শততম বর্ষে বঙ্গবন্ধ

আবুল মোমেন

১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। এবার তাঁর শততম জন্মদিবস। একশ বছর আগে এই দিনে তিনি বাংলাদেশের অজপাড়া গাঁয়ে এক সাধারণ গৃহস’ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সাধারণ স্কুলে তাঁর লেখাপড়া শুরু হয়। কিন’ স্কুলের ওপরের শ্রেণিতে উঠতে না উঠতেই তাঁর নেতৃত্বগুণের প্রকাশ ঘটতে থাকে। ওই বয়সেই তিনি সহপাঠী বন্ধুদের নিয়ে খেলাধুলা এবং সমাজকর্মে মেতে উঠেছিলেন। কখনও কখনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। জীবনের সূচনাতেই তাঁর মধ্যে মানবদরদ এবং সমাজহিতৈষী মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছিল। এই মনোভাব বরাবর তাঁর ভিতরে কাজ করেছে। যুবক বয়সে তিনি রাজনীতিতে উৎসাহী হয়ে ওঠেন এবং মুসলিম লীগের কর্মী হিসেবে পাকিস্তান আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অনুরক্ত। তবে একই সাথে আবুল হাশিম এবং শেরে বাংলা ফজলুল হকের প্রতিও তাঁর গভীর শ্রদ্ধাবোধ ছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির পরে বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব হারান এবং কারাবন্দি হন। তবে কারাগার থেকেই তিনি ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। যারা ভাষা আন্দোলনে মাঠ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তারা অনেক সময় তরুণ শেখ মুজিবের কাছ থেকে বুদ্ধিপরামর্শ নিয়েছেন। এভাবে তাঁর নেতৃত্ব সবসময়ই দেশের শুভ কাজে ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পেছনেও তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা কম ছিল না। এর আগে ১৯৪৯ সনে মুসলিম লীগ নেতাদের ওপর আস’া হারিয়ে তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে এগিয়ে আসেন। পরে এই দলই আওয়ামী লীগ নামে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তার পরের ইতিহাস কেবলই বঙ্গবন্ধুর নিজের এগিয়ে যাওয়া এবং দেশের রাজনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার ইতিহাস। পুরো ষাটের দশক জুড়ে বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষকে গণতন্ত্র এবং স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনে জাগিয়ে তোলেন। তাঁর ছয়দফা মানুষের প্রাণের দাবিতে রূপান্তরিত হয়। এর ওপর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা তিনি যে সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন তাতে তাঁর নেতৃত্ব এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যায়। ’৬৯-এর গণআন্দোলনের সময় তাঁর মুক্তি ছিল মানুষের প্রধান দাবি। জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁদের প্রিয় নেতাকে মুক্ত করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা পাকিস্তানের লৌহমানব আয়ুব খানকে গদিচ্যুত করে। এরপরে তাঁর নেতৃত্বে পূর্ব বাংলার জনগণ ১৯৭০ এর নির্বাচনে ছয়দফার পক্ষে ম্যাণ্ডেট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করে। তার পরের ইতিহাস সকলেরই জানা। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের সকল ষড়যন্ত্র ও বর্বরতার সমুচিত জবাবের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। মুজিব কারাবন্দি থেকেও এ যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর কণ্ঠস্বর ও বক্তৃতা মানুষকে প্রেরণা দিয়েছে আত্মত্যাগে ও সর্বোচ্চ বীরত্ব প্রদর্শনে। তিনি বাঙালিকে এক বীরের জাতিতে রূপান্তরিত করেছিলেন।
১৭ মার্চ থেকে শুরু হবে বঙ্গবন্ধুর শততম বর্ষ। আমরা সারা বছর এই মহান নেতার জীবন ও কর্ম সম্পর্কে আলোচনা করব এবং এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করব। আশা করি সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের এই চর্চা সূচনা হবে।

১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। এবার তাঁর শততম জন্মদিবস। একশ বছর আগে এই দিনে তিনি বাংলাদেশের অজপাড়া গাঁয়ে এক সাধারণ গৃহস’ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সাধারণ স্কুলে তাঁর লেখাপড়া শুরু হয়। কিন’ স্কুলের ওপরের শ্রেণিতে উঠতে না উঠতেই তাঁর নেতৃত্বগুণের প্রকাশ ঘটতে থাকে। ওই বয়সেই তিনি সহপাঠী বন্ধুদের নিয়ে খেলাধুলা এবং সমাজকর্মে মেতে উঠেছিলেন। কখনও কখনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। জীবনের সূচনাতেই তাঁর মধ্যে মানবদরদ এবং সমাজহিতৈষী মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছিল। এই মনোভাব বরাবর তাঁর ভিতরে কাজ করেছে। যুবক বয়সে তিনি রাজনীতিতে উৎসাহী হয়ে ওঠেন এবং মুসলিম লীগের কর্মী হিসেবে পাকিস্তান আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অনুরক্ত। তবে একই সাথে আবুল হাশিম এবং শেরে বাংলা ফজলুল হকের প্রতিও তাঁর গভীর শ্রদ্ধাবোধ ছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির পরে বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব হারান এবং কারাবন্দি হন। তবে কারাগার থেকেই তিনি ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। যারা ভাষা আন্দোলনে মাঠ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তারা অনেক সময় তরুণ শেখ মুজিবের কাছ থেকে বুদ্ধিপরামর্শ নিয়েছেন। এভাবে তাঁর নেতৃত্ব সবসময়ই দেশের শুভ কাজে ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পেছনেও তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা কম ছিল না। এর আগে ১৯৪৯ সনে মুসলিম লীগ নেতাদের ওপর আস’া হারিয়ে তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে এগিয়ে আসেন। পরে এই দলই আওয়ামী লীগ নামে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তার পরের ইতিহাস কেবলই বঙ্গবন্ধুর নিজের এগিয়ে যাওয়া এবং দেশের রাজনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার ইতিহাস। পুরো ষাটের দশক জুড়ে বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষকে গণতন্ত্র এবং স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনে জাগিয়ে তোলেন। তাঁর ছয়দফা মানুষের প্রাণের দাবিতে রূপান্তরিত হয়। এর ওপর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা তিনি যে সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন তাতে তাঁর নেতৃত্ব এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যায়। ’৬৯-এর গণআন্দোলনের সময় তাঁর মুক্তি ছিল মানুষের প্রধান দাবি। জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁদের প্রিয় নেতাকে মুক্ত করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা পাকিস্তানের লৌহমানব আয়ুব খানকে গদিচ্যুত করে। এরপরে তাঁর নেতৃত্বে পূর্ব বাংলার জনগণ ১৯৭০ এর নির্বাচনে ছয়দফার পক্ষে ম্যাণ্ডেট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করে। তার পরের ইতিহাস সকলেরই জানা। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের সকল ষড়যন্ত্র ও বর্বরতার সমুচিত জবাবের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। মুজিব কারাবন্দি থেকেও এ যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর কণ্ঠস্বর ও বক্তৃতা মানুষকে প্রেরণা দিয়েছে আত্মত্যাগে ও সর্বোচ্চ বীরত্ব প্রদর্শনে। তিনি বাঙালিকে এক বীরের জাতিতে রূপান্তরিত করেছিলেন।
১৭ মার্চ থেকে শুরু হবে বঙ্গবন্ধুর শততম বর্ষ। আমরা সারা বছর এই মহান নেতার জীবন ও কর্ম সম্পর্কে আলোচনা করব এবং এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করব। আশা করি সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের এই চর্চা সূচনা হবে।