ফাইনালে ফিলিস্তিন

লড়াই করেও জয় পেলো না বাংলাদেশ

এ জে এম হায়দার, কক্সবাজার থেকে

ম্যাচ পূর্ব শঙ্কাই সঠিক হয়েছে, দৈহিক দিক দিয়ে অনেকটা এগিয়ে থাকা ফিলিস্তিন দলের সাথে সমানতালে পাল্লা দিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে হার মানে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে গোলকিপার আশরাফুল রানার একক কৃতিত্বে ব্যবধান বাড়াতে পারেনি র্যাংকিকে প্রায় একশ ভাগ এগিয়ে থাকা দলটি।
আগামীকাল ঢাকায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের ৫ম আসরের ফাইনালের ফিলিস্তিন দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে। ফাইনাল দ্বৈরথ সেয়ানে সেয়ানে হবে-একথা নিশ্চিত করেই বলা যায়। নিজ দলের পরাজয়ে হতাশ নন স্টেডিয়াম পূর্ণ প্রায় ১৫ হাজার দর্শক। টিকেট কিনে স’ান সংকুলানের অভাবে মাঠে প্রবেশের সুযোগ পাননি আরো হাজার খানিক দর্শক। তবে খেলা শেষে বাহবা দিতে কার্পণ্য করেননি তারা। লোকাল চার জনের কেউ প্রথম একাদশে স’ান পাননি। খেলার ৭৫ মিনিটে ডিফেন্ডার বিপলুর পরিবর্তে মহেশখালীর ছেলে তৌহিদুল ইসলাম সবুজকে নামানো হলেও দর্শকদের তৃপ্ত করতে ব্যর্থ হন।
গত কয়েক দিন ধরে অব্যাহত হালকা বৃষ্টি ও ঠাণ্ডা আবহাওয়ার সুবাদে ফিলিস্তিন দল বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। কক্সবাজারের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে গতকাল শুরু থেকেই গুছিয়ে আক্রমণ শানিয়ে স্বাগতিক রক্ষণভাগকে চাপে রাখে ওয়ালদালির শিষ্যরা। প্রথম মিনিটেই খালেদ সালিমের বক্স থেকে নেয়া জোরালো শট রানা প্রতিহত করেন। অবশ্য গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়নি তাদের। ৮ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে বাত্তাবের ক্রসে বক্সে একেবারে ফাঁকায় থাকা মোহাম্মদ বালাহ অসাধারণ হেডে জালের ঠিকানা খুঁজে পান (১-০)। দুই মিনিট পরেই আবারো ডানপ্রান্ত থেকে উড়ে আসা বলে খালেদ সালেমের দুর্দান্ত হেড ক্রসবারে লাগলে ব্যবধান ২-০ হয়নি। পরের মুহূর্তে বক্সের বাইরে থেকে আবারো বালাহ’র বিপজ্জনক শট রানা প্রতিহত করেন।
কোণঠাসা থাকা জেমি ডে’র শির্ষ্যরা সমতা আনার প্রথম সুযোগ পায় ২১ মিনিটে। বামপ্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে মাহবুবুর শট নিতে দেরি করায় প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার বিপদমুক্ত করেন। আরেকবার ২৮ মিনিটে বিপলুর সেন্টারে মাহবুবুরের হেড ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে প্রতিহত হলে স্বাগতিক শিবিরে হতাশা বাড়ে। ৫ মিনিট পর ফিলিস্তিন দলের ওদে দাভাঘের দর্শনীয় শট আবারো রানা ঠেকিয়ে দেন।
৪৪ মিনিটে ওয়ালি ফয়সালের সেন্টারে বিপলুর হেড সরাসরি কিপারের হাতে চলে যায়। ৪৫ মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে জোরালো শট নিলেও বল সবাইকে হতাশ করে বাইরে চলে গেলে সমতা ফেরা হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১৫ মিনিট পর্যন্ত গোল পরিশোধের সুযোগ করেছে জামাল ভূঁইয়ার দল। এ অর্ধের ৫ম মিনিটে বাদশার থ্রোতে কিপার পরাস্ত হলেও বিপলুর শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়।
১৬ মিনিটে পরপর তিনবার কর্নার পেলেও প্রতিবারই স্বাগতিক দলের ফরোয়ার্ডদের নেয়া শট ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে প্রতিহত হলে আবারো হতাশায় তাকেন সমর্থকরা। ছন্দে থাকা ফিলিস্তিনি দল ৪৩ মিনিটে গোল বঞ্চিত হয়। বদলি ইসলাম বাটরান বামপ্রান্ত দিয়ে ঢুকে শট নিলে বল সাইডবার ঘেষে চলে যায়। তবে ইনজুরি সময়ের শেষ দিকে বক্সের ডানপ্রান্ত থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে সুন্দর শটে ব্যবধান ২-০ করেন সামেহ মারাবা।
ম্যাচসেরা ফিলিস্তিন দলের অধিনায়ক আল বাধারির হাতে প্রাইজমানি তুলে দেন কক্সজাবার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন। এ সময় বাংলাদেশস’ ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রামাদান, বাফুফের নির্বাহী সদস্য ও সাবেক জাতীয় ফুটবলার বিজন বড়-য়া ও জেলা ফুটবল সমিতির সিনিয়র কর্মকর্তা জসিমউদ্দিন উপসি’ত ছিলেন।
দু’দলে যারা খেলেছেন-
ফিলিস্তিন : রামি হামাদা, ইয়াজান, তামের সালাহ, সাদি শাবান, বাত্তাত, জনাথন (রশিদ), খালেদ সালেম (ইসলাম), আল বাধারি, ব্রাভো, দাবাঘ, বালাহ।
বাংলাদেশ : রানা, ওয়ালি ফয়সাল (রহমত মিয়া), তপু বর্মন, বাদশা, জামাল, ইমন মাহমুদ (রবিউল), জীবন, বিশ্বনাথ, বিপলু (সবুজ), মাহবুবুর, জনি । রেফারি : মো. জাইদ (ইরাক)।