সংবাদ সম্মেলনে ত্রাণমন্ত্রী মায়া ২৫ হাজার রোহিঙ্গার জন্য প্রস্ততি ভাসানচর

সুপ্রভাত ডেস্ক গ্ধ
নোয়াখালীর ভাসানচরে পঁচিশ হাজার রোহিঙ্গাকে স’ানানত্মর করার মত ব্যবস’া হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস’াপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। ঘূর্ণিঝড় তিতলি মোকাবেলার প্রস’তি তুলে ধরতে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ তথ্য দেন। খবর বিডিনিউজ।
এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য ভাসান চরে অবকাঠামো নির্মাণসহ যে আশ্রয়ণ প্রকল্প সরকার বাসত্মবায়ন করছে, গত ৪ অক্টোবর তার উদ্বোধন করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। কিন’ সময় স্বল্পতায় তিনি এখনও ভাসানচরে যাননি।
এ নিয়ে এক প্রশ্নে মায়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যেদিন সময় দেবেন সেদিন ভাসানচরের উদ্বোধন করা হবে, আমরা প্রস’ত, সেখানে ২৫ হাজার রোহিঙ্গাকে নেওয়ার মত সব ধরনের ব্যবস’া নেওয়া হয়েছে।’
গত কয়েক দশক ধরে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও তার বাইরে অবস’ান নেওয়া চার লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নিয়ে সামাজিক নানা সমস্যা সৃষ্টির প্রেড়্গাপটে তাদের নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার কাছে মেঘনার মোহনার বিরান দ্বীপ ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে সরকার। এর মধ্যে অগাস্টের শেষে মিয়ানমারের রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরম্ন হলে আবারও রোহিঙ্গার ঢল নামে। এ দফায় সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমানত্ম পেরিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়ায় ভাসানচরকে দ্রম্নত বসবাসের উপযোগী করার উদ্যোগ নেয় সরকার।
এই প্রেড়্গাপটে গত বছরের শেষ দিকে একনেকে ২৩১২ কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়। এর আওতায় মোটামুটি ১০ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের জন্য ১২০টি গুচ্ছ গ্রামে ১৪৪০টি ব্যারাক হাউজ ও ১২০টি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরম্ন হয়।
হাতিয়া থানাধীন চর ঈশ্বর ইউনিয়নের ভাসান চরে এই আশ্রয়ণ প্রকল্প বাসত্মবায়ন করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নের এ প্রকল্পের কাজ ২০১৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার লড়্গ্য নির্ধারিত আছে।
সেখানে অল্প সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করে দেওয়ায় নৌবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান ত্রাণমন্ত্রী।
ভাসন চরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ‘অস’ায়ীভাবে’ রাখা হবে জানিয়ে মায়া বলেন, ‘তারা মিয়ানমারের নাগরিক। ওই দেশের নাগরিক হিসেবে সম্মানের সাথে দেশে ফিরে যাবে, এটাই আমরা চাই।’
তিনি বলেন, ‘যখন রোহিঙ্গারা আসে তখন ছিল হাড্ডিসার, কাপড় ছিল না, চেহরা ছিল না, বস্ত্র নাই, কিছু নাই। ওদের দেখলে, এখন যদি যান দেখেন কি অবস’া, হৃষ্টপুষ্ট আছে।‘
ভাসান চরের পুরো প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে এ প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য থাকার ঘর করা হয়েছে, সাইক্লোন শেল্টার করা হয়েছে, মালামাল রাখার গোডাউন রয়েছে, বাঁধ নির্মাণ এবং সমুদ্র থেকে মালামাল নামাতে জেটি করা হয়েছে।
জনমানবহীন চরটি আগে মূলত গরম্ন-মহিষের চারণভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হত। ২০১৩ সালে এ চরকে সংরড়্গিত বনাঞ্চল এলাকা ঘোষণা করা হয়। ইঞ্জিনচালিত নৌযান ছাড়া সেখানে যাতায়াতের সুযোগ নেই। হাতিয়া থেকে যেতেও তিন থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে।