প্রধানমন্ত্রীর উৎসব উপহার

শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া

মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তচ্যুত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আনন্দময় পরিবেশে উদযাপন করছে। জেলা প্রশাসকের আয়োজনে কুতুপালং ক্যাম্পে শারদীয় দুর্গোৎসবে আনন্দমুখর পরিবেশে দিন কাটাচ্ছেন হিন্দু রোহিঙ্গারা। দুর্গাপূজার পাশাপাশি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা উৎসব উপলক্ষে উভয় ধর্মের হতদরিদ্র পরিবার পিছু ৩ হাজার টাকা করে ২১০১টি পরিবারের মধ্যে ৬৩ লাখ ৩ হাজার বিতরণ শুরু করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রদত্ত উপহার হিসেবে বুধবার থেকে এ টাকা দেয়া হচ্ছে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক স্বপন শর্মা রনি, এডভোকেট রবীন্দ্র দাশ রবি জানান, অন্যান্য বছর ৪টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হলেও প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এবার উখিয়ায় ৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব পালিত হচ্ছে। অর্থ সম্পাদক সজল কান্তি ধর জানান, হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, শাড়ি, লুঙ্গি ছাড়াও নগদ ৩ হাজার টাকা করে প্রধানমন্ত্রীর উৎসব উপহার প্রদান করায় বিগত যে কোনো সময়ের তুলনায় এবারের দুর্গোৎসব পালিত হচ্ছে জাঁকজমক পূর্ণ পরিবেশে।
পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দ বলেন, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হিন্দু রোহিঙ্গারা তাদের ক্যাম্পে দুর্গোৎসব পালন করতে পেরে উৎসবের আমেজে আছে। কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা পূজা উদযাপন পরিষদ সাধারণ সম্পাদক মধুরাম পাল জানান, তারা মিয়ানমারে কোনো সময় পূজা-পার্বণ পালন করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করতে পেরে তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। গতকাল সন্ধ্যা ৬ টার দিকে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী, সহকারী কমিশনার-ভূমি, থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের, স’ানীয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, স’ানীয় ইউপি সদস্য বখতিয়ার আহম্মদ কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আয়োজিত শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শন করেন।