সবুজ মাঠ পুকুর আর্কষণীয় ব্যক্তিত্বের শিক্ষক দেখে স্কুলের প্রেমে পড়ে যাই

ড. শামসুল হোসাইন, ইতিহাসবিদ, গবেষক ও সদস্য সচিব, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ
ড. শামসুল হোসাইন, ইতিহাসবিদ, গবেষক ও সদস্য সচিব, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ

শৈশবে আমি কোনোভাবেই বুঝতে পারতাম না যে, কেন একটা শহরের নাম চট্টগ্রাম হবে। রহমতগঞ্জে বাসা থাকলেও আমি আমার বাবা-মা’র সাথে না থেকে দাদার সাথে হালিশহরে থাকতাম। বিড়াল পোষা, কাঠের বন্দুক নিয়ে খেলা, পুকুরে দাপাদাপি আর টো-টো করে বেড়ানো ছিল আমার শৈশব।
১৯৫৬ সালে ভর্র্তি হই চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে। স্কুলের পরিবেশ, সবুজ মাঠ, পুকুর, আর্কষণীয় ব্যক্তিত্বের শিক্ষক দেখে স্কুলের প্রেমে পড়ে যাই। ভর্তির মাস খানেকের মধ্যে একদিন সকল ছাত্রকে অ্যাসেম্বলি কক্ষে ডাকা হয়। সেখানে কানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব জাম্বুরিতে অংশ নেওয়া একজন সদ্য প্রাক্তন ছাত্র বক্তব্য রাখেন। বক্তার উপস্থাপনা, ভাষা, কথা বলার ভঙ্গী, উপমার প্রয়োগ আমাকে আকৃষ্ট করে। পরে জানতে পারলাম, তিনি সকলের প্রিয় ও আদরণীয় এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের একমাত্র নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর স্কাউটিং শুরু করলাম। ১৯৫৮ সালে আগ্রাবাদ মাঠে অনুষ্ঠিত জাম্বুরি ক্যাম্পিং-এ অংশগ্রহণ করি। তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে আসেন। আমি সেকেন্ড ট্রুপের সহকারী পেট্রোল লিডার হিসেবে ক্যাম্প সমাপ্ত করি। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে বৃহস্পতিবার দিনটি ছিল ছাত্রদের জন্য আনন্দের। সেদিন সবাই ক্লাসের বাইরে নানা ধরনের বই পড়ার ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করার সুযোগ পেত। আমি ভালোবাসতাম ডিটেক্টিভ সিরিজ পড়তে। স্কুলের লাইব্রেরি থেকে বই আনার পাশাপাশি আট আনা দিয়েও অনেক বই কিনেছি। স্বপন কুমার সিরিজ, মোহন সিরিজ, বাহরাম পড়তে খুব ভালো লাগতো। প্রায় রাতে শুয়ে একটানা দুইটা বই শেষ করতাম।
শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার পরিপূর্ণ সুযোগ ছিল চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে। কিন্তু আমার দাদাদের স্কুলে চলে আসার কারণে ১৯৫৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল ছেড়ে আসি।
অনুলিখন: শুভ্রজিৎ বড়ুয়া