এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলা

শিক্ষার্থীদের জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জামিন পেল প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া চট্টগ্রাম মহানগরী ও ফটিকছড়ির ১৮ শিক্ষার্থী। পাবলিক পরীক্ষা আইনে দায়ের করা মামলায় আইডিয়াল স্কুল, বাওয়া স্কুল ও ফটিকছড়ির তিন স্কুলের সকল শিক্ষার্থী জামিন পেলেও আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষিকা কোহিনূর আকতারের জামিন নামঞ্জুর করে আজ বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য্য করা হয়েছে।
গতকাল প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ও শিশু আদালতের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস এই আদেশ দেন।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী সুপ্রভাতকে বলেন, কোতোয়ালী থানার মামলায় সাত ছাত্র ও দুই ছাত্রীসহ নয়জনকে এবং খুলশী থানার মামলায় দুই ছাত্রীকে এবং ফটিকছড়ির সাত শিক্ষার্থীকে এক লাখ টাকার ঁ ২য় পৃষ্ঠার ১ম কলাম
মুচলেকায় জামিন দিয়েছে আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা আইনের ৯ (খ) ধারার উপধারা ১৩ অনুযায়ী বাওয়া স্কুল কেন্দ্র, দামপাড়া পুলিশ ইনস্টিটিউশন কেন্দ্র ও ফটিকছড়ি কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা বাদি হয়ে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করে। এসব মামলায় ১৮ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষককে আসামি করা হয়।
খুলশী থানার ওসি শেখ নাসির উদ্দিন সুপ্রভাতকে বলেন, খুলশি থানার মামলায় পুলিশ লাইন্স ইনস্টিটিউট থেকে আটক হওয়া বাওয়া স্কুলের ছাত্রী দুই বোন ও তাদের বাবাকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ লাইন্স ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রের সচিব বাদি হয়ে এ মামলা করেন। এএসসি পরীক্ষার্থী দুই বোনের বাবা পরীক্ষা শুরুর আগে মোবাইল ফোন থেকে প্রশ্ন বের করে উত্তর মিলিয়ে দেখছিলেন। পরবর্তীতে পরীক্ষার্থী দুই বোনকে আটক ও বহিষ্কার এবং তাদের বাবা এমরান হোসেনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। একইসাথে ফটিকছড়ি থানায়ও একটি মামলায় সাত জনকে আসামি করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সকালে পটিয়া থেকে আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থীদের বাওয়া স্কুলে কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে ওয়াসা মোড়ে নিয়ে আসা হয় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোরাদ আলী সেই বাসে অভিযান চালিয়ে সাতটি ট্যাব ও মোবাইল ফোন এবং দুটি খাতা আটক করেন। এসব ট্যাব, মোবাইল ও খাতায় প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। যাদের কাছে এগুলো পাওয়া যায় সেই ৯ জনকে আটক করে বহিষ্কার ও গ্রেফতার করে মামলায় আসামি করা হয়। বাসে থাকা বিজ্ঞানের বাকি ১৫ শিক্ষার্থীর কাছে কোনো ডিবাইজ ও খাতা না পাওয়া গেলেও প্রশ্নপত্র দেখার কারণে তাদেরকেও বহিষ্কার করা হয়। অপরদিকে পুলিশ লাইন স্কুল কেন্দ্রে বাওয়া স্কুলের দুই ছাত্রীর এবং ফটিকছড়িতে সাত শিক্ষার্থীর মোবাইলে প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়।