বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উৎসবে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

শিক্ষার্থীদের বই পড়ার পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক
Untitled-1

উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পরিচালিত দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের আওতায় চট্টগ্রাম মহানগরীর স্কুল পর্যায়ের-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের দু’দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসব শুরু হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে নগরীর মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন।
গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় উৎসবের তিনটি পর্বে ৯৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ৬ হাজার ৩৯২ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। গতকাল প্রথম দিনে ৬৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪ হাজার ৩১৩ জন ছাত্রছাত্রীকে পুরস্কার দেওয়া হয়। আজ শনিবার বিকাল ৩টায় নগরীর আরো ২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ হাজার ৭৯ জন ছাত্র-ছাত্রী পুরস্কৃত করা হবে।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের অভিনন্দন জানান। ছাত্র-ছাত্রীদের বেশি বেশি বই পড়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ দুই রকম। বড় মানুষ আর ছোট মানুষ। বড় মানুষই হচ্ছে আলোকিত মানুষ। তোমাদের জীবনকে ভাল ও উন্নত জিনিস দিয়ে ভরিয়ে তোলো। বড় হচ্ছে সেই রকম একটা জিনিস, যাতে আলো আছে। আর সেই আলো আসে বই থেকে।’
অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. মোহিত-উল-আলম, চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ও অতিরিক্ত সচিব দীপক চক্রবর্ত্তী, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, এভারেস্ট বিজয়ী একমাত্র বাংলাদেশী এমএ মুহিত, পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ সুফী মিজানুর রহমান, মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সাহেদুল কবির চৌধুরী, গ্রামীণফোনের হেড অব রিজিওনাল অপারেশনস টেকনোলজি মো. ফিরোজ উদ্দিন, সংগঠক আলেক্স আলীম, সমন্বয়কারী সুমি খান প্রমুখ।
পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে আবুল মোমেন বলেন, ‘একাডেমিক বইয়ের সাথে সাথে বাইরের বইগুলোও বেশি করে পড়বে। এ বইগুলো তোমাকে মানবিক হতে সহযোগিতা করবে। কারণ জিপিএ-৫ নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রকৃত জ্ঞানী তৈরি হয় না।
এম এ মুহিত বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষের ভিতরেই একটা এভারেস্ট রয়েছে। এ এভারেস্টটা হল তার স্বপ্ন। তোমরা স্বপ্ন দেখ এবং নিজের স্বপ্নের প্রতি অবিচল থাকো। দেখবে, প্রত্যেকেই যার যার এভারেস্টে উঠতে পারছো।’
আলহাজ সুফী মিজানুর রহমান বলেন, ‘তোমরা বই পড়ে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ও শেখ সাদীর মতো বিনয়ী ও উদার হবে।’
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যুগ্ম-পরিচালক (প্রোগ্রাম) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন।