ওস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়া স্মরণে

শুরু হলো সদারঙ্গের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক

উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে সর্বজনশ্রদ্ধেয় ওস্তাদ নীরদ বরণ বড়-য়া স্মরণে গতকাল বুধবার থেকে শুরু হয়েছে ‘বিংশতিতম জাতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত সম্মেলন -২০১৭’। তিন দিনব্যাপী এ সঙ্গীত সম্মেলন আয়োজন করেছে সদারঙ্গ উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত পরিষদ, বাংলাদেশ।
সংগঠনটির বিশ বছরপূর্তি উপলক্ষে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সম্মেলনের উদ্বোধন এবং সাংগঠনিক লোগো উন্মোচন করেন উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জগতে কিংবদন্তিতুল্য সঙ্গীতগুরু পণ্ডিত দিলীপ দাশ।
সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপসি’ত ছিলেন- চট্টগ্রামস’ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সোমনাথ হালদার। এতে সভাপতিত্ব করেন সদারঙ্গ উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত পরিষদ, বাংলাদেশ’র সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতগুরু স্বর্ণময় চক্রবর্তী।
পণ্ডিত দিলীপ দাশ তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমি কণ্ঠ নিয়ে ভাবি, বয়স নিয়ে নয়। চট্টগ্রামে এবারসহ তিনবার আসা, তা সদারঙ্গের কারণেই। আজ আমি অভিভূত। সুর, ছন্দ, তাল, লয় -সঙ্গীতে একে অপরের পরিপূরক। আর সুরকে বাঁচিয়ে রেখেছে সদারঙ্গ। এ সংগঠন বিশ বছর পূর্ণ করলো, সেজন্য এর প্রত্যেক কলাকুশলীকে সাধুবাদ জানাই।’
চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আলোকিত সমাজ বিনিমার্ণে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের প্রয়োজন। সঙ্গীত মানুষের চিত্ত পরিশুদ্ধ করে, সুন্দর করে, পবিত্র করে। একজন শুদ্ধ মনের মানুষ কখনো সমাজের খারাপ কাজের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারে না। অপসংস্কৃতি আমাদের আলোকিত সমাজকে বিপন্ন করে তুলেছে। সদারঙ্গ শুদ্ধ সঙ্গীতের চর্চা করছে। এই ধরনের অনুষ্ঠান যত বেশি হবে, সমাজ তত সুন্দর হবে, দূর হবে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি।’
স্বাগত বক্তব্যে সঙ্গীতগুরু স্বর্ণময় চক্রবর্তী সদারঙ্গের বিশ বছরের পথচলায় যাদের সহযোগিতা পেয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- প্রয়াত বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবু সায়ীদ, প্রখ্যাত সঙ্গীত সমালোচক আবদুস শাকুর, অভিনেতা আলী যাকের, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং ফুলকি’র প্রতিষ্ঠাতা কবি আবুল মোমেন।
সঙ্গীতগুরু স্বর্ণময় চক্রবর্তীর রচনায়, মিশ্র মারওয়া রাগের সুরে ও ত্রিতালে নিবদ্ধ ‘মেরো পুরাক শোন শ্যাম’ বন্দিশটি সদারঙ্গের ৫০ জন শিল্পীর সমবেত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্ব। রাগ বাগেশ্রী পরিবেশন করেন চট্টগ্রামের উদীয়মান শিল্পী প্রমিত বড়-য়া। তবলায় ছিলেন শিল্পী রাজীব চক্রবর্তী আর হারমোনিয়ামে ছিলেন শিল্পী রাজীব দাশ।
তিনদিনের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে পাঁচটি পর্বে। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবার তৃতীয় অধিবেশনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতানুষ্ঠান। শেষদিন আগামীকাল শুক্রবার চতুর্থ অধিবেশনে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে ‘আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা। এদিন সন্ধ্যা ৬টায় পঞ্চম অধিবেশনে অনুষ্ঠিত হবে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতানুষ্ঠান।
উল্লেখ্য, ‘বিংশতিতম জাতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত সম্মেলন -২০১৭’ আয়োজনে সহযোগিতা করছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন