শিরোপা চট্টগ্রাম বন্দরের

চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার লিগে আসার মেয়াদ হয়েছে মাত্র দুই মৌসুম। লিগে কনিষ্ঠ হয়েও এবারের আসরের সাবেক জাতীয় তারকা এজহারুল হক টিপু’র প্রশিক্ষণে শিরোপা নিশ্চিত করে বড় সাফল্য অর্জন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্রীড়া সমিতি। দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে নিটল টাটা চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের শিরোপা নির্ধারণী খেলায় গতকাল তারা টাইব্রেকারে ৩-০ গোলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রকে (চট্টগ্রাম) পরাজিত করে। একই সাথে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রও প্রথমবারের মতো রানার্সআপ হয়েছে। এর আগে লিগের খেলায় বন্দর ক্রীড়া সমিতি ৩-১ গোলে জয় পেয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের বিরুদ্ধে। লিগে উভয় দলের পয়েন্ট সমান ২০ হলে লিগের বিধি মেনে প্লে-অফ এর আয়োজন করা হয়।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্লে-অফে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোন পক্ষই গোল করতে না পারায় সরাসরি টাইব্রেকারে ফলাফল নিষ্পত্তি করা হয়। টাইব্রেকারে প্রথম শট করতে এসে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের নাঈম ব্যর্থ হন। তার শট কিপারের হাতে লেগে সাইডবারে লেগে প্রতিহত হয়। পরবর্তীতে তাদের কসোকো ও সোহেল রানা ক্রসবারের অনেক উপরে বল পাঠালেও বন্দরের ইমতিয়াজ, মোবারক ও সাহেদ মিয়া জালে পাঠাতে সক্ষম হন।
এদিকে নির্ধারিত সময়ে বন্দরের তুলনায় গোলের সুযোগ বেশী পায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র। কিন’ ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় তারা বল জালে পৌঁছাতে পারেনি। বন্দরও গোলের সুযোগ নষ্ট করে। খেলার ২৫ মিনিটে বন্দরের সাহেদের বিপজ্জনক শট কিপার শামীম কর্নার করে রুখে দেন। দুই মিনিট পর মুক্তিযোদ্ধার বদলি রাসেলের পাস থেকে পলাশের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরের মুহূর্তে আবারো পলাশ বক্সে ফাঁকায় বল পেয়েও বাইরে পাঠিয়ে সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। ৩৫ মিনিটে মতিনের ক্রসে বক্স থেকে সাহেদের শট জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধের ৭ম মিনিটে মুক্তিযোদ্ধার ইসিকা কেনেসির হেড বাইরে চলে যায়। পরবর্তীতে সাহেদের হেড ও মুক্তিযোদ্ধার উত্তমের শট কিপাররা কর্নার করে বিপদমুক্ত করেন।
উল্লেখ্য বন্দর ক্রীড়া সমিতি এবারের লিগে বন্দর ক্রীড়া সমিতি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র একটি করে খেলায় পরাজিত হয়। মুক্তিযোদ্ধার প্রশিক্ষক দেবাশীষ বড়-য়া দেবু‘র প্রশিক্ষণে এর আগে প্রধম বিভাগ লিগ শিরোপা জয় করে কাস্টমস স্পোর্টস ক্লাব প্রিমিয়ারে উঠেছে।
দু’দলে যারা খেলেছেন-
বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্রীড়া সমিতি: রাজিব, ইমতিয়াজ, আরিজ, ফারুক পারভেজ, সাজন মিয়া, ফয়সাল, মতিন, সাহেদ মিয়া, মোবারক, ক্রিস্টোফার (ইকিচুকও), অপু (রনি)।
মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্র: শামীম, উত্তম, শ্যামল, সোহেল রানা, শিপন, কোসোকে, মাসুদ রানা (সাঈদি), পলাশ, শাকেরউল্লাহ (রাসেল), নাঈম, ইসিকা কেনেসি। রেফারি- আবদুল হান্নান মিরণ।

আপনার মন্তব্য লিখুন