সবজির দাম কমেছে নামেই

মুহাম্মদ সাইফুলস্নাহ

বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ শুরম্ন হয়েছে মাসখানেক আগেই। বিক্রেতারা সেই তখন থেকে ক্রেতাদের প্রবোধ দিয়ে আসছেন সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে। নগরীর বাজারগুলো এখন সেই কাঙিড়্গত শীতকালীন সবজির সমারোহে ভরে উঠলেও দাম কমেছে নামমাত্রই। বেশিরভাগ সবজির দাম এখনও ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে।
গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে কেবল শিম ও ফুলকপির দাম মোটা দাগে যথাক্রমে ৪০ ও ৩০ টাকা কমলেও বাকি সবজির দামে এখনও ‘যেই লাউ সেই কদু’ অবস’া! তাই বিক্রেতাদের দাবি মতে সবজির দাম কমলেও ক্রেতারা তাতে সন’ষ্ট হতে পারছেন না। এদিকে গত সপ্তাহে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া আদার ঝাঁজ এ সপ্তাহে কিছুটা কমেছে। দাম সি’তিশীল রয়েছে চাল-ডাল-তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য-সামগ্রী এবং মুরগি ও মাংসের দাম। ডিমের দাম আগের মতোই বাড়তি।
গতকাল প্রতিকেজি ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৪৫-৫০ টাকা, শিম ৫০-৬০ টাকা, মুলা ৩৫-৪৫ টাকা, বড় বেগুন ৫৫-৬০ টাকা, ছোট বেগুন ৭০ টাকা, তিত করলা ৬০ টাকা, কাকরোল ৬০-৭০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, ঢ়েড়স ও কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ঝিঙ্গা ৬০-৭০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা, নতুন দেশি আলু ও টমেটো ৯০ টাকা, পুরনো দেশি আলু ৪৫-৫০ টাকা, দেশি লাউ ৩৫ টাকা, কাঁচা মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, পাকা মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা, উচ্ছে ৭০ টাকা, ধুন্দল ৫৫ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা। এছাড়া গতকাল মাঝারি আকারের এক আঁটি মিষ্টিকুমড়া শাক বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা, পাট শাক ৩০-৩৫ টাকা, লাল শাক ২৫-৩০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা, পালং শাক ১৫-২০ টাকা এবং জোড়া আঁটি কলমি শাক ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বহদ্দারহাট বাজার ঘুরে উপরের দামগুলো সংগ্রহ করা হলেও নগরীর অন্যান্য বাজারে
পণ্যভেদে এ দাম ৫-১০ টাকা আরও বেশি হতে দেখা গেছে।
মোহাম্মদ আলী নামের বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারের এক সবজি বিক্রেতা সুপ্রভাতকে বলেন, ‘বাজারে শীতকালীন সবজি পুরো দমে আসতে শুরম্ন করেছে। দামও কমছে ধীরে ধীরে। অন্যরা কি দামে বিক্রি করছে আমি জানি না, গত সপ্তাহের তুলনায় আমার কাছে প্রায় সবধরনের সবজি ৫-১০ টাকা কম দামে পাচ্ছেন ক্রেতারা।’
এদিকে সমুদ্রে মাছ ধরার উপর মৎস্য অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর বাজারে এসেছে কিছু ইলিশসহ কয়েক পদের সামুদ্রিক মাছের যোগান। কিন’ বাড়তি দামের কারণে সেসবের ধারে-কাছে যেন ঘেঁষতে পারছেন না ক্রেতারা। গতকাল বাজারে আকারভেদে রম্নই মাছ বিক্রি হয়েছে ২৪০-৩৮০ টাকা, কাতলা ৩০০-৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৪৮০-৬৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৬০ টাকা, পাঙ্গাস ১৫০-১৭০ টাকা, মলা মাছ ১৫০-১৮০ টাকা, বাইলা মাছ ৪০০-৫৫০ টাকা, লইট্টা ১২০-১৫০ টাকা, কই ৩৫০-৪০০ টাকা, কেঁচকি ২০০ টাকা, বাটা মাছ ৪৮০-৫২০ টাকা, কোরাল ৪৫০-৫৫০ টাকা, ইলিশ ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা, কালো রূপচাঁদা ৫০০-৫৫০ টাকা এবং সাদা রূপচাঁদা ৯০০-১০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
গত সপ্তাহ-চারেকের মতো এ সপ্তাহেও সি’তিশীল রয়েছে মুরগি ও গরম্ন-ছাগলের মাংসের দাম। গতকাল প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা, পাকিসত্মানি লাল মুরগি (সোনালি) ২১০-২২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া গতকাল বাজারে হাড়সহ গরম্নর মাংস ৫০০-৫৫০ টাকা, হাড়ছাড়া গরম্নর মাংস ৬০০-৬৫০ ও ছাগলের মাংস ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এদিকে গত সপ্তাহে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া আদার দাম ১৮০ টাকা থেকে কমে গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা। মাঝারি আকারের অপেড়্গাকৃত ভালো মানের ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা, কম মানের বড় আকারের ভারতীয় পেঁয়াজ ২৮ টাকা ও কিং জাতের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৫ টাকা। গতকাল বাজারে প্রতিকেজি রসুন বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা, ভোজ্য তেলের মধ্যে কোম্পানি ভেদে প্যাকেট ও বোতলজাত ভোজ্য তেল লিটার প্রতি ১০২-১০৮ টাকা, খোলা ভোজ্য তেল ৭৫-৮৫ টাকা এবং পাম অয়েল প্রতি লিটার ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খুচরা বাজারে চালের মধ্যে মোটা মানের চাল ৪০-৪৪ টাকা, মাঝারি মানের চাল ৪৫-৫৫ টাকা এবং সরম্ন চাল ৬৫-৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। আগের সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও পাইকারিতে ডজনভেদে ব্রয়লার মুরগির ডিম বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়। দেশি মুরগির ডিমের দাম ডজনে ১২০ টাকারও বেশি।