শিরোপার কাছাকাছি ফ্রান্স

নিজস্ব ক্রীড়া প্রতিবেদক

পূর্বসূরিকে জিততে দিলো না উত্তরসূরিরা। থিয়েরি অঁরির বেলজিয়ামকে হারিয়ে ১২ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে গেলো ফ্রান্স। এ জয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপার আরো কাছে চলে গেলো দিদিয়ে দেশমের শিষ্যরা।
আর বিদায় নিতে হলো বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মকে। হ্যাজার্ড-লুকাকুদের ইতিহাস বদলানোর সুযোগ হলো না। সেই শেষ চারেই দ্বিতীয়বারের মতো কাটা পড়লো তারা। আক্ষেপের সাথে যোগ হলো আরো চার বছর।
অথচ খেলার শুরু থেকে বেলজিয়াম এগিয়ে ছিল। ১৫ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো মার্টিনেজের শিষ্যরা। কিন’ ডি ব্রুইনের সেই ক্রস বার ঘেঁষে চলে যায়। এরপর ২২ মিনিটে দুর্দান্ত এক সেভ করে ফ্রান্সকে বিপদ থেকে রক্ষা করে গোলরক্ষক লরিস। আন্ডারভাইরেল্ডের আচমকা শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন তিনি। প্রথমার্ধে কয়েকটি সুযোগ ফিনিশিংয়ের অভাবে নষ্ট করে বেলজিয়াম।
গ্রিজম্যান ও এমবাপ্পে সুযোগ তৈরি কাজে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ৫১ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন
উমিতিতি। গ্রিজম্যানের কর্ণার থেকে নেয়া শট হেড দিয়ে হ্যাজার্ডদের জালে জড়ান এ ডিফেন্ডার। এরপর ধীরে ধীরে তারা খেলার ধরন পাল্টাতে থাকে।
এগিয়ে থাকা ফ্রান্স তাদের রক্ষণ রক্ষার কাজে মনোযোগী হয়ে পড়ে। চার ডিফেন্ডারের সাথে মাঝমাঠের তারকা পগবা ও কন্তেও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে যোগ দেন বেলজিয়ামের সামনে দেয়াল তৈরির কাজে। আর সেই কাজে তারা সফলও হয়েছেন। বল নিয়ে যতবারই আক্রমণ হানছিল রেড ডেভিলসরা ততবারই ব্যর্থ হচ্ছিলো ব্লুজদের জমাট রক্ষণের কারণে।
তবুও এর মাঝেও ৭০ মিনিটে উপর্যুপরি আক্রমণে করে বেলজিয়াম। কিন’ তাতেও কোনো সফলতা আসেনি। কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করে তারা।
৮১ মিনিটে শেষ সুযোগ পায় বেলজিয়াম। তাতেও বাধা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক লরিস।
যোগ করা সময়ে ফ্রান্সও দুটি গোলের সহজ সুযোগ পেয়েছিল কিন’ গোলবারের দায়িত্বে থাকা কর্তোয়া পরাজয়ের ব্যবধানটা বাড়তে দেননি।
শেষ দিকেতো সময়ক্ষেপণে মনোযোগী হয়ে পড়ে দেশমের শিষ্যরা। এজন্য এমবাপ্পেকে হলুদ কার্ডও দেখতে হয়েছে।
আজ লুঝনিকিতে যারা জিতবেন তাদের সাথে আগামী ১৫ জুলাই একই ভেন্যুতে সোনালী ট্রফি হাতে তোলার লড়াইয়ে নামবে ব্লুজরা। আর বেলজিয়ামকে অপেক্ষা করতে হবে পরাজিত দলের জন্য। পিটার্সবার্গে তাদের হারিয়ে অন্তত তৃতীয় স’ানটি নিয়ে ফিরতে পারলে সেটা হবে আপাতত তাদের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ অর্জন।