৫টি মিষ্টি কুমড়া কৃষকের কাছ থেকে কিনেছে ৩শ টাকায়, তার কাছে সকাল ১১টায় গিয়ে দেখি সে প্রতি কেজি বিক্রি করছে ৩০ টাকা করে, এ ক্ষেত্রে সে দ্বিগুণের চেয়ে বেশি লাভ করছে। এই প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের সল্টগোলা থেকে আগত এক পাইকার ব্যবসায়ী জানান, বলে কয়ে কৃষককে নিদিষ্ট দামের চেয়ে কিছুটা কম দিয়ে মানিয়ে নিই, তাছাড়া আমরা যদি কম দামে না কিনি তা হলে গাড়ি ভাড়া, গাড়ির দালাল, ও ইজারাদারের হাসিল দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারিনা। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাাম জেলার সহকারি পরিচালক হাসানুজ্জামান জানান, এটা একটা জাতীয় সমস্যা ভোক্তা যে টাকায় পণ্য ভোগ করছে সে টাকা প্রান্তিক কৃষকের কাছে যাচ্ছে না। ভোক্তা ও কৃষক উভয়ই মধ্য স্বত্বভোগীদের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর কারণ ভাউচার প্রথা চালু না থাকায়। এই সমস্যা থাকবেনা আমাদের ভোক্তা অধিকার থেকে কেন্দ্রীয় দপ্তরে প্রস্তাব করা আছে ভাউচার প্রথা চালু করার, আগামী মার্চ মাসে একটি সিদ্ধান্তে আসবে বলে আশা করা যায়।