গ্যাসে প্রি-পেইড মিটার : শুরু হচ্ছে ৬০ হাজার চুলায় মিটার স্থাপন কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চালু হচ্ছে গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার পদ্ধতি। ৬০ হাজার চুলায় মিটার বসানোর কার্যক্রম শুরু করতে গত মঙ্গলবার পেট্রোবাংলার সম্মেলন কক্ষে জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোয়োকিকি কোম্পানির সাথে চুক্তি হয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের। ‘ন্যাচারাল গ্যাস এফিসিয়েন্সি প্রজেক্ট’ নামের প্রকল্পটির আওতায় নগরীর ৬০ হাজার চুলায় প্রি-পেইড মিটার স’াপনের কাজ করবে কোম্পানিটি।
২৪৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকার প্রকল্পের ১৫৪ কোটি ১১ লাখ টাকা দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা), সরকার ৮১ কোটি ৪৫ লাখ এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি দিচ্ছে ১০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে এ প্রকল্পের কাজ।
জানা যায়, নগরীর ষোলশহর, নাসিরাবাদ, খুলশী, চান্দগাঁও, চকবাজার, আন্দরকিল্লা, লালখান বাজার, কাজীর দেউড়ি, পাঁচলাইশ ও হালিশহর এলাকার গ্যাসের চুলায় প্রি-পেইড মিটার বসানো হতে পারে। এই পদ্ধতিতে মোবাইলে রিচার্জের মতো আগে রিচার্জ করে পরবর্তীতে গ্যাস ব্যবহার করা যাবে।
চট্টগ্রামের চুলাগুলোতে প্রিপেইড মিটার স’াপন প্রসঙ্গে কর্ণফুলী গ্যাসের কর্মকর্তারা জানান, নগরীতে বর্তমানে সাড়ে পাঁচ লাখ চুলায় আবাসিকের গ্যাস সংযোগ থাকলেও প্রাথমিকভাবে ৬০ হাজার চুলাকে বাছাই করা হচ্ছে। এজন্য গত ছয় মাস নগরীতে জরিপ কার্যক্রম চালানো হয়েছে। আর এর ভিত্তিতেই চুলা নির্বাচন করা হচ্ছে। ষোলশহরে অবসি’ত কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অফিসকে কেন্দ্র করে চারপাশের প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার এলাকার চুলাগুলোকে বাছাই করা হতে পারে। একইসাথে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকাকেও বিবেচনা করা হচ্ছে। কর্ণফুলী গ্যাস অফিসে বসবে প্রি-পেইড মিটারের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। চুলাতে মিটার লাগানোর পর কোথাও কোথাও অকেজো হয়ে গেলে কিংবা সেবা দেয়ার প্রয়োজন হলে যাতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে কর্মীরা গিয়ে দ্রুত মেরামতের বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়েছে। মূলত গ্যাসের অপচয় রোধে এই পদ্ধতি নেয়া হয়েছে। এতে আর কেউ গ্যাস অপচয় করবে না।
কবে নাগাদ চুলায় প্রি-পেইড মিটার বসানোর কার্যক্রম শুরু হবে জানতে চাইলে কর্ণফুলী গ্যাসের এক কর্মকর্তা জানান, যেহেতু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি হয়ে গেছে সেহেতু তারা আজ থেকেই কাজ করতে পারে। তাই বসানোর কাজ শুরু হয়েছে বলা যায়।
কিভাবে বসবে মিটার?
বর্তমানে ভবনগুলোতে রাইজার থেকে একটি ভবনে একটি পাইপ দিয়ে গ্যাসের লাইন যায়। আর সেই পাইপের সাথে শাখা প্রশাখার মতো পাইপ যুক্ত করে বিভিন্ন ফ্লোরের গ্যাসের চুলায় লাইন দেয়া হয়েছে। কিন’ এখন মিটার বসাতে গেলে এই পদ্ধতিতে মিটার বসানো যাবে না। এখন একটি ভবনে যতোটি চুলা ( ডাবল বার্নার) থাকবে রাইজার থেকে ততোটি পাইপ বের হয়ে বিভিন্ন ফ্লোরে চলে যাবে। এতে একটি ভবনে ১২টি চুলা থাকলে রাইজার থেকে ১২টি জিআই পাইপের লাইন থাকবে। আর ১২টি পাইপের সাথে মিটার যুক্ত থাকবে। তবে মিটার ভিত্তিক পৃথকীকরণ গ্যাস লাইন থাকবে।
উল্লেখ্য, নগরীতে গ্যাস সমস্যা প্রকট। নগরীতে দৈনিক সাড়ে চারশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন থাকলেও সরবরাহ করা হয় ১৭০ থেকে ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। গ্যাসের অভাবে থমকে রয়েছে শিল্পায়ন কার্যক্রম।

আপনার মন্তব্য লিখুন