মিরসরাই

শীতকালীন সবজিতে বাজার ভরপুর

ভালো দাম পেয়ে কৃষক সন্তুষ্ট

রাজু কুমার দে, মিরসরাই

চট্টগ্রামের অন্যতম সবজি ভান্ডার হিসেবে পরিচিত মিরসরাই উপজেলায় প্রতিবছরের মত হরেকরকম শীতকালীন সবজি এখন বাজারে। আশানুরূপ মুল্য পাওয়ায় কৃষকরাও খুশি। উপজেলার প্রায় ২০ সহস্রাধিক কৃষক সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী। তবে ডিসেম্বরের শুরুতে হওয়া বৃষ্টির কারণে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। মিরসরাই কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কাজী নুরুল আলম জানান, উপজেলার ১ নম্বর করেরহাট, ২নম্বর হিঙ্গুলী, ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ, ১২ নম্বর খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আমবাড়িয়া, তালবাড়িয়া, নিজতালুক, ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের উত্তর ওয়াহেদপুর, মধ্যম ওয়াহেদপুর, দক্ষিণ ওয়াহেদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমাসে বাণিজ্যিকভাবে শীতকালীন সবজির চাষ করে থাকে কৃষকরা। চলতি বছর ১৭শ হেক্টর জমিতে শীতকালীম সবজি চাষ হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৯শ হেক্টর। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি দাবি করেন। মিরসরাই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাজী নুরুল আলম আরো জানায়, এখানে উৎপাদিত সবজির মধ্যে বেগুন, টমেটো, মুলা, গাজর, বাঁধাকপি, ফুলকপি, সালগম, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, করলা, বরবটি, শীম, চালকুমড়া, ঝিঙ্গা অন্যতম। শাকের মধ্যে রয়েছে, পুইশাক, পালংশাক, লালমাক, মুলাশাক ও মিষ্টি কুমড়া শাক উল্লেখযোগ্য। চলতি বছর শিম ৬শ হেক্টর, বেগুন-১শ২০ হেক্টর, ফুলকপি ৬০ হেক্টর, পাতাকপি- ৫৫ হেক্টর, টমেটো-১শ৫০ হেক্টর, করলা-৫০ হেক্টর, বরবটি-৫৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রকমের শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার বড় দারোগারহাট, বারইয়ারহাট, হাদিফকির হাট, বড়তাকিয়া, বড় কমলদহ, ভাঙ্গাপোল রাস্তার মাথা, মিঠাছড়া, আবুতোরাবসহ বিভিন্ন বাজার থেকে। এসব সবজি কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করে পরে ব্যবসায়ীরা, ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স’ানে নিয়ে যায়। ঢাকা থেকে মিঠাছরা বাজারে সবজি কিনতে আসা পাইকার আবেদুল ইসলাম জানান, মিরসরাই ও সীতাকুন্ডে উৎপাদিত সবজি দেশের বিভিন্ন শহরের চাহিদা মিঠিয়ে থাকে। তাই তিনি প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার মিরসরাইয়ের বড়দারোগারহাট, মিঠাছরা, বারইয়ারহাট থেকে সবজি কিনে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করে থাকেন। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা পাইকারি ভাবে মুলা বিক্রি করছে কেজি প্রতি ১৫-২০ টাকা, বাঁধাকপি-২০-২৫ টাকা, ফুলকপি-২০ টাকা, বরবটি ৩৫ টাকা, লালশাক ২০ টাকা, পালংশাক ২০ টাকা। এছাড়া নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ১৮ টাকা, টমেটো-৪০ টাকা। মিরসরাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মদ জানান, মিরসরাইয়ে আগের চেয়ে শাক-সবজির চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামভিত্তিক সব্জি চাষীদের প্রশিক্ষণের উপর জোর দেয়া হচ্ছে। হিমাগার প্রতিষ্ঠা করা হলে মিরসরাই থেকে বছরে কয়েক কোটি টাকার সবজি বিদেশে রফতানী করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।