শীতে সুন্দর

জেনিফার কামাল
Untitled-1

এই সময়ে হিম হিম শীতল এই ছোঁয়া শরীরের জন্য আরামদায়ক হলেও ত্বকের জন্য নয়। শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে নানা রকম ত্বকের সমস্যা। তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীরা অতিরিক্ত তেল থেকে হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেও মুখ ধোয়ার পরপরই ত্বকে দেখা যায় শুষ্ক টানটান ভাব। আর যাদের ত্বক এমনিতেই একটু শুষ্ক, তাদের কাছে শীত যেন এক দুঃস্বপ্ন। শুষ্ক ত্বকের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, শীতে আবহাওয়ার কারণেই ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়। আবার কিছু রোগের কারণেও এমন হতে পারে। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পরও অতিরিক্ত ত্বক ফাটলে এবং শুষ্ক হয়ে গেলে বুঝতে হবে, কোনো সমস্যায় এমন হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
শুষ্ক ত্বকের উপসর্গ
ত্বকে রুক্ষ ও শুষ্ক ভাব দেখা যাবে। ত্বক শুকনো ও মলিন লাগবে। গোসলের পর বা মুখ ধোয়ার পর ত্বক টানটান লাগবে। চুলকানি ভাব থাকতে পারে। ত্বকের রেখাগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং বলিরেখাও পড়ে যেতে পারে। লালচে ভাব থাকতে পারে। চামড়া সাদাটে হয়ে উঠে যেতে পারে। অর্থাৎ মৃত কোষ বেড়ে যায়। নিয়মিত যত্নের মাধ্যমেই করে তুলতে পারেন শুষ্ক ত্বককে মসৃণ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ফিরে পেতে তাই এখনই হোন সচেতন।
সকালে ঘুম থেকে উঠে
সকালে উঠে ত্বকের উপযোগী ফেসওয়াশ বা কোমল ময়েশ্চারযুক্ত সাবান দিয়ে মুখ পরিষ্কার করবেন। এ সময় নিয়মিত বা এক দিন অন্তর স্ক্রাব করা ভালো। অনেকের ধারণা, নিয়মিত ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুলে বা স্ক্রাব করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। কিন্তু ত্বক পরিষ্কার করতে ও মৃত কোষ সরিয়ে ত্বক উজ্জ্বল করে তুলতে এর বিকল্পও নেই। মাঝেমধ্যে গাজরের রস মুখে মেখে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলবেন। এভাবে ত্বক ঠিকমতো ধোয়াও হবে, কালো ছোপও কমবে।
গোসলের সময় ও পরে
এখন গোসলে সাবান কম ব্যবহার করুন। আর করলেও আর্দ্রতাযুক্ত সাবান ব্যবহার করুন। এতে ত্বকে খসখসে ভাব কমে আসবে। অলিভ ওয়েল, নারিকেল তেল বা অন্য যেকোনো তেল ব্যবহারের আগে দেখে নেবেন সেই তেল আপনার জন্য উপযুক্ত কি না, তারপর হালকা গরম করে পুরো শরীরে ম্যাসাজ করতে পারেন। গোসলের পর এটি করলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে। গোসলের সময় আরাম অনুভব হলেও অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে মুখ, মাথা ধোয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে ত্বকের আর্দ্রতা নষ্ট হয়। গোসলের সময় পানিতে কয়েক ফোঁটা জোজোবা বা বাদাম তেল দিয়ে নিলে তা ত্বককে আর্দ্র ও মসৃণ করতে সহায়তা করে। গোসলের পর এবং প্রতিবার মুখ ধোয়ার পর ভেজা অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার বা লোশন ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে।
বাইরে যাওয়ার আগে ও পরে
ভাববেন না যে শীতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে। শীতকালেও বাইরে বের হওয়ার ৩০ মিনিট আগে এসপিএফ ১৫-৩০ সম্পন্ন সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করুন। বেশি ময়েশ্চারাইজার যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, প্রয়োজনে পানি মিশিয়ে ব্যবহার করুন। বিকেলে সারা মুখে মধু লাগিয়ে পরে ধুয়ে ফেললে উপকার পাওয়া যায়।
রাতে ঘুমানোর আগে
রাতে ঘুমানোর আগে নিয়মিত পরিমাণের চেয়ে একটু বেশি ময়েশ্চারাইজিং লোশন ব্যবহার করলে ত্বকের খসখসে ভাব দূর হবে। ত্বকের আর্দ্রতা ও ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে রাতে ঘুমানোর আগে অলিভ ওয়েল অথবা তরল প্যারাফিন মাখতে পারেন। এ ছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে যাদের বয়স কম, তাঁরা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেন। বয়স ত্রিশের কোঠা ছাড়ালে নাইট ক্রিম ব্যবহার করা ভালো।
ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন
সারা দিন যত ব্যস্তই থাকুন না কেন, সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন কিছু ঘরোয়া ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন। সময় পেলেই কাঁচা দুধ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। তবে গরমের দিনে তৈলাক্ত ত্বকের উপযোগী যেসব ফেসপ্যাক ব্যবহার করেছেন, শীতে সেগুলো ব্যবহার করা যাবে না।
ত্বকভেদে ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার
শুষ্ক ত্বক : শুষ্ক ত্বকের প্রধান কাজ হলো ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখা। ভিটামিন-ই ওয়েল আধা চামচ ও গ্লিসারিন আধা চামচ মিশিয়ে প্রতিদিন লাগাতে পারেন। ত্বকে পুষ্টি জোগাতে ডিমের কুসুম, ১ চা-চামচ মধু, আধা চা-চামচ অলিভ ওয়েল ও গোলাপজল মিশিয়ে সারা মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করতে পারেন।
তৈলাক্ত ত্বক : যাদের ত্বক খুব তৈলাক্ত, তাঁরা ক্লিনজিং ও ময়েশ্চারাইজিংয়ের ক্ষেত্রে তেলছাড়া (ওয়েল ফ্রি) পণ্য ব্যবহার করুন। ঘরোয়া ময়েশ্চারাইজার হিসেবে এ ক্ষেত্রে টমেটোর রস খুব কার্যকর। ক্লিনজিং ও টোনিংয়ের পর লেটুস পাতার রস, মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে লাগাতে পারেন। আনারস, আপেল, পাকা পেঁপের সঙ্গে মধু মিশিয়ে প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।
মিশ্র ত্বক : প্রতিদিন হালকা ক্লিনজার ব্যবহার করতে পারেন। তবে ত্বকের শুষ্ক জায়গাগুলোয় অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন। সেদ্ধ করা মিষ্টি কুমড়ো চটকে তার সঙ্গে মধু ও দুধ পরিমাণমতো মিশিয়ে ২০ মিনিট রেখে তারপর ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এ প্যাকটি সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করলে উপকার পাবেন। মনে রাখবেন, সারা দিনে দেড় থেকে দুই লিটার পানি খেতে হবে। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য পানি খাওয়া খুব প্রয়োজন। শীতে প্রচুর শাকসবজি ও ফল খাওয়া ভালো।