লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখছেন খামারিরা

ভূঁইয়া নজরুল

দু’বছরেও কমবে না ডিমের দাম! খুচরা বাজারে এখন প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১০৮ টাকা। অথচ ছয় মাস আগেও প্রতি ডজন এই ডিমের মূল্য ছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে গত আগস্টজুড়ে ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও গত মাস থেকে তা ১০০ টাকা পেরিয়ে বিক্রি হচ্ছে।
পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে দিনে ৭০ লাখ ডিমের প্রয়োজন, বিপরীতে উৎপাদিত হয় ২০ লাখ। বাকি ডিমের যোগান দিয়ে থাকে দেশের উত্তর মধ্যাঞ্চলের (ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, শেরপুর, বগুড়া প্রভৃতি) এলাকার খামারগুলো।
জানতে চাইলে চিটাগাং চেম্বারের পরিচালক ও নাহার এগ্রো গ্রুপের ব্যবস’াপনা পরিচালক রকিবুর রহমান টুটুল বলেন, ‘এতোদিন খামারিরা লোকসান দিয়ে ডিম বিক্রি করেছে। এখন পর্যাপ্ত দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে এবং আগামী দুই বছরেও এই দাম কমার সম্ভাবনা নেই।’
তিনি আরো বলেন, মুরগির বাচ্চা, ওষুধ, খাবার ও ব্যবস’াপনায় যে খরচ হয় তা দিয়ে খামারিরা পোষাতে পারে না। এতোদিন তারা লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে করতে এখন খামারই বন্ধ করে দিয়েছে এবং এতে উৎপাদন কমে গেছে।
ক্ষতি পোষাতে না পারে চট্টগ্রামের প্রায় ৪০ শতাংশ খামারি ডিম উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে জানিয়ে চট্টগ্রাম পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রিটন চৌধুরী বলেন, ‘খুচরা বাজারে যখন ৭০ টাকা ডজন বিক্রি হতো তখন খামারিরা প্রতি পিস ডিমে ৪ টাকা ৫০ পয়সা পেতো। কিন’ একটি ডিমের পেছনে প্রায় ৭ টাকা খরচ হয়। সেই হিসেবে এখন যে দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে এতে খামারিদের প্রতি পিস ডিমে ২৫ পয়সা লাভ থাকে।’
একজন মানুষকে প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়া প্রয়োজন জানিয়ে পোল্ট্রি বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা এবং ভেটেরিনারি ও এনিমেল সাইয়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (বহি:) প্রফেসর ড. এ কে এম সাইফুদ্দিন বলেন, ‘ডিম প্রাণীজ প্রোটিনের মধ্যে অন্যতম। ডিমের অনেক উপকারি গুণ রয়েছে। প্রত্যেকের দিনে একটি করে ডিম খাওয়া প্রয়োজন। কিন’ যারা ডিম উৎপাদন করছে তারা ডিমের ন্যায্য দাম এতোদিন পায়নি। একারণে অনেক খামারি উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন খুচরা বাজারে যে দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে তা সামান্য বেশি। এজন্য সরকারের উচিত খামারি, মধ্যস্বত্বভোগী ও বিক্রেতাদের মধ্যে সমন্বয় করে দামটা সহনীয় পর্যায়ে রাখা।
একই মন্তব্য করে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘দেশের একটি অভ্যন্তরীণ খাত হলো পোল্ট্রি। এখাত দেশে কর্মসংস’ান যেমন বেড়েছে, পাশাপাশি বিদেশ থেকে ডিম আমদানিও কমিয়েছে। এখন দেশেই পোল্ট্রিখাদ্য ও ওষুধ উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদন বাড়াতে এবং বাজার সি’তিশীল রাখতে অবশ্যই ক্ষুদ্র খামারিদের বাঁচাতে হবে।’
তবে ডিমের দাম বেশি নয় জানিয়ে জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক বলেন, ৮ টাকায় একটি ডিম পাওয়া অবশ্যই বিরাট ব্যাপার। এর চেয়ে কমালে খামারিরা বাঁচবে না। খামারিদের না বাঁচালে ডিম কোথা থেকে আসবে?
বিশ্বজুড়ে আজ পালিত হবে বিশ্ব ডিম দিবস। এবারের ডিম দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়, ‘প্রোটিন ফর লাইফ’। আমাদের দেশে ডিম দিবসের স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সুস’ সবল জাতি চাই, সব বয়সেই ডিম খাই’। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর র্যালি ও সেমিনারের আয়োজন করেছে।