লোহাগাড়ায় ইটভাটার জন্য কাটা হচ্ছে পাহাড়-টিলা

নুরুল ইসলাম, লোহাগাড়া

লোহাগাড়ায় পাহাড়-টিলাবেষ্টিত চরম্বা ইউনিয়নের জমাদার পাড়া এলাকায় ইটভাটা স’াপনের লক্ষে কাটা হচ্ছে টিলা। টিলা কাটতে ব্যবহৃত হচ্ছে স্কেভেটর। ইতোমধ্যে টিলা কেটে বিশাল এলাকা সমান করা হয়েছে। ইট তৈরির কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহারের জন্য স্তূপ করা হয়েছে টিলাকাটা মাটি। ইটভাটা স’াপনের সেই জমাদার পাড়ায় রয়েছে টংকাবতী রাবার ড্যামের আওতায় আবাদের বোরো ফসল। চারপাশে রয়েছে বসতি। এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল জমাদার পাড়ায় অবৈধভাবে ইটভাটা স’াপনের জন্য কাজ করছে। মাটিকাটার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে দু’টি স্কেভেটর। এ মহলটি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ইটভাটা স’াপনের কাজ করছে বলে জানা গেছে। তাও আবার অবৈধভাবে। স’ানীয় লোকজনের মতে, এখানে ইটভাটা স’াপন করা হলে বোরো ফসলসহ মৌসুমী যে কোনো ফসলের ক্ষতি হবে।
এ ব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীম হোসেন জানান, ইটভাটার ধোঁয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে এ ক্ষেত্রে তাদের কিছু করার কোনো সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। লোহাগাড়া উপজেলা ভূমি অফিসের কানুংগো হরিশচন্দ্র চাকমা সাংবাদিকদের জানান, চরম্বা ইউনিয়নে ইটভাটা সম্পর্কিত কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। যে যার মতো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে ইটভাটা স’াপনের ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ অপরিহার্য বলে মনে করেন এলাকার সচেতনমহল। অন্যথায় এলাকার চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষতি হবে। শুধু তাই নয়, ইটভাটার ধোঁয়ায় লোকজনের শ্বাসকষ্ট ও কাশিসহ নানা রোগ হতে পারে। স’ানীয়দের মতে, চরম্বা ইউনিয়নে ১৭টি ইটভাটা রয়েছে। যা পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এদিকে লোহাগাড়ায় পাহাড়-টিলাবেষ্টিত চুনতিসহ বিভিন্নস’ানে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নে বিবিরবিলা এলাকায় পাহাড় কাটা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স’ানীয় লোকজন। একটি মহল সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত পাহাড়ি মাটি কেটে বিক্রি করছে বলে অভিজ্ঞমহল জানান। অথচ কোনোভাবেই পাহাড়-টিলা কাটা যাবে না বলে নিষেধ রয়েছে। সেই নিষেধ উপেক্ষা করে একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি যার যার মতো করে পাহাড় কেটে নিয়ে যাচ্ছে মাটি। কেউ বা স’াপন করছে ইটভাটা এবং অন্যরা পাহাড় কেটে স’াপন করছে বসতি। চুনতী ইউনিয়নের বিভিন্নস’ানে পাহাড় কাটা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। বিশেষ করে চুনতি মুন্সেফ বাজার থেকে শুরু করে পানত্রিশা পর্যন্ত ইসহাক মিয়া সড়ক নির্মাণে পাহাড় কাটা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে খবরদারি-নজরদারি কর্তৃপক্ষ নিরব ভূমিকায় রয়েছে বলে সচেতনমহলের অভিযোগ। পাহাড় কাটার কারণে বর্ষামৌসুমে বিভিন্নস’ানে পাহাড় ভেঙে মাটি পড়ছে। ফলে যানবাহন চলাচল ও পথিকদের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাহাড় কাটার কারণে বনজ সম্পদেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। খাদ্য ও আশ্রয়স’ল হারাচ্ছে বনাঞ্চলের পাখিরাসহ অন্যান্য প্রাণী। এ ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকার সচেতনমহল।