আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার

সবুজে সাজবে নিচের অংশ

পিলারে চীনের সবুজ সিনথেটিক টার্ফ, ডিভাইডারে ফুলের বাগান, থাকবে ওয়াকওয়ে ও বসার ব্যবস'া, বাকি জায়গায় পেইড পার্কিং

ভূঁইয়া নজরুল

চীন থেকে আনা সবুজ সিনথেটিক টার্ফে সজ্জিত হচ্ছে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নিচের অংশ। ফ্লাইওভারের সবগুলো পিলারেই বসছে সবুজ এই টার্ফ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেনো সবুজ ঘাস। কিন’ বাস্তবে প্লাস্টিকের সিনথেটিক টার্ফ। পিলারে সিনথেটিক টার্ফ থাকলেও ফ্লাইওভারের নিচের ডিভাইডারে বসবে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ এবং থাকবে ওয়াকওয়ে। আর সেই ওয়াকওয়ের পাশে থাকবে বসার ব্যবস’াও। প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নান্দনিক হচ্ছে সড়ক ডিভাইডারের আইল্যান্ড।
নগরীর দামপাড়া এলাকার দুটি পিলারে ইতিমধ্যে সিনথেটিক টার্ফ বসানো হয়েছে। একইসাথে দুটি
পিলারের মধ্যবর্তী স’ানে ওয়াকওয়ের জন্য ডিজাইনও করা হয়েছে। ব্যস্ততম সড়কের মধ্যখানে এ ধরনের সবুজায়ন সড়কের চেহারা বদলে দিচ্ছে।
নতুন এই পরিকল্পনা সম্পর্কে কথা হয় ফ্লাইওভার নির্মাণকারী সংস’া চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নির্বাহি প্রকৌশলী ও প্রকল্পটির পরিচালক মাহফুজ রহমানের সাথে। তিনি বলেন, ‘পুরো ফ্লাইওভারের নিচের অংশের সব জায়গায় এ ধরনের সবুজায়নের আওতায় আনা হচ্ছে। আগামী দুই মাসের মধ্যেই এসব কাজ শেষ হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফ্লাইওভারের সবগুলো পিলারে এ ধরনের সবুজ সিনথেটিক টার্ফ বসবে। দূর থেকে এসব টার্ফগুলো দেখতে গাছের মতো মনে হবে।
তিনি বলেন, নিচে সত্যিকারের ফুলগাছ লাগানো হবে। বাগানের আদলে গড়া হবে, সেই বাগানের মধ্য দিয়ে ওয়াকওয়েও রাখা হচ্ছে। হাঁটতে হাঁটতে কারো যদি বাগানের পাশে বসতে ইচ্ছে হয় তাদের জন্য সেই ব্যবস’াও রাখা হয়েছে।
সিডিএ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, যে কেউ ইচ্ছে করলে রোড ডিভাইডারের যেকোনো স’ান দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। পুরো ডিভাইডারটি লোহার সীমানা বেষ্টনি দিয়ে ঘেরাও থাকবে।
কাজটির স’ায়িত্ব ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে প্রকল্পটির পরিচালক প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘এটি পরিচালনার জন্য আমরা পৃথক প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেবো। আমাদের (সিডিএ) তত্ত্বাবধানে তা রক্ষা করা হবে।’
খালি স’ানে কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেসব স’ান গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, এসব স’ানে গাড়ি পার্ক করলে নির্ধারিত পরিমাণ ফি পরিশোধ করতে হবে। এটি পরিচালনার জন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সিডিএ প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা খরচ করে মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার নির্মাণ করছে। এই আওতায় ষোলশহর দুই নম্বর গেইটে একটি লুপ ও জিইসি মোড়ে র্যাম হচ্ছে। আগামী জুনের মধ্যে এই ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।