ওয়াসার মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্প

শেষ হয়েও হলো না শেষ!

ভূঁইয়া নজরুল

শেষ হয়েও শেষ হচ্ছে না চট্টগ্রাম ওয়াসার মদুনাঘাট প্রকল্প। তিন মাস আগে প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও লিকেজ ও পাইপলাইন ফিটিং সমস্যার কারণে পানির প্রেসার বাড়ানো যাচ্ছে না। একটি পরিপূর্ণ পাইপলাইনে পানির প্রেসার টেস্টে ১২ বার (বার হলো পানির চাপের একক, ১ বার=১৪ পিএসআই, পিএসআই অর্থ হলো- পাউন্ড পার স্কয়ার ইঞ্চি, এক পাউন্ড ওজন এক বর্গ ইঞ্চি জায়গার উপর যে পরিমাণ প্রেসার দেয় তাকে এক পিএসআই বলে) থাকার কথা থাকলেও এই লাইনে পাওয়া যাচ্ছে ৪ থেকে ৫ বার। আর এতেই বিলম্বিত হচ্ছে পানি সরবরাহ। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নের এ প্রকল্পটি চালু হতে দেরি হওয়ায় নগরীর বাকলিয়া-চান্দগাঁও এবং বন্দর-পতেঙ্গা এলাকায় নিরসন হচ্ছে না পানীয় জলের সমস্যা।
প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও গত জুনে প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস’াপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ। সেলক্ষ্যে জুলাইতে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর গত ১৩ আগস্ট পরীক্ষামূলকভাবে চালুও করা হয়। কিন্তু চালুর পরপরই কুয়াইশ এলাকায় রাস্তা ফেটে নিচ থেকে পানি বের হয়ে আসে। পরে মাটি খুঁড়ে দেখা যায় সেখানে দুই পাইপের মধ্যবর্তী প্রায় পাঁচ ফুট দীর্ঘ জায়গায় কোনো পাইপ বসানো হয়নি। এছাড়া বিভিন্ন স’ানে দুই পাইপের সংযোগস’লে লিকেজ শনাক্ত হয়। গত আগস্ট থেকে সেই লিকেজ সমস্যার সমাধান করতে ব্যস্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। লিকেজ সমস্যা সমাধান হলেও এখনো পাইপে পানির প্রেসার (চাপ) বাড়ছে না। সেই চাপ বাড়াতে ব্যস্ত ওয়াসা। গতকাল দুপুরে ওয়াসার কালুরঘাট বুস্টারের বিপরীত পাশের রাস্তায় দেখা যায়, পাইপ লাইনে পানি দিয়ে প্রেসার মাপার কাজ চলছে।
কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মদুনাঘাট থেকে কালুরঘাট বুস্টার পর্যন্ত এখন আর কোথাও লিকেজ নেই। তবে লিকেজ না থাকলেও পানির চাপ বাড়ছে না। এজন্য পাইপের জয়েন্টে জয়েন্টে টেস্ট করা হচ্ছে।
একটি পানির পাইপে কি পরিমাণ প্রেসার থাকা প্রয়োজন জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস’াপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, একটি নতুন পাইপ লাইনে সাধারণত সর্বোচ্চ ১২ বার থাকা প্রয়োজন। কিন’ এই লাইনে ৬ বার পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। তবে কিছুক্ষণ চলার পর তা আবার দুই বার কমে যায়। এতেই সমস্যা হচ্ছে। আমরা দ্রুত তা সমাধান করতে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি।
কবে নাগাদ তা চালু করা যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আগামী মাসে তা চালু করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। চালু করার পর প্রয়োজনে প্রেসার বাড়ানোর কাজ করা হবে।
তবে পানির চাপ বাড়ানোর বিষয়ে প্রকল্পের পরিচালক ও ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আবছার বলেন, আমরা এখনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে পাইপ লাইনের কাজটি বুঝে নেইনি। চলতি মাসের মধ্যে তা পানি চলাচলের জন্য উপযোগী করে দিতে বলা হয়েছে।
তবে অপর এক সূত্রে জানা যায়, মদুনাঘাট প্রকল্পে দুর্বল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ পাওয়ায় প্রকল্পের শুরু থেকেই সমস্যা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বহদ্দারহাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত রাস্তার একাংশ বন্ধ থাকায় মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে।
উল্লেখ্য, হাটহাজারীর মদুনাঘাটে হালদা নদীর পানি পরিশোধন করে ১৯৯৮ সালে এপ্রকল্পটি থেকে দৈনিক সাড়ে চার কোটি লিটার পানি উৎপাদনের কথা থাকলেও ২০ বছর পরে এসে তা রূপান্তরিত হচ্ছে ৯ কোটি লিটারে। প্রকল্পটি চালু হলে নগরীর পূর্বাংশ (চান্দগাঁও-বাকলিয়া) ও দক্ষিণাংশের (বন্দর-পতেঙ্গা) এলাকার বাসিন্দাদের আর আয়রনযুক্ত পানি পান করতে হবে না। পানযোগ্য পানি পাবে এসব এলাকার বাসিন্দারা। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এক হাজার ৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে চিটাগাং ওয়াটার সাপ্লাই ইমপ্রুভমেন্ট এন্ড স্যানিটেশন প্রকল্পটি। এই প্রকল্পের আওতায় মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নগরীতে পাইপ লাইন স’াপন ও স্যানিটেশন প্রকল্পও রয়েছে।