শীতকাতুরের শরীরচর্চা

দেউড়ি ডেস্ক

শীত মৌসুমে আলসেমি লাগলেও সুস্বাস্থ্য ধরে রাখা সম্ভব। তবে লেপ কম্বল মুড়ি দিয়ে তা সম্ভব নয়। শরীরচর্চাবিষয়ক এক ওয়েবসাইটে ভারতীয় ব্যায়ামবিদ কিটি কালরার শীতের সময় আলসেমি কাটিয়ে কীভাবে চঞ্চল থাকবেন সেই পদ্ধতি জানিয়েছে।
বিছানায় শুয়েই শরীরের পেশিগুলোকে টানটান করতে হবে। এতে শরীর ও মস্তিষ্ক শরীরচর্চার জন্য প্রস্তুত হওয়ার সংকেত পাবে। গ্লুটাল ব্রিজ, হাটু ভাঁজ করে বুকে ঠেকানো, স্পাইনাল টুইস্ট, কোমর থেকে শরীরের নিচের অংশ ডানে বামে বাঁকানো, ঘাড় ও কাধ ঘোরানো ইত্যাদি শরীরচর্চাগুলো শোয়া অবস্থায় করতে পারেন।
সময়ে অভাব কিংবা প্রচণ্ড আলসেমি, যে কারণেই হোক ব্যায়ামাগারে যেতে না পারলে হালকা ব্যায়াম করার সরঞ্জাম ঘরের রাখতে হবে। যেমন ম্যাট, দড়ি লাফের দড়ি, হালকা ওজনের এক জোড়া ডাম্বেল ইত্যাদি। এছাড়াও গৃহস্থালি আসবাবও ব্যায়ামের সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন উঠবস, ট্রাইসেপ্সের ব্যায়ামের জন্য চেয়ার ব্যবহার।
ঘরেই মাত্র ১৫ থেকে ৩০ মিনিট ব্যয় করেই প্রতিদিনের ব্যায়াম সেরে নেওয়া সম্ভব। কাফ রেইজেস, উঠবস, লাঞ্জেস, বুকডন, রাশিয়ান টুইস্ট, অ্যাব ক্রাঞ্চেস, অল্টারনেট হিল টাচ, প্ল্যাঙ্ক ইত্যাদি ব্যায়াম করতে পারেন। প্রতি সেটে ২০ বার করে দুই সেটে এই ব্যায়ামগুলো করতে হবে। ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে অনুপ্রেরণা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য ব্যায়ামের নতুন জুতা, জামা-কাপড় ও অন্যান্য সরঞ্জাম কিনতে পারেন।
ব্যায়ামে নিয়মিত হতে ব্যায়ামের সঙ্গীর গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। তাই সম্ভব হলে একা ব্যায়াম না করে বন্ধু, ভাই-বোন, স্বামী কিংবা স্ত্রীকে ব্যায়ামের সঙ্গী বানিয়ে নিতে পারেন।
এছাড়াও জীবনে যেকোনো কিছু অর্জন করতে লক্ষ্য স্থির করা জরুরি। তাই আজ থেকে কয়েক মাস পরে নিজেকে কেমন দেখতে চান তা স্থির করে সেই লক্ষ্য অনুযায়ি এগিয়ে যেতে হবে।
শীতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে
ঠাণ্ডা মৌসুমে সর্দি, কাশি, জ্বর, শুষ্ক ত্বক, মাথায় চুলকানি ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। এর কারণ মূলত আবহাওয়া পরিবর্তন। স্বাস্থ্যবিষয়ক এক ওয়েবসাইট জানিয়ে সমস্যাগুলো মোকাবেলা করার কয়েকটি উপায়।
শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে প্রচুর পানি পান করা দরকার। নিয়মিত গরম পানি পান করার অভ্যাসটাও জরুরি। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় প্রচুর ফলমূল ও শাক-সবজি থাকা চাই। হাতের কাছে সবসময় গরম কাপড় রাখতে হবে।
প্রতিদিন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। ঘরের বাইরে যাওয়ার আগে এবং রাতে ঘুমানোর আগে ময়েশ্চারাইজার মাখতে হবে। চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে প্রতিবার চুল ধোয়ার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত। ভেজা চুল শুকানোর ব্যাপারেও চাই বাড়তি সচেতনতা। অন্যথায় ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। সন্ধ্যার পর গোসল করলে চুল ভেজানো উচিত নয়।
রাতে ঘুমানোর সময় মোজা পরে ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে। সবসময় হাতের কাছে লিপ বাম ও ক্রিম রাখতে হবে। শীতে ধুলাবালি বেড়ে যায়, তাই ঘরের বাইরে ফেইস-মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।