শীতের সবজী

লেখা ও ছবি : কমল দাশ
komol1

প্রকৃতির সর্বত্র এখন শীতের প্রভাব। ভোরে হিম শীতল হাওয়া, সকালে অল্প উষ্ণ রোদ। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলে শিশিরে স্নাত হয় প্রকৃতি। সন্ধ্যায় নামে অসীম সাদা মেঘের চাদর। শীতকাল অপরূপ! বছরের বেশিরভাগ সময় আবহাওয়া গরম থাকায়, ক্ষণকাল শীত ঋতুর কদর আমাদের কাছে একটু বেশি আদুরে। মাটির ক্ষুদ্র ঘাস থেকে আকাশছোঁয়া বৃক্ষ সবই এখন শীত-শিশিরে সিক্ত। ঘুম থেকে দেরি করে ওঠা।
সকাল সকাল বিছানায় যাওয়া। গরম কম্বলে আরামের উষ্ণ ঘুম, আমাদের যাপিত জীবন বদলে দিয়েছে। বদল ঘটেছে খাদ্য অভ্যাসেও। বছরের অন্য সময় যেসব খাবার আমাদের খাদ্য তালিকায় থাকে না, শীতের স্বল্পকালে সেসব খাবার থাকে প্রতিদিনই। আলাদা স্বাদ, সমৃদ্ধ পুষ্টিগুণ আমাদের অনেক বেশি ভজনরসিক করে ফেলে। শীতের শাক-সবজি এখন আমাদের প্রিয় খাবারের তালিকায়। ফুলকপির সঙ্গে নতুন আলুর তরকারি। বাঁধাকপির সঙ্গে নতুন আলু। কচি লাউয়ের সঙ্গে চিংড়ি মাছ কিংবা লাউয়ের ডোগা আর মশুরের ডাল। এছাড়া শিম, গাজর, মুলা, শালগম, পালং শাক, লাল শাক কমবেশি আমাদের সকলেরই পছন্দ।
গৃহিণী নীলুফার হোসেন। বয়স ৪২। স্বামী, শ্বশুর ও তিন সন্তান নিয়ে সংসার। শীতের রান্নাবান্না নিয়ে কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদিও বেশিরভাগ শীতকালীন শাক-সবজি এখন সারা বছরই পাওয়া যায়। কিন’ শীতে এ সবের স্বাদ একেবারেই ভিন্ন। অন্য সময় বাড়িতে রান্না হলেও বাচ্চারা খেতে চায় না। এখন কিন’ নিজে থেকেই খায়। কখনও কখনও বলে ‘মা আজ ওই তরকারিটা রান্না করবা’। সাধারণত সারা বছর মাছ মাংসই ওদের পছন্দ। এখন ওদের রুচিতে শীতের সবজি বেশ রোচে। জোর করতে হয় না। পর্যাপ্ত ক্যালরি, আয়রন, ক্যালসিয়াম ভিটামিন এ বি সি ছাড়াও আরও অনেক পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এসব শাক-সবজি। উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যাপ্ত হওয়ায় বাজারজুড়ে এখন শীত সবজির রাজত্ব। প্রকৃতির মিষ্টি কুসুম রোদ। রাতভর অবিরাম অজস্র শিশিরকণা শীতের মাঠ ভরিয়ে দিয়েছে সবুজের সমারহে। গ্রামের কৃষক থেকে শহুরে বাবু সকলেই যেমন শীতে কাবু। তেমনি শীতের সুখাদ্য খেয়ে আছেন শরীর ও মনে সতেজ। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলেন, সারা বছর বাজারে যে শাক-সবজি পাওয়া যায় তার থেকে এখনকার শাক-সবজি অপেক্ষাকৃত বেশি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। মানব দেহের বিভিন্ন অরগানের সুস’তা, রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা এবং জটিল রোগের প্রতিষেধক হিসেবে এসব খাবারের তুলনা নেই। প্রকৃতির স্নিগ্ধ শীতল ভালবাসা আর সহজ সরল মানুষদের শ্রমে, মাটির বুকে জন্মে মাটির সন্তানের সুখাদ্য। প্রকৃতির পালাবদলে আমাদের প্রিয় শীত ঋতুতে।

বারোমাসি সবজি ও শীতকালীন সবজির দরদাম
শিম : শীতকালের বিশেষ সবজি শিম। দুই ধরনের শিম পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। একটি সাধারণ শিম, অন্যটি একটু সরু ও লম্বাটে আকারের। দাম কেজি প্রতি ২০ টাকা। গাজর : প্রতি কেজি ২০ টাকা। বেগুন : দুই-তিন ধরনের আছে বাজারে। সাদা বেগুন ও অন্য সাধারণ বেগুন। দাম নেবে প্রতি কেজি ১৫ টাকা করে। শালগম : লাল ও সাদা দুই রঙের শালগম বাজারে আছে। দাম একই; প্রতি কেজি ১০ টাকা করে। মুলা : সাদা ও লাল, দুই রঙের মুলা আছে বাজারে। দাম নেবে প্রতি কেজি ১০ টাকা। করলা : সাধারণ আকারের করলা ও কিছুটা লম্বাটে করলা পাওয়া যাচ্ছে বর্তমানে। দাম নেবে প্রতি কেজি ২০ টাকা করে। কাঁচামরিচ : শীতের এই সময়ে কাঁচামরিচ পাবেন প্রতি কেজি ২৫ টাকা করে। পেঁয়াজের ফুল : শীতের বিশেষ এই সবজি পাওয়া যাবে ১০ টাকা প্রতি আঁটি। টমেটো : লাল ও সাদা রঙের টমেটো পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। প্রতি কেজি টমেটো কিনতে খরচ করতে হবে ২০ টাকা। লেবু : নানা জাতের প্রতি হালি লেবুর দাম পড়বে ১০ থেকে ২০ টাকা করে। মটরশুঁটি : ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে কেজি। ধনে পাতা : শীতের বিশেষ সবজি ধনে পাতা প্রতি আঁটি ৩০-৪০ টাকা করে। পেঁপে : ছোট আকারের প্রতিটি ১২ টাকা করে, কিছুটা বড় আকারের পেঁপে কিনতে খরচ হবে ২০-২৫ টাকা করে। ফুলকপি : শীতের সবজি ফুলকপি। ছোট আকারের ফুলকপি প্রতি পিস ১০ টাকা করে, বড়টির দাম নেবে ১৫-২০ টাকা করে। পাতাকপি : প্রতিটি ছোট আকারের দাম নেবে ১০ টাকা, বড় আকারের প্রতিটি পাতাকপি ১৫ টাকা। লাউ : ভিন্ন আকারের প্রতি পিস লাউয়ের দাম পড়বে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। মিষ্টি কুমড়া : ৩০ টাকা প্রতি পিস। কাঁচকলা : ১২ টাকা প্রতি হালি। শসা : ২৫ টাকা কেজি।