সন্দ্বীপের ছেলে আকায়েদ

ইলিয়াস কামাল বাবু, সন্দ্বীপ

নিউ ইয়র্কে বাস টার্মিনালে ‘আত্মঘাতী হামলা’র চেষ্টাকারী আকায়েদ উল্লাহ (২৭)’র গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপের মুছাপুর গ্রামে। স্থানীয় পণ্ডিতের হাটের পাশে হায়াত মাহমুদের বাড়িতে তার পূর্ব পুরুষের বসবাস। তবে তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সন্দ্বীপ থাকে না।
জানা গেছে, সাত বছর আগে আকায়েদ নিউ ইয়র্কে পাড়ি জমান। ডিভি-১ লটারির মাধ্যমে নিউইয়র্কে বসবাসকারী তার মামা রেজাউল করিম সগিরের স্পন্সরে প্রথমে আকায়েদের বড় ভাই এবং ২০১১ সালের প্রথম দিকে আকায়েদসহ তার মা-বাবা, ছোট দু’বোন এক ভাই মিলে মোট ৬ জন ভিসা নিয়ে একসাথে নিউ ইয়র্কে যান। এ সময় আকায়েদ ঢাকা সিটি কলেজে একটি বিষয়ে সম্মানের ২য় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবার ঢাকার হাজারিবাগের জিগাতলায় একটি বাসায় বসবাস করতেন। হাজারিবাগের ট্যানারিপট্টিতে তাদের একটি মুদি দোকান ছিল।
আকায়েদের গ্রামের বাড়ি সন্দ্বীপে গিয়ে জানা গেছে, প্রায় ২৬/২৭ বছর আগে তাদের পুরো পরিবার সন্দ্বীপ থেকে ঢাকায় চলে যায়। স্বাধীনতার আগে তার বাবা হাজারিবাগের একটি চামড়া কারখানায় চাকুরি করতেন। স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হলে তার পিতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি তখন তার স্ত্রী ও দু’ছেলেসহ পুনরায় ঢাকার হাজারিবাগ চলে যান এবং মুদি দোকানে ব্যবসা চালু করেন। আকায়েদের নানার বাড়ি গাছুয়া’তে। ঢাকা যাওয়ার আগে তার মা বেশির ভাগ সময় তার বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন। নিজ গ্রাম মুছাপুরে জমিজমা থাকলেও তাদের নিজস্ব কোন ঘর নেই।
আকায়েদের প্রতিবেশী পোস্ট মাস্টার কামাল উদ্দীন বলেন, আকায়েদের বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং এ পরিবারটা শান্তিপ্রিয় ও সুশৃঙ্খল হিসেবে চিনি। এ ছেলে কিভাবে এ ঘটনার সাথে জড়িত হল বুঝে উঠতে পারছি না।
পুলিশ বলছে, আকায়েদ নিউইয়র্কে ট্যাক্সি চালাত। তার বড় ভাই নিউইয়র্কে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন। দু’বছর আগে বাবা মারা যান। এ ছাড়া তার মা ও দু’বোনও বর্তমানে নিউইয়র্কে বসবাস করছে। ব্রুকলিনের এভিনিউ এনও ফর্টি এইটথ স্ট্রিটে ১৬৮৯ নম্বর বাসায় থাকছিলেন আকায়েদ। ২০১২-২০১৫ মার্চ পর্যন্ত মেয়াদে ট্যাক্সি ও লিমোজিন (টিএলসি) চালাবার লাইসেন্স পেয়েছিল সে।
জানা গেছে, সদ্য জন্ম নেয়া বাচ্চাকে দেখতে এ বছরের ৮ সেপ্টেম্বর আকায়েদ শেষ বারের মতো বাংলাদেশে এসেছিলেন। চাঁদপুরের তার এক বন্ধুর বোনকে বিয়ে করেন তিনি। বর্তমানে তার স্ত্রী ঢাকার হাজারিবাগে বসবাস করছেন।
সন্দ্বীপ মুছাপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আবু তাহের জানান, গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে আসার পর সে একদিনের জন্য সন্দ্বীপের গাছুয়ায় গিয়ে তার নানীকে দেখে এসেছিল।
মুছাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের নাদিম জানান, এ পরিবারের সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই। তারা দীর্ঘদিন ধরে সন্দ্বীপ থাকে না।
এদিকে ঘটনার তদন্তে মঙ্গলবার সকালে সন্দ্বীপ যান চট্টগ্রাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজা। তিনি জানান, আকায়েদ কিংবা তার পরিবারের কারো বিরুদ্ধে থানায় কোন অভিযোগ নেই। বিভিন্ন তথ্য জানার জন্য পুলিশ আকায়েদের খালু গাছুয়ার তুচান কোম্পানি ও তার চাচাতো ভাই সোহরাবকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।