শারদীয় দুর্গোৎসব জমেছে কেনাকাটা

রম্নমন ভট্টাচার্য

পূজা মানে খুশি, পূজা মানে আনন্দ। বাঙালি হিন্দু সমপ্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা একেবারেই সন্নিকটে। গত ৮ অক্টোবর মহালয়া যাপনের মধ্য দিয়ে শুরম্ন হয়েছে পূজার সময় গণনা। মহালয়ার ৬ দিন পর মহাসপ্তমী। তাই পূজায় নতুন জামা-কাপড় পরে ঘুরে বেড়াতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এখন কেনাকাটায় ব্যসত্ম সময় পার করছেন। দিন-রাত সমানতালে চলছে কেনাকাটা। পূজা উপলড়্গে বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ছাড়।
ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও ফ্যাশন হাউসগুলোতে বেড়েছে ক্রেতার আনাগোনা। মার্কেট ও ফ্যাশন হাউসগুলোর পাশাপাশি ফুটপাতের কেনাকাটাও জমেছে। তবে বিভিন্ন মার্কেটে ঘোরাঘুরির ঝামেলা এড়াতে ক্রেতারা এক ছাদের নিচে সবকিছু পাওয়া যায় এমন দোকান ও মার্কেটগুলোতেই বেশি ভিড় করছেন।
দেশি কাপড়ের পাশাপাশি প্রায় সব দোকানেই রাখা হয়েছে পাকিসত্মান, ভারত ও চায়নার কাপড়। মুম্বাইর লেহেঙ্গা, গুজরাটের পার্টি শাড়ি, জামদানি শাড়ি, গরদ শাড়ি, জারদৌসি শাড়ি, থ্রি-পিসসহ বাহারি রঙ ও নানা ডিজাইনের কাপড়ের বিপুল সমাহার রয়েছে মার্কেটগুলোতে। ফ্যাশন হাউসগুলোর শোরম্নমে সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি শাড়ি, ফতুয়া ও বিভিন্ন রঙের ওড়না রয়েছে। ছেলেদের জন্য রয়েছে বাহারি ডিজাইনের পাঞ্জাবি ধূতি ও টি শার্ট।
গতকাল নগরীর চকবাজার, দেওয়ানজী পুকুর পাড়, টেরীবাজার, পৌর জহুর হকার্স মার্কেট, নিউমার্কেট, রিয়াজুদ্দীন বাজার এলাকার বিভিন্ন মার্কেট ও দোকান ও ফুটপাত ঘুরে মিলেছে এসব তথ্য ও চিত্র।
ব্যবসায়ী ও দোকানিরা জানান, ক্রেতাদের ভিড় সকালে একটু কম হলেও সন্ধ্যা থেকে বাড়ছে। বেচাবিক্রি মোটামুটি ভালোই। হাতে আরো ১-২ দিন সময় আছে। ক্রেতাদের সুবিধার্থে পূজা উপলড়্গে কেনাকাটায় বিশেষ ছাড় রয়েছে।
কথা হয় ব্যাটারি গলি থেকে দেওয়ানজী পুকুর পাড়ের অর্ণবে আসা শিড়্গক দেবব্রত ভট্টাচার্য্যের সাথে। জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘পূজা সন্নিকটে। হাতে সময় কম। এখানে এক ছাদের নিচে ছোট-বড় সবার জন্য সবকিছুই মেলে। সেজন্যই ছুটে আসা। বাচ্চাদের জন্য জামা, স্ত্রীর জন্য শাড়ি আর আমার জন্য পাঞ্জাবি ও শার্ট কিনব।’
এছাড়া কাপড়ের জন্য বিখ্যাত নগরের টেরীবাজারের দোকানগুলোতে দেখা গেছে তরম্নণী ও গৃহিণীদের ভিড়। এছাড়া কসমেটিকস ও জুতার দোকানগুলোতেও ভিড় ছিল লড়্গণীয়।
টেরীবাজারে স্বামীর সাথে আসা পূজা গুপ্তা বলেন, ‘প্রতিবছর টেরীবাজারের দোকানগুলোতেই আগে ছুটে আসি। এবারও আসলাম। পরিবারের সবার জন্য কেনা হয়ে গেছে। এবার নিজের জন্য শাড়ি, জুতা ও কসমেটিকস কিনব।’
পৌর জহুর হকার্স মার্কেটে অন্য ক্রেতার পাশাপাশি তরম্নণদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। কারণ তরম্নণদের হাল ফ্যাশনের সবকিছু এখানে পাওয়া যায়। তাই ভিড় বেশি তরম্নণদের।
পশ্চিম বাকলিয়া থেকে পৌর জহুর হকার্স মার্কেটে আসা অপূর্ব ধর বলেন, ‘এখানে তরম্নণ ও যুবকদের ফ্যাশনের সবকিছুই পাওয়া যায়। সেজন্য নিজের ও ছেলের জিন্স প্যান্ট ও গেঞ্জি কিনতে আসলাম। ঘুরে দেখছি, পছন্দ হলেই কিনে নেব।’