সংবাদ সম্মেলনে দাবি পরিবারের গণপিটুনিতে নয়, সোহেল পরিকল্পিত হত্যার শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

গণপিটুনিতে নয়, ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন সোহেলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি তার ছোটভাই শাকিরম্নল ইসলাম শিশিরের। সোহেলের শরীরে ধারালো অস্ত্রের ২৬টি আঘাত রয়েছে বলে উলেস্নখ করে শাকিরম্নল বলেন, ‘সাংবাদিকদের মনে এ প্রশ্নের উদ্রেক হলো না যে গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তির শরীরে ধারালো অস্ত্রের ২৬টি আঘাত কেন? গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তার পরিবারের সদস্যরা এবং রাজনৈতিক সতীর্থরা। মহিউদ্দিন সোহেলকে গণমাধ্যমে ‘চাঁদাবাজ’ উলেস্নখ করায় প্রতিবাদ জানিয়ে শিশির হাতজোড় করে বলেন, ‘আমার ভাই চাঁদাবাজ না। তিনি পরিকল্পিত হত্যার শিকার। তার বিরম্নদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির কোনো মামলা নেই। জিডিও নেই। তিনি রেলওয়ের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। রেলের কোয়ার্টারটিও তিনি অবৈধভাবে দখল করেননি। এটি কর্তৃপড়্গের কাছ থেকে ইজারা নেয়া।’সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন সোহেলের স্ত্রী, সনত্মান, বোন, বাবা ও মা।
শিশির বলেন, ‘আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা, সোহেল ভাই আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি সরকারি কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক। তিনি একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটিরও নেতা ছিলেন।’
পাহাড়তলী বাজার এলাকা মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে কাজ শুরম্ন করার কারণে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে শিশির বলেন, ‘সোহেল কখনও কারও কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেননি। অভিযোগ করা হয়েছে, পণ্যবাহী প্রতি ট্রাক থেকে ৫০ টাকার জায়গায় ১০০ টাকা চাঁদা দাবি করেন সোহেল ভাই । প্রশ্ন হলো, তাহলে ট্রাক মালিক-শ্রমিকেরা বিড়্গোভ না করে ব্যবসায়ীরা কেন ভাইয়ের চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গেলেন ? শিশির দাবি করে বলেন, ‘স’ানীয় কাউন্সিলর সাবের সওদাগরের নেতৃত্বে ও সাবেক জামায়াত নেতা, স’ানীয় জাতীয় পার্টির নেতা ওসমান খানের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা অনৈতিক ব্যবসার আখড়া ভেঙে দিয়ে স’ানীয় এলাকাবাসীর জন্য জানাজা ও নামাজের মাঠ করে দিয়েছিলেন সোহেল। এতে স’ানীয় ভূমিদস্যু, মাদক ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়েন আমার ভাই।’
সাংবাদিকদের কাছে হাতজোড় করে শিশির বলেন, ‘দয়া করে আপনারা আমার ভাইকে চাঁদাবাজ লিখবেন না। তিনি চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী হলে তার নামে থানায় মামলা ও জিডি থাকতো।’
সংবাদ সম্মেলনে সোহেলের বন্ধু সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের দুদিন আগে সোহেল আমাকে তার অফিসে ডেকে নিয়েছিল। তখন সে আমাকে বলে, তার অফিস ও আশপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানোর ব্যবস’া করতে। এত ক্যামেরার দরকার কী জানতে চাইলে সে বলে, তাকে মেরে ফেলার চক্রানত্ম হচ্ছে। কাউন্সিলর সাবের সওদাগর তাকে মেরে ফেলবে। এ কারণে সে সিসি ক্যামেরা বসাতে চায়।’ ঘটনার কিছুদিন আগে ডবলমুরিং থানার দুজন এসআই সোহেলের অফিসে গিয়ে তার প্রাণনাশের চক্রানত্ম হচ্ছে জানিয়ে সতর্ক থাকতে বলেছিলেন, দাবি করেন সাজ্জাদ।
গত ৭ জানুয়ারি সকাল দশটার দিকে সোহেলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ ও স’ানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে ব্যবসায়ী ও জনতার পিটুনিতে সোহেলের মৃত্যু হয়েছে। এসময় পুলিশ ও বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী গণমাধ্যমে দাবি করেন, সোহেল চাঁদাবাজ।
সংবাদ সম্মেলনে উপসি’ত ছিলেন সোহেলের বাবা আবদুল বারেক, মা ফিরোজা বেগম, স্ত্রী নিগার সুলতানা, ১২ বছর বয়সী ছেলে ফাইয়াজ তাজওয়ার মাশরিফ ও ৬ মাসের ছেলে আয়ান তাজওয়ার মাহাদি এবং বোন রাজিয়া সুলতানা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক ফাহিম খান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জসিম উদ্দিন এবং একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির নেতা শওকত বাঙালি, ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ প্রমুখ।