শিক্ষায় বাতিঘর পেরলার দু’টি প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটিয়া

মাতার নামে একই সঙ্গে দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে গ্রামীণ জনপদে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন ছৈয়দ খুরশিদ আলম । পেশায় ব্যবসায়ী হলেও সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম পেরলা গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা দানের পাশাপাশি বঞ্চিত শিশুদের জন্য তিনি ব্যবস্থা করেছে কবিতা আবৃত্তি, ছড়া, গান ও পবিত্র কুরআন শিক্ষার। ২০১৬ সালে তিনি তাঁর পিতার নামে সৈয়দ আহমদ মিয়া সওদাগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাতার নামে সৈয়দা জারিয়া বেগম ফোরকানিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে বাংলা শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় নৈতিকতা শিক্ষাদান চলছে। বর্তমানে দেড় শতাধিক শিশু বিভিন্ন শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। বেশিরভাগ শিশু দরিদ্র পরিবারের।
সাবেক মহকুমা শহর পটিয়ার ১৭ ইউনিয়নের একটি ইউনিয়ন বড়লিয়া। ওই ইউনিয়নের পশ্চিম পেরলা গ্রামে ৫ হাজার মানুষের বসবাস। এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছিল না কোনো স্কুল ও মাদ্রাসা।। এখানে স্কুলপড়ুয়া ছেলে-মেয়ে খুব কমই চোখে পড়তো। যাতায়াত ব্যবস্থার নাজুক অবস্থা, এক সময় অর্থনৈতিক দীনতার কারণে এখানের শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিল। এ অবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে ২০১৬ সালে পেরলা গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ খুরশিদ আলম তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে ৩৬ শতক জায়গায় পিতা ও মাতার নামে দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার উদ্যোগ নেন। এ দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের সম্পূর্ণ বিনামুল্যে পাঠদান করা হয়। বই খাতাসহ যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়। পড়া লেখার পাশাপাশি শিশুদের ইসলামিক শিক্ষা , হাতের কাজ, খেলাধুলা ইত্যাদি বিষয়েও পারদর্শী করে গড়ে তুলতে রয়েছেন মাদ্রাসার ৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। প্রতিষ্ঠান দুটির শ্রেণী কক্ষ সাজানো হয়েছে আধুনিকভাবে ।
প্রতিষ্ঠান দুটির প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ খুরশিদ আলম বলেন, পেরলায় এলাকায় প্রায় ২ শতাধিক শিশু রয়েছে। যারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। বিদ্যালয় এবং মাদ্রসার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বিদ্যালয়ের চারিদিকে দেওয়া হয়েছে দেওয়াল যাতে করে শিক্ষার্থীরা কোন দুর্ঘটনার শিকার না হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটি সরকারিকরণ করতে তিনি এমপি সামশুল হক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। পটিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোতাহের বিল্লাহ বলেন, ব্যক্তিগত অর্থে এলাকায় একই সঙ্গে দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা খুবই মহৎ কাজ। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দু’টি সরকারিকরণের সকল তথ্য সংগ্রহ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।