কক্সবাজার

শীর্ষ ২০ মাদক কারবারির আত্মসমর্পণ এ মাসে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার, প্রতিনিধি, টেকনাফ

সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির কথা রাখলেন টেকনাফ-উখিয়ার ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। বদি টেকনাফের একটি অনুষ্ঠানে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িতদের আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণ করতে হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ী ফেইসবুকে ঘোষণা দিয়ে আত্মসমর্পণ করছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কক্সবাজার জেলার সর্বশেষ তালিকায় অনুযায়ী ইয়াবা ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১,১৫১ জন। তালিকাভুক্ত আসামিদের থেকে ৭৩ জনকে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকে আত্মসমর্পণ করতে চাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সিগন্যাল পেয়ে সেই প্রক্রিয়া এখন চলছে।’
জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে ২০ জনের অধিক কক্সবাজার জেলার সর্বশেষ তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানা যায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আত্মসমর্পণকারী মাদক কারবারিদের মধ্যে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির ফুফাতো ভাই কামরুল হাসান রাসেল, মো. শফিক, ভাগিনা সাহেদুর রহমান নিপু ও তালতো ভাই সাহেদ কামাল, চাচাতো ভাই ও বোন জামাই মো. আলমও থাকতে পারেন।
এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়ার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ করতে বলেছেন সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি। অন্যথায় পরিণতি ‘ভয়াবহ হবে’ বলে সতর্ক করেছেন তিনি। গত ১২ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় টেকনাফের লামাবাজারে নিজের বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহমান বদি। তিনি আরো বলেছিলেন, ‘উখিয়া-টেকনাফে কোনো ইয়াবা ব্যবসায়ী থাকতে পারবে না। কেউ যদি আত্মসমর্পণ না করে, পরে তাদের পরিণতি ভয়াবহ হবে।’ আত্মসমর্পণ না করলে তাদের দেশ ছাড়তে হবে। এলাকায় তাদের কোনো রেহাই নেই। ইয়াবাসহ মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে বলে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারি দেন কক্সবাজার-৪ (টেকনাফ-উখিয়া) আসনের সংসদ সদস্য বদি পত্নী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহিন আকতার।
বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ হারানোর ভয়ে অর্ধ শতাধিকের বেশি মাদক ব্যবসায়ী বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তবে কতজন আত্মসমর্পণ করেছেন বা করবে তার সঠিক হিসাব জানা যায়নি।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানান, কক্সবাজারের ‘শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী যারা আছে তাদের শর্ত সাপেক্ষে এই আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তারা এলে ‘আমি ইয়াবা ব্যবসায়ী’ এই ঘোষণা দিয়ে আসছে। এর মাধ্যমে তাদের সংশোধনের ব্যাপারও থাকবে। তিনি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে তারা যদি আবার আগের পথে ফিরে যায় তাহলে যেভাবে আইনি অভিযান চলছে সেভাবে চলবে।’
বিজিবি, পুলিশ, কোস্ট গার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও গোয়েন্দা সংস’ার তালিকা অনুযায়ী, সারাদেশে ৩ হাজারেরও বেশি চিহ্নিত মাদক কারবারি রয়েছে। এদের মধ্যে মিয়ানমারের সীমান্তঘেঁষা কক্সবাজার জেলায়ই আছে ১ হাজার ১৫১ জন। তাদের মধ্যে আবার বেশিরভাগই টেকনাফের।
এসব চিহ্নিত কারবারীকে ধরতে গত ৪ মে থেকে সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়। এ অভিযানে কেবল কক্সবাজারেই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৩৭ জন মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৪ জনই টেকনাফের। কিন’ এমন পরিসি’তিতেও টেকনাফে সর্বনাশা মাদক ইয়াবার কারবার বন্ধ হয়নি। গত দেড়মাসে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাতে ধরা পড়ে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ পিস ইয়াবা।