শীতকালীন সবজি ও মাছের বাজার বেড়েছে সরবরাহ কমেছে দাম

মুহাম্মদ সাইফুলস্নাহ

নগরীর কাঁচা বাজারে এখন যেন সবুজের বান ডেকেছে; থরে থরে সাজানো খাঁচিগুলো থেকে উপচে পড়ছে শীতকালীন শাক-সবজি আর তরিতরকারি। স’ানীয়ভাবে উৎপাদনের পাশাপাশি উপজেলা ও দেশের বিভিন্ন স’ান থেকে এসব শীতকালীন সবজি বাজারে উঠায় দামও কমেছে অনেকটা। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে কেজিতে প্রায় ১০ টাকা কমে বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দামে। একইভাবে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে মাছেরও। সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি বাজারে উলেস্নখযোগ্য হারে বেড়েছে পুকুর, খালবিল ও জলাশয়ের মিঠা পানির মাছ। বাজারে এখন সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে মলা-ডেলা জাতীয় অতি স্বাস’্যকর ছোট মাছ।
গতকাল বিকালে বহদ্দারহাট কাঁচা বাজার ও ২ নম্বর গেটের কর্ণফুলী কাঁচা বাজারে প্রতিকেজি ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ৩৫-৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা, শিম ৪০ টাকা, মুলা ২৫-৩০ টাকা, বড় বেগুন ৪৫ টাকা, ছোট বেগুন ৫০ টাকা, দেশি লাউ ৩০-৩৫ টাকা, কাঁচা মিষ্টি কুমড়া ৩৫ টাকা, পাকা মিষ্টি কুমড়া ২০-২৫ টাকা, ধুন্দল ৪৫ টাকা, কাঁচা পেঁপে ২০-২৫ টাকা, তিত করলা ও কাকরোল ৫০-৬০ টাকা, বরবটি ৪৫-৫০ টাকা, ঢেড়স ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪০-৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৩৫-৪০ টাকা, নতুন দেশি আলু ও টমেটো ৭০-৮০ টাকা এবং পুরনো দেশি আলু ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
দাম কমেছে শাকেরও। গতকাল মাঝারি আকারের এক আঁটি মিষ্টিকুমড়া শাক বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা, পাট শাক ২৫-৩০ টাকা, লাল শাক ২৫ টাকা, পুঁই শাক ২৫ টাকা, পালং শাক ১৫-২০ টাকা এবং জোড়া আঁটি কলমি শাক ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অভিজাতদের বাজার হিসেবে পরিচিত নগরীর কাজীর দেউড়ি বাজারে এ দাম কিছুটা বেশি হতেও দেখা গেছে।
কর্ণফুলী কাঁচা বাজারের সবজিবিক্রেতা মো. কামাল হোসেন সুপ্রভাতকে বলেন, দেশের সবখানে এ বছর সবজির উৎপাদন ভাল হয়েছে। দিন যতই যাচ্ছে বাজারে সবজির সরবরাহ ততই বেড়ে চলেছে। সেই অনুপাতে কমছে দামও।
মাছের বাজারে আকারভেদে রম্নই মাছ বিক্রি হয়েছে ১৮০-৩৫০ টাকা, কাতলা ২৫০-৪০০ টাকা, চিংড়ি ৩৮০-৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৫০ টাকা, মলা ১৫০-২০০ টাকা, তিত পুঁটি ১৫০ টাকা, চিকন পুঁটি ১২০-১৫০ টাকা, কেঁচকি ১৬০ টাকা, বাইলা মাছ ৩৫০-৪৫০ টাকা, লইট্টা ১২০-১৫০ টাকা, কই ৩৫০-৪০০ টাকা, বাটা মাছ ৪৮০ টাকা, কোরাল ৪৫০-৫৫০ টাকা, ইলিশ ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং কালো ও সাদা জাতভেদে রূপচাঁদা ৫০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
গতকাল বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১২০ টাকা, পাকিসত্মানি লাল মুরগি (সোনালি) ২১০-২২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া বাজারে হাড়সহ গরম্নর মাংস ৫০০-৫৫০ টাকা, হাড়ছাড়া গরম্নর মাংস ৬০০-৬৫০ ও ছাগলের মাংস ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বহদ্দারহাট বাজারের মাংসবিক্রেতা সালাউদ্দীন জানান, এখন চারিদিকে ঈদে মিলাদুন্নবীর ডামাঢোল বাজায় মাংস বিক্রি হঠাৎ কিছুটা কমে গেছে। কারণ ঈদে মিলাদুন্নবী উপলড়্গে পাড়ায়-মহলস্নায় গরম্ন-ছাগল জবাই হয়। মানুষ এখন সেসবের অপেড়্গায় রয়েছে।
ভোগ্যপণ্যের মধ্যে গতকাল খুচরা বাজারে প্রতিকেজি আদা বিক্রি হয়েছে ১০০-১২০ টাকা, রসুন ৬০ টাকা, মাঝারি আকারের অপেড়্গাকৃত ভালো মানের পেঁয়াজ ২৮-৩০ টাকা, বড় পেঁয়াজ ২৫ টাকা, প্রকারভেদে মোটা চাল ৩৮-৪২ টাকা, মাঝারি মানের চাল ৫০-৫৫ টাকা এবং সরম্ন চাল ৬৫-৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। ভোজ্যতেলের মধ্যে কোম্পানি ভেদে প্যাকেট ও বোতল জাত ভোজ্যতেল লিটার প্রতি ১০২-১০৮ টাকা, খোলা ভোজ্যতেল ৭৫-৮৫ টাকা এবং পাম অয়েল প্রতি লিটার ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে পাইকারিতে ব্রয়লার মুরগির ডিম ৯০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ডজনে ১৫৫-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।