দিয়াজ হত্যা মামলার আসামিদের

সংবাদ সম্মেলন

চবি সংবাদদাতা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যা মামলার আসামিরা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে হয়রানি না করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে দিয়াজের মৃত্যুর সঠিক কারণ বের করার দাবি জানান তারা।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাখা ছাত্রলীগের সদ্য স’গিত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু। এসময় তিনি মেয়র আজম নাছির উদ্দীনের অনুসারীদের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার জন্যই এই মামলা করা হয়েছে দাবি করে বলেন, অতীতে যারা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে আদর্শ হিসেবে বেছে নিয়ে রাজনীতি করেছেন তাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ তথা জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রেখে চলেছেন। এ অগ্রযাত্রাকে মেনে নিতে না পেরে আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীদের মনোবল ভেঙ্গে দিতে এ মামলা দায়ের করেছেন ষড়যন্ত্রকারীরা।
তদন্তের এক বছর পার হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত অভিযোগের বিন্দুমাত্র সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিয়াজের মৃত্যুর পর প্রথম ময়নাতদন্তের উপর ভিত্তি করে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ এটি আত্মহত্যা উল্লেখ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন আদালতে। আদালত এ অপমৃত্যু মামলাটি
অধিকতর তদন্তের নির্দশে দেন। অর্থাৎ এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা বিষয়টি স্পষ্ট সুরাহা হয়নি। দিয়াজের মৃত্যুর এক বছর অতিবাহিত হলেও আসামিদের কারো বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোন অভিযোগের বিন্দুমাত্র সত্যতা পায়নি পুলিশ।
দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত পরস্পর সাংঘর্ষিক। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হল, প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, সাবেক ছাত্ররীগ নেতা আবুল মনসুর জামসেদ ও সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপুসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, দিয়াজের মৃত্যুকে পুঁজি করে আইনজীবীদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে নোংরা ও অনৈতিক সুবিধা আদায়কারী জোবাইদা সরওয়ার নিপাকে আইনজীবী সমিতি থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
তৃতীয়ত, এ মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার কিংবা হয়রানি বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নিতে হবে। অন্যথায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও দিয়াজের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘটসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হলে তৃতীয় ময়নাতদন্তের আবেদন কেন করছেন না ? সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে আালমগীর টিপু বলেন, তৃতীয় ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া চলছে।
এসময় উপসি’ত ছিলেন ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ সভাপতি ও মামলার আসামি মনসুর আহমেদ, আব্দুল মালেক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু তোরাব পরশ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরমান, প্রচার সম্পাদক রাশেদুল আলম জিসান ও আপ্যায়ন সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান। এছাড়াও চবি ছাত্রলীগের সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রায়হান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ অভি, নুরুনব্বী প্রিন্স, ইকবাল হোসাইন টিপু, ইমামউদ্দিন ফয়সাল পারভেজ ইফতেখার উদ্দিনসহ অন্য নেতৃবৃন্দ উপসি’ত ছিলেন।