শিমুল-পলাশ লাল কেন?

সম্পাদকীয়

নববর্ষের শুরম্নতেই শিমুল, পলাশ প্রভৃতি গাছের লাল ফুলে চারদিক উজ্জ্বল রঙের ছটায় ঝলমল করে ওঠে। মন ভরে যায়। বৈশাখের তপ্ত হাওয়ায় যখন প্রকৃতি অগ্নিস্নানে নবরূপ ধারণ করে, তখন শিমুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে লাল ফুলের মধ্যে চলে পাখিদের লুকোচুরি খেলা। মনে হয়, এসব বড় গাছ বোধ হয় গ্রীষ্মের দাবদাহে পাখিদের আশ্রয় দেওয়ার জন্যই ডালপালা মেলে ধরে।
শিমুল-পলাশ-কৃষ্ণচূড়া বসনেত্মর আগমনী বার্তা বয়ে আনে। এসব গাছের উঁচু ও শক্ত ডালপালা এবং তাদের ফুলের রঙের মধ্যে একটি সম্পর্ক আছে। শিমুল-পলাশ ফুলের রং লাল।
কারণ, লাল রঙে পাখিরা বেশি আকৃষ্ট হয়। মৌমাছি বা অন্য পতঙ্গের চেয়ে পাখিরা অনেক বেশি ভালোভাবে পরাগায়ণে সাহায্য করে। শুধু রং না, এসব ফুলের মধুও পাখিদের আকর্ষণ করে। অস্ট্রেলিয়ায় উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, মৌমাছি লাল রং ভালোভাবে দেখতে পায় না, কিন’ পাখিরা দেখে। তাই বিবর্তনের ধারায় কোনো কোনো উদ্ভিদের ফুলের রং লাল হয়েছে।
কারণ, মৌমাছির চেয়ে পাখিরা অনেক দড়্গতার সঙ্গে ফুলের পরাগায়ণ ঘটাতে পারে। সে জন্য দেখা যায়, সাধারণত যেসব বড় গাছে ফুল ফোটে, তাদের রং লাল হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিশিষ্ট উদ্ভিদবিজ্ঞানী দ্বিজেন শর্মা বলেন, আমাদের দেশে পাখিরা মূলত পলাশ-শিমুল গাছের ফুলের লাল রং ও মধুতে আকৃষ্ট হয়। কৃষ্ণচূড়ায় বেশি যায় না। তবে আফ্রিকায় অনেক পাখি কৃষ্ণচূড়া ফুলের পরাগায়ণে বড় ভূমিকা রাখে।