শুল্ক-ভ্যাট আরোপ : সংবাদপত্র শিল্প সংকটে পড়বে

২০১৭-১৮ সালের বাজেটে সংবাদপত্র শিল্পের জন্য সুখবর নেই বরং নিউজপ্রিন্ট আমদানি, ছাপার জন্য প্লেট ও কালিসহ সংবাদপত্রের জন্য আবশ্যকীয় উপকরণে ১৫ শতাংশ ভ্যাটারোপের প্রস্তাবে সংবাদপত্র প্রকাশনা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক আছে, ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ হলে ২০ শতাংশের বেশি খরচ যোগ হবে। ছাপাখানা পর্যায়েও খরচ বেড়ে যাবে ভ্যাট-শুল্ক আরোপের কারণে, এর সাথে আছে সাংবাদিক- কর্মচারীদের বেতন-ভাতা। ই-টেন্ডারিং এর কারণে বিজ্ঞাপনের আকার আয়তনও কমেছে। সরকার নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণার কথা বলছে, এ পর্যায়ে সরকার থেকে সংবাদপত্র শিল্পের জন্য বিহিত ব্যবস্থা করা না হলে বর্ধিত খরচ মেটাতে সংবাদপত্রের অবয়ব কমানো কিংবা ছাঁটাইয়ের মতে অনভিপ্রেত পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে এমন আশংকা সংবাদপত্র প্রকাশনার সাথে সংশ্লিষ্টদের। সংবাদপত্রকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও এই স্তম্ভটি এখন অনেকটাই নড়েবড়ে। সংবাদপত্রকে টিভি – রেডিও অনলাইন প্রভৃতি মাধ্যমের সাথে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হচ্ছে, রিপোর্ট প্রকাশে লিখিত-অলিখিত অনেক শর্তও আছে। সরকার সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করলেও সুযোগ-সুবিধা, ছাড় কিংবা প্রণোদনা সেভাবে নেই। সংবাদপত্র অন্য শিল্পের মতো নয়, জাতি ও সমাজের মননশীলতা, সৃজনীশক্তি গতিশীল রাখতে সংবাদপত্রের ভূমিকা অপরিসীম। উন্নত দেশেও সংবাদপত্র প্রকাশে অনেক সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান, আমাদের দেশে সংবাদপত্র প্রকাশনা যে রূপ ব্যয়বহুল এবং ভ্যাট-শুল্কে পর্যদুস্ত হয়ে পড়ে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই তার তুলনা মেলা ভার। জাতীয় কয়েকটি সংবাদপত্রের কথা বাদ দিলে, রাজধানীর বাইরের আঞ্চলিক এবং মফস্বলের পত্র-পত্রিকাগুলো এমনিতেই নানা সমস্যা সংকটে জর্জরিত, সে পরিস্থিতিতে প্রকাশনার বিভিন্ন উপকরণ আমদানি ও ছাপায় বাড়তি করাঘাত এই শিল্পে জড়িতদের দিশেহারা করে তুলবে। সংবাদপত্র ছাড়াও নানা সাময়িকী, ম্যাগাজিন, পুস্তক প্রকাশ তথা মননশীল প্রকাশনা ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আমাদের দেশে সংবাদপত্র এখনো গণমানুষের আস্থার প্রতীক। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও এর সুফল তুলে ধরার পাশাপাশি সংবাদপত্র সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আদর্শিক সংগ্রামও পরিচালনা করছে, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সাংবাদপত্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে। জনমত গঠন ও গণতন্ত্রের প্রচার, প্রসারে সংবাদপত্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সুতরাং আমরা চাই এর প্রকাশনা ব্যয় সাধ্যের ভেতর রাখতে সরকার সর্বতোভাবে সহযোগিতা করবে, বাড়তি ভ্যাট ও শুল্ক পরিহার করে সংবাদপত্রকে নির্বিঘ্নে ও স্বচ্ছন্দে জনহিতকরী ভূমিকা পালনে সকল প্রকার আর্থিক ও নানা ধরণের চাপমুক্ত রাখতে সরকার পদক্ষেপ নেবে।