শিবিরে ত্রাণ বিক্রি করছে রোহিঙ্গারা

দীপন বিশ্বাস, কক্সবাজার

টাকার প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি সাহায্য সংস’া, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেয়া ত্রাণ বিক্রি করে দিচ্ছে রোহিঙ্গারা। বাজার মূল্যের চেয়ে অর্ধেক দামে এসব ত্রাণ বিক্রি করা হচ্ছে শিবিরগুলোতে।
স’ানীয় ব্যবসায়ীরা এসব ত্রাণ সামগ্রী কিনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার অনেকেই নিজেদের চাহিদা মোতাবেক কিনে নিচ্ছেন।
সূত্র জানায়, ত্রাণ কিনতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক কয়েকটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। শিবিরগুলোতে ত্রাণ কিনতে সিন্ডিকেট সদস্যদের হুড়োহুড়ি করতেও দেখা গেছে। এসব ত্রাণ কিনে নিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রথমে স’ানীয় বিভিন্ন দোকান ও বাসা-বাড়িতে মজুদ করেন। পরে তাদের সুবিধা অনুযায়ী নানা স’ানে পাচার করে থাকেন। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব সিন্ডিকেট সদস্য একত্রে মালামালগুলো পাচার না করে ভেঙ্গে ভেঙ্গে বিভিন্ন গাড়িতে করে দেশের নানা স’ানে পাচার করে দেয়।
সরেজমিনে কুতুপালং, বালুখালি, পালংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে এক কেজি চালের দাম ৫৫ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সেখানে রোহিঙ্গারা ত্রাণের চাল বিক্রি করছে মাত্র ৩২-৩৫ টাকা কেজি দরে।
৬০ টাকা কেজি দরে চিনি কিনে রোহিঙ্গাদের মাঝে দেয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গারা সেই চিনি বিক্রি করছে মাত্র ৩০ টাকায়। বাজারে প্রতি কেজি ডাল ১২০ টাকা বিক্রি হলেও সেখানে রোহিঙ্গারা বিক্রি করছে ৭০ টাকায়। ১২০ টাকা লিটারের সয়াবিন তেল মাত্র ৬০ টাকায় বিক্রি করছে রোহিঙ্গারা। এছাড়া ৫০০ গ্রাম ডানো দুধ বিক্রি করছে ১০০ টাকায়।
রোহিঙ্গাদের দেয়া সব নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী অর্ধেক দামে পাওয়া যাচ্ছে শিবিরগুলোতে। যার ফলে বাজার ছেড়ে স’ানীয়রাও রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সামগ্রী কিনছে।
কুতুপালং এলাকার মুদি দোকানদার রঞ্জিত দে, সুজিত বড়-য়া ও আবু সামা জানান, প্রথমে যখন রোহিঙ্গারা আসা শুরু করে হঠাৎ করে আমাদের বেচা-বিক্রি বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে আমরা পণ্যের দামও বেশিতে বিক্রি করেছি। আড়তদারের কাছ থেকে মালামাল এনে যোগান দিতেও আমাদের কষ্ট হয়েছে। এখন আমাদের বিক্রি নেই বললেই চলে। স’ানীয় অনেকেই আমাদের কাছ থেকে না কিনে রোহিঙ্গাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
বালুখালীতে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের মেরুল্লাহ গ্রাম থেকে আসা বৃদ্ধ আবু শামা বলেন, আমার বাড়িতে অনেক ত্রাণ আছে। এখন টাকার প্রয়োজন তাই ত্রাণ বিক্রি করে দিচ্ছি।
এত কম দামে বিক্রি করছেন কেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে আবু শামা বলেন, কি করব টাকার প্রয়োজন। দাম কম না হলে কেউ কি কিনবে?
কুতুপালং বাজারে চাল বিক্রি করতে আসা রোহিঙ্গা আবদুল মোনাফ বলেন, গত ২০ দিনে বাসায় ৫ বস্তা চাল জমা হয়েছে। এত চাল আমাদের লাগবেনা। প্রতিদিন চাল পাচ্ছি। তাই টাকার প্রয়োজনে দু’বস্তা চাল ৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দিয়েছি।
কুতুপালং এ ১নম্বর ত্রাণ কেন্দ্র গিয়ে দেখা গেছে, আবু সিদ্দিক নামের এক রোহিঙ্গা ১টি চেয়ার, ১টি পাটি ও ১টি বালতি পেয়েছেন। ত্রাণ কেন্দ্র থেকে বের হয়ে সেসব জিনিস মাত্র ২০০ টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন।
এভাবে প্রতিদিন রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ত্রাণ সামগ্রী। আর এর সুবিধা ভোগ করছেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। অনেক সময় রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে এসব ত্রাণ সামগ্রী বিভিন্ন প্রলোভনে কিনে নিয়ে পাচার করছে সুবিধাভোগী এসব পাচার সিন্ডিকেট।
গড়ে উঠেছে ক্যাম্পভিত্তিক সিন্ডিকেট