শিশুদের স্বপ্ন পুড়ছে ইটভাটায়

এম. জুবাইদ, পেকুয়া

৮ থেকে ১৫ বছরের ৩০ জনের মত এ শিশুরা। আনন্দ করে হেসে হেসে তারা থরে থরে সাজাচ্ছে ইট। কয়েকজন শিশু ট্রলিতে তুলছে ইট। আবার কয়েকজন শিশু ট্রলিতে করে পরিবহন করছে ইট। কাজ আর কাজ। কথা বলা বারণ করছে তারা কাজের জন্য।
একজন আরেক জনের সাথে কথা বললে বেতন কর্তন। মালিকের কঠোর নির্দেশ রয়েছে কারো সাথে কথা বলা যাবেনা। মালিকপক্ষ ইটভাটায় ৫০ জনের অধিক শিশুর লেখাপড়া বাদ করিয়ে শ্রমিক হিসেবে কাজ করাচ্ছে। ইটভাটায় শিশুদের দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করালেও স’ানীয় প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে।
বন্দি এসব শিশুর স্বপ্ন পুড়ছে পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের নাপিতখালী এলাকার আহমদ নবীর মালিকনাধীন এবিএম ব্রিক ফিল্ডে। এবিএম ইটভাটায় পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখা যায, ভাটাশ্রমিকের সঙ্গে শিশুরাও কাজ করছে। ওদের বয়স ৮ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। কয়লার পরিবর্তে সংরক্ষিত বনের কাঠ পুড়ানো হচ্ছে। ফসলি জমি গভীরভাবে খনন করে সেই মাটি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট।
মাটি ব্যবহার করা হলেও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস’া নিরব বলে জানায় স’ানীয়রা। নির্বিচারে ফসলি জমি কাটার ফলে পরিবেশ ভারসাম্যও হারাচ্ছে।এ সময় কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব শিশুর কেউ কেউ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়ছে। আবার কেউ কেউ এখন আর বিদ্যালয়ে যায় না। কেউ নিজে থেকেই, আবার কেউ মা-বাবার সঙ্গে ইটভাটার কাজে এসেছে। কাঁচা ইট রোদে শুকানো, ইট তৈরি, ট্রলিতে করে ইট টেনে ভাটাস’লে পৌঁছানো, মাটি বহন করাসহ সব কাজেই নিয়োজিত এসব শিশু। কাজ করা কয়েকজন শিশুর সাথে কথা বলতে চাইলে তারা সরাসরি বলেন, মালিক ও তাদের সর্দারের বারণ রয়েছে। বেতন কত জানতে চাইলে কাজ করা শিশুরা বলেন, ৬ মাসে প্রতিজনকে ২৫ থেকে ৩০হাজার টাকা দেয়া হয়। বড় মিয়া নামের শ্রমিকদের সর্দার বলেন, এসব শিশু তাদের পিতা-মাতার সাথে বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছে। তারা ইটভাটায় কাজ করেনা। তবে পিতামাতাকে কাজের সহযোগিতা করে থাকে। স’ানীয় কয়েকজন জানান, বিগত ২বছর আগেও এবিএম ব্রিকসে অভিযান চালিয়ে তাৎক্ষণিক ২৫ শিশুশ্রমিককে উদ্ধার করেছিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। শিশুশ্রম বন্ধ করতে মালিক আহমদ নবীকে কঠোরভাবে নির্দেশ দিলেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চালাচ্ছে এসব।
এছাড়াও প্রশাসনের নিরব ভূমিকাও সন্দেহের চোখে দেখছে পরিবেশবিদরা। এবিএম ব্রিকসের মালিক আহমদ নবী বলেন, আমার ইটভাটাতে শিশুদের শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় না। পিতামাতার সাথে তারা আমার ইটভাটায় থাকে। সেখানে হয়তোবা পিতা মাতার কাজে তারা সহযোগিতা করে থাকে। পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব-উল-করিম বলেন, শিশু দিয়ে কাজ করার ঘটনায় যথাযথ ব্যবস’া নেয়া হবে।