পরিকল্পিত নগরী

সবুজায়নের বিধান মানছে না কেউ

সম্পাদকীয়

পরিবেশবিদগণ বলেন, একটি ভূখণ্ডের অন্তত ২৫ শতাংশ জায়গায় সংরক্ষিত বনভূমি থাকা দরকার। কিন’ বাংলাদেশে তার অর্ধেকও নেই। যা আছে তাও দিনদিন কমে যাচ্ছে। নির্বিচারে বনাঞ্চল দখল, দূষণ ও গাছ কাটার কারণে বনাঞ্চলের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। অনেকে অবৈধভাবে দখল করে বসতি গড়ে তুলছে।
এরমধ্যে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার প্রচুর বনাঞ্চল উজাড় করা হয়েছে। এর বাইরে সরকারের নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্যও সংরক্ষিত বনের জায়গা ছেড়ে দিতে হচ্ছে।
অন্যদিকে আমাদের দেশের শহর বা নগরগুলো সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠায় বড় বড় শহর নগরে এখন খালি জায়গা নেই বললেই চলে। এই চট্টগ্রাম শহরেই যেখানে ত্রিশ/চল্লিশ বছর আগে কয়েক হাজার পুকুর-দীঘি বা জলাশয় ছিল তার অধিকাংশই বিলীন হয়ে গেছে। নগরীতে এমনিতেই খোলা জায়গার পরিমাণ বেশি নয় তার ওপর পাহাড় কেটে শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক ভবন ও বসতি গড়ে তোলায় তাও প্রায় নিঃশেষের পথে। এর ফলে শহরে উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সারা শহরের খালি জায়গা কম থাকায় উপরিস্তর থেকে পানি ভূগর্ভে প্রবেশ করতে না পারায় ভূগর্ভস’ পানির স্তরও দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এমন অবস’া চললে নগর এলাকায় ভূগর্ভস’ পানির আধারও আর থাকবে না।
ছোট দেশ অথচ অধিক জনসংখ্যার কারণে পরিসি’তি সামাল দেওয়াও কিছুটা কঠিন তা স্বীকার করতে হবে। তবে এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে সরকার নানামুখি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এরমধ্যে ছাদবাগান ও প্রত্যেকটা বাড়িতে সবুজায়ন রাখা। সে হিসেবে সরকার প্রতিটি প্লটে ৫০ শতাংশ জায়গা খালি রেখে বাড়ির নকশা অনুমোদনের আইন করেছে। সে আইন অনুযায়ী খালি রাখা ৫০ ভাগের অর্ধেক খালি রাখা বাকি অর্ধেকে সবুজায়নের কথা বলা হয়েছে।
কিন’ বাস্তবে আমরা কী দেখছি। চট্টগ্রাম শহরে হাতে গোনা কয়েকটি বাড়ি ছাড়া আর কেউ সে আইন মানেনি এবং এখনো তা মানছে না। এ বিষয়ে নগরীতে ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও তদারককারী সংস’া চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এর প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ স্বীকার করে বলেন, মূলত নগরীতে সবুজায়নের পরিমাণ বাড়ানো এবং ভূ-গর্ভস’ পানি রিজার্ভের উদ্দেশে নগরীতে গড়ে উঠতে যাওয়া ভবনের জন্য এই আইন করা হয়েছিল। কিন’ এটা কেউ মানছে না।
নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে প্রকৌশলী বলেন, যেখানে নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা যায় না সেখানে সবুজায়ন না রাখার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা কঠিন।
পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার দায়িত্ব যে প্রতিষ্ঠানের সে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিই যদি এমন অপারগতার কথা বলেন তাহলে এই অনিয়ম ঠেকাবে কে? জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে পরিবেশ যে দিনদিন বিপজ্জনক হয়ে উঠছে তা প্রতিরোধে এখন থেকেই ব্যবস’া না নিলে সামনে আমাদের জন্য ভয়ংকর পরিণাম অপেক্ষা করছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কাজেই সিডিএকে গাছাড়া ভাব পরিহার করে আইন প্রয়োগে কঠোর হতে হবে এবং জনগণকে সচেতন করতে উদ্যোগ নিতে হবে।