সড়ক দুর্ঘটনায়

শিক্ষার্থীরা লাশ হয়ে ঘরে ফিরছে

সম্পাদকীয়

দেশে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় লাশ হয়ে ঘরে ফিরছে শিড়্গার্থীরা। সকালে মা বাবার কাছ থেকে হাসিমুখে শিশু কিশোর তরম্নণরা বিদায় নিয়ে শিড়্গা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে কিন’ তাদের ঘরে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে উঠছে প্রতিদিন। মায়ের হাত ধরে রাসত্মা পার হওয়ার সময় সনত্মান মায়ের চোখের সামনেই বাসে পিষ্ট হচ্ছে। গত বৃহস্পতির সিরাজগঞ্জের কামারকান্দ ও নরসিংদীর বেলাবতে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় কলেজ ছাত্র ও স্কুল ছাত্র এবং রূপসায় ট্রলি চাপায় এক মাদ্রাসা ছাত্রী নিহত হয়েছে। রাজধানীর কমলাপুরে তেলবাহী লরির চাপায় এক মাদ্রাসা শিড়্গক নিহত হয়েছেন। গত বুধবার গাইবান্ধা ও যশোরে যন্ত্রদানবের চাকায় পিষ্ট হয়েছে ৩ স্কুল ছাত্রী। ঢাকায় জেব্রা ক্রসিংয়ে বাস চাপায় প্রাণ গেলো বিশ্ববিদ্যালয় শিড়্গার্থী আবরারের। এই যে শিশু কিশোর তরম্নণ প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে প্রতিদিন, তার দায় কেউ কি নেবে না? রাষ্ট্রের আইন আছে, আইন প্রয়োগ করার লোক আছে, আইন মানা হচ্ছে না? অনিয়ম অব্যবস’াপনা দেখার সরকারি প্রশাসন আছে, আছে মালিক শ্রমিক সংগঠন, তাহলে এসব সংস’া সংগঠনের দায় দায়িত্ব যারা পালন করছেন, এসব মর্মানিত্মক মৃত্যু কি তাদের মনে আঁচড় কাটছে না! কিভাবে সকল নিয়ম কানুন পদদলিত করে ঘাতক যানবাহন দাপিয়ে বেড়াতে পারছে?
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ঢাকায় ট্রাফিক সচেতনতামূলক সভায় প্রশ্ন করলেন, রম্নট পরিবর্তন করে কিভাবে সুপ্রভাত পরিবহনের বাস ঢাকায় চললো। তিনি সড়ক দুর্ঘটনার দায় সংশিস্নষ্ট সকলে এড়াতে পারেন না বলেও অভিমত রাখেন। অভিযোগ আছে, ট্রাফিক কর্মকর্তারা মাসোহারার ভিত্তিতে অন্যায় অনিয়মকে প্রশ্রয় দেন, এরাতো ডিএমপির অধীনে, ডিএমপি ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করছে অথচ সেই সংস’ার কর্মকর্তারা অনিয়ম-দুর্নীতিতে ডুবে আছেন তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে? অন্যদিকে রাজধানীতে অন্য এক আলোচনা সভায় আওয়মী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ গত বছর আগস্টে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও শিড়্গার্থীদের দাবি বাসত্মবায়ন কেন হয়নি তা সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয় ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস’ার কাছে জানতে চেয়েছেন।
দেখা যাচ্ছে গত বছর শিড়্গার্থীদের আন্দোলনের ৯ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও সড়ক দুর্ঘটনা পরিসি’তির কোন উন্নত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও উপেড়্গিত হয়ে রয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন হলে, তার কোন কার্যকর প্রয়োগ নেই, সড়ক দুর্ঘটনা এখন আরো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন অবাধে দেশের সর্বত্র চলাচল করছে, লাইসেন্সবিহীন চালকের হাতে মালিক গাড়ি তুলে দিচ্ছে। এতসব মর্মানিত্মক দুর্ঘটনার পরও মালিক, চালক শ্রমিক সংগঠনগুলি নির্বিকার। চট্টগ্রামে শিড়্গার্থীদের আন্দোলনের আশংকায় সিএমপি কমিশনার ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিড়্গার্থীদের বিরোধী দলের আন্দোলনের উৎস না হতে তাদের অনুরোধ জানান।
গত বুধবার জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠকে শিড়্গার্থীরা স্কুল-কলেজের জন্য বিআরটিসি বাস চালু, রাসত্মার প্রতিটি মোড়ে সংকেত ব্যবহার, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, জেব্রা ক্রসিং ও স্মিড ব্রেকার দেয়ার দাবি জানিয়েছে। এগুলো সবই যৌক্তিক এবং সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে জরম্নরি অথচ একাজগুলি দীর্ঘদিন ধরে করা হয়নি। চট্টগ্রাম মহানগরীর রাসত্মায় জেব্রা ক্রসিংয়ের চিহ্ন নেই। সংকেত বাতি কাজ করে না। ফুটওভার ব্রিজ নেই, ফুটপাত বেদখল তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা কিভাবে কমবে?
বিআরটিএ, ট্রাফিক বিভাগ এবং মালিক-শ্রমিকরা সচেতন হলে, সততার সাথে দায়িত্ব পালন করলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। কিন’ তারা তা করছেন না। তাহলে কেন তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস’া নেয়া হবে না তারা কি সরকারের চাইতেও শক্তিশালী-দেশবাসী তা জানতে চায়।