সওজের ছয় লেন প্রকল্প যাচ্ছে বন্দরের নিয়ন্ত্রণে!

ভূঁইয়া নজরুল

আশির দশকে বঙ্গবন্ধু সেতু প্রকল্পের উদ্বৃত্ত টাকা দিয়ে নির্মাণ হওয়া দুই লেনের টোল রোডটি উন্নীত হচ্ছে ছয় লেনে। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পের বাসত্মবায়নে দাতা সংস’ার খোঁজে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। তবে বাসত্মবায়নের আগেই তা প্রকল্পসহ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপড়্গের পরিচালনায় দেয়ার সিদ্ধানত্ম হয়ে গেছে। আর সেই সিদ্ধানেত্মর আলোকে তা হসত্মানত্মরের জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগেও চিঠিও দেয়া হয়েছে।
দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যে ৯২ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। বন্দর থেকে সারাদেশে পণ্য পরিবহনের জন্য সাগরের পাড় দিয়ে ফৌজদারহাট থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি পর্যনত্ম নির্মিত হয় টোল রোড বা পোর্ট এক্সেস রোডটি। বন্দরমুখী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি ও প্রাইম মুভারগুলোকে টোল দিয়ে যাতায়াত করতে হয় এই রোড দিয়ে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ১৪ কিলোমিটার সড়কটি শুধুমাত্র বন্দরের জন্য ব্যবহৃত হওয়ার কথা রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় নির্মিত হওয়া রোডটি এখনো পর্যনত্ম তাদের অধীনে রয়েছে। ইতিমধ্যে এই রোডটিকে ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরম্ন করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এবিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহি প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ বলেন, ‘পোর্ট এক্সেস রোডটি ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ আগামী জুলাই থেকে শুরম্ন হবে। ইতিমধ্যে সার্ভের কাজ শেষে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের কাজও শেষ।’
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এটিকে ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প নেয়ার পর এখন তা বন্দরের আওতায় নেয়ার যৌক্তিকতা কি জানতে চাইলে সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপড়্গের চেয়ারম্যান (বর্তমানে দেশের বাইরে অবস’ানরত) কমডোর জুলফিকার আজিজ বলেন, আমরা সাগর পাড়ে বে টার্মিনালের জায়গায় কনটেইনার ডেলিভারি কার্যক্রম শুরম্ন করতে চাই। আর তা করতে গেলে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে পণ্যগুলোকে বে টার্মিনালে নিয়ে যেতে হবে। সেজন্য এই রোডটি আমরা বন্ডেডের আওতায় নিয়ে আসার জন্য চিঠি দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, তা বাসত্মবায়ন করা গেলে শহরের ভেতরে আর প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার ট্রাক প্রবেশ করবে না এবং যানজটের কবল থেকে নগরবাসী মুক্তি পাবে।
অপর এক সূত্রে জানা যায়, প্রসত্মাবিত ছয় লেনের প্রকল্পসহ রোডের জায়গা বন্দর কর্তৃপড়্গকে হসত্মানত্মরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসডিজি (সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল) কর্মসূচির এক বৈঠকে তা সিদ্ধানত্ম হয়েছে। সেই সিদ্ধানেত্মর আলোকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আবদুস সাত্তার স্বাড়্গরিত এক চিঠিতে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব বরাবরে দেয়া হয়েছে।
তবে এই রোডটিকে বন্ডেড করা হলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপড়্গের (সিডিএ) নির্মাণাধীন আউটার রিং রোড বাধাগ্রসত্ম হতে পারে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহি প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দড়্গিণ কাট্টলী রাসমনি ঘাট এলাকায় পোর্ট এক্সেস রোডের সাথে আউটার রিং রোড যুক্ত হয়েছে। এখন পোর্ট এক্সেস রোডটি বন্ডেড হলে রিং রোডে গাড়ি চলাচলের কি হবে?
একই আশঙ্কা করেন আউটার রিং রোডের প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএ’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস। তিনি বলেন, ‘রিং রোড থেকে পোর্ট এক্সেস রোডের উপর দিয়ে সাগরিকা এলাকায় গাড়ি চলাচলের সুযোগ যেমন রাখা হয়েছে তেমনিভাবে পোর্ট এক্সেস রোডটিও ব্যবহার করা হয়েছে। এখন তা বন্ডেড করা হলে ডিজাইনগত সমন্বয় করা প্রয়োজন হবে।’
এবিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপড়্গের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, যদি সাগরিকা পয়েন্টে সমস্যা হয় তাহলে সেই পয়েন্টের পর থেকে আমরা টোল বসিয়ে তা বন্ডেড করে দিতে পারি।
উলেস্নখ্য, পতেঙ্গা ইপিজেড থেকে দড়্গিণ কাট্টলী রাসমনি ঘাট পর্যনত্ম সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় সাগর পাড়ে বে টার্মিনাল প্রকল্প বাসত্মবায়ন করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপড়্গ। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে ৬৮ একর ভূমি বরাদ্দও পেয়ে গেছে। তাই দ্রম্নত এর কার্যক্রম শুরম্ন করতে চায় বন্দর কর্তৃপড়্গ।