বিজয়মঞ্চে ইকবাল সোবহান চৌধুরী

শেখ হাসিনা জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন

Untitled-1

মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলার বিজয়মঞ্চের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। তাই বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশিত আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়েছে। শেখ হাসিনা আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্বসভায় বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার সন্ধান দিয়েছেন। সকলের সমবেত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশে পরিণত হবে। তাই আমাদের শক্তি সঞ্চয় করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
গতকাল সন্ধ্যায় বিজয়মঞ্চে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ঐতিহ্য। পঁচাত্তরের পর নতুন প্রজন্মকে এই ভাষণ শুনতে দেওয়া হয়নি। তাদেরকে নানাভাবে বিপথগামী করা হয়েছিল। এই প্রজন্মকে আজ পরিশুদ্ধ করতে বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শনের পাঠগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
মুখ্য আলোচক সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, বাংলাদেশকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে। এতো ষড়যন্ত্রের পরও বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই স্বদেশভূমির অস্তিত্ব রক্ষা করে চলেছেন। তাঁকে উৎখাত করার অনেক অপচেষ্টা চলছে। তারপরও মহান রাব্বুল আ’লামিনের রহমতে তিনি আমাদের মধ্যেই আছেন। তাঁর নেতৃত্বেই এই বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে যারা এদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে এনেছিল তারা ইতিহাসের খলনায়ক। এরপর আমরা একুশটি বছর পরাধীন ছিলাম। ৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে আমাদেরকে পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্ত করেন। মাঝখানে ২০০১ সালে একটি চক্রান্তের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর আমরা দেখেছি, মানবিক বিপর্যয় ও সংখ্যালঘু নির্যাতন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ২০০৮ সালেশেখ হাসিনা আবার ক্ষমতায় এসে এ জাতিকে উজ্জ্বল উদ্ধার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আমার কাছে তথ্য-প্রমাণ আছে, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের প্রশিক্ষণ চলছে। সন্ধ্যায় ক্যাম্প সেখানে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধানে জঙ্গিবাদী তৎপরতা শুরু হয়। তাই এর এখনি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিজয়মেলা পরিষদের কো-চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এম এ মনছুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা ইন্দু নন্দন দত্ত। আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু হানিফ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগ শ্রম সম্পাদক আব্দুল আহাদ, বিজয়মেলা শ্রমিক স্কোয়ার্ড সদস্য সচিব আবুল হোসেন আবু, শ্রমিক স্কোয়ার্ডের মোহাম্মদ হোসেন, আলী আকবর, গাজী জসিম উদ্দিন, আব্দুল হান্নান।
পরে তপন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় উদ্দীপনামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। আগামীকাল মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। সভাপতিত্ব করবেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ। উক্ত স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের সকল মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনৈতিক ও সামাজিকশক্তির জনগণকে উপস্থিত থাকার জন্য বিজয় মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী আহবান জানিয়েছেন। সভার শুরুতে মহানগর জাতীয় শ্রমিক লীগ সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহাবুবুল হক চৌধুরী এটলীর সুস্থতা কামনা করে দোয়া কামনা করা হয়। বিজ্ঞপ্তি