প্রেস ক্লাবের গুণিজন ও কৃতী সাংবাদিক সংবর্ধনা

‘সংবর্ধিতরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্র’

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেছেন, কেউ গুণিজন হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন না, নিজের কাজের মধ্যদিয়েই গুণিজনের সম্মান অর্জন করেন। আজকে তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছেন আটজন সংবর্ধিত ব্যক্তিত্ব যাঁরা প্রত্যেকেই স্ব স্ব অবস’ানে উজ্জ্বল নক্ষত্র। শিক্ষায়, মানবসেবায়, সমাজ উন্নয়ন কিংবা সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁরা সম্মানিত হয়েছেন।

গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব হলে গুণিজন ও কৃতী সাংবাদিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে গুণিজন হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা- গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান, শিক্ষাবিদ ও সংগীতজ্ঞ প্রফেসর হাসিনা জাকারিয়া বেলা ও লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল জেলা-৩১৫ বি-৪ এর প্রথম ভাইস গভর্নর লায়ন কামরুন মালেক এবং কৃতী সাংবাদিক হিসেবে দৈনিক জনকণ্ঠের উপসম্পাদক মোয়াজ্জেমুল হক, দৈনিক পূর্বকোণের সহকারী সম্পাদক কবি স্বপন দত্ত, দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক কথাসাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, দৈনিক অবজারভার চট্টগ্রাম ব্যুরোর চিফ করেসপন্ডেন্ট নুরুল আমিন ও দৈনিক আজাদীর বার্তা সম্পাদক এ কে এম জহুরুল ইসলামকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশের সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত গুণিজন ও কৃতী সাংবাদিকরা সংবর্ধনার জবাবে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল ও বিএফইউজের সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিতদের জীবনী পাঠ করে শোনান চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, অর্থ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, ক্রীড়া সম্পাদক নজরুল ইসলাম, লাইব্রেরি সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক রোকসারুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী ও কার্যকরী সদস্য ম. শামসুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রফেসর অনুপম সেন আরও বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতির জীবনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে স্বাধীনতার মাটি তৈরির কাজটি করে গেছে সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকেরা। একাত্তর পরবর্তী সময়েও জাতি গঠনে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে সংবাদপত্র। আর সাংবাদিকেরা এর নেপথ্যের কারিগর। এর ধারাবাহিকতায় সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব দেশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে যাওয়া গুণিজন ও কৃতী সাংবাদিকদের সংবর্ধনা দিয়ে যাচ্ছে, এটি এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
অনুষ্ঠানে দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, চট্টগ্রামে যুগে যুগে অনেক গুণী ও কৃতী ব্যক্তি জন্ম নিয়েছেন। তারা দেশের গর্ব। চট্টগ্রামের গুণিজন ও কৃতী সাংবাদিকদের সংবর্ধনা প্রদান করে প্রেস ক্লাব নিজেই সম্মানিত হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার বলেন, সংবর্ধিত পাঁচ সাংবাদিক ও তিন গুণিজন তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের সম্মাননা দিতে পেরে আমরা গর্বিত। তাঁদের প্রজ্ঞা-আলোয় আমাদের সমাজ পরিমণ্ডল আরও আলোকিত হবে- এই প্রত্যাশা রাখি।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত গুণিজন ও সাংবাদিকেরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অনন্য এ আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা থাকবে এ আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপসি’ত ছিলেন উপসি’ত ছিলেন প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি কাজী আবুল মনসুর, সহসভাপতি মনজুর কাদের মনজু, কার্যকরী সদস্য হেলাল উদ্দিন চৌধুরী এবং শহীদ উল আলম।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত গুণিজন ও কৃতী সাংবাদিকদের ক্রেস্ট ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি