নিরাপদ সড়কের আন্দোলন

শিক্ষার্থীদের যে অনুরোধ করলেন পুলিশ কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা। এসময় বিরোধীদলের আন্দোলনের উৎস না হতে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেন সিএমপি কমিশনার। গতকাল দুপুরে দামপাড়া পুলিশ লাইনে সিএমপি কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘তোমাদের এ বয়সে আবেগ বেশি। এটা স্বাভাবিক। তোমাদের মাঠে নামানো সহজ। কিন’ তোমরা যখন মাঠে নামো, কুচক্রিমহল সক্রিয় হয়ে ওঠে। আমার অনুরোধ, তোমরা যাতে বিরোধীদলের আন্দোলনের উৎস না হও। আমরা তোমাদের সঙ্গে থাকব। এখানে কোনো রাজনীতি যেন স’ান না পায়। সবাই মিলে যাতে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি।’‘সড়ক সংকেত’ করার জন্য শিক্ষার্থীরা দাবি তুলে ধরলে পুলিশ কমিশনার দুই মাসের সময় নিয়ে বলেন, ‘এটা সিএমপি করবে।’ দুই মাসের মধ্যে নগরের স্কুলগুলোয় ট্রাফিক ভলান্টিয়ার কমিটি করা হবে বলেও ঘোষণা দেন সিএমপি কমিশনার। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন সিএমপির এ শীর্ষ কর্মকর্তা।
সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা হয় না, এমন কোন দেশ নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও ২০১৮ সালে ২৪ হাজার লোক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। একই বছর সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে মারা গেছে ৭ হাজার ২০০ লোক। দিনে মারা গেছে অন্তত ২০ জন। এটা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, এতে কোনো দ্বিমত নেই।’
ফুটপাত দখল বিষয়ে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ফুটপাত থেকে হকার তুলে দিতে আমরা প্রস’ত। কিন’ এটা সামাজিক সমস্যা। নগরে ৫০ হাজার হকারের সঙ্গে তাদের পরিবার-পরিজন মিলিয়ে ১০ লাখ লোক নানাভাবে জড়িত। আবার মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভরসা এ ফুটপাত। সবাই তো আর বড় শপিংমলে যেতে পারে না। ৫০ টাকায় শার্ট তো সেখানে পাওয়া যায় না।’
বৈঠকে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কুসুম দেওয়ান ও আমেনা বেগমসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপসি’ত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। এসময় শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজের জন্য বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালু, রাস্তার প্রতিটি মোড়ে সংকেত ব্যবহার করা, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, জেব্রা ক্রসিং ও স্পিডব্রেকার দেয়ার দাবি তুলে ধরেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই ঢাকায় বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারাদেশে রাস্তায় নেমে আসে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। চট্টগ্রামেও আন্দোলন হয়েছিল।