টেকনাফের আনসার ক্যামেপ হামলা

লুটের ১০ অস্ত্র ও ১৮৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার, ৩ রোহিঙ্গা আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ ও উখিয়া
উখিয়া সীমান্তের তুমব্রুর গহীন অরণ্য থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলি -সুপ্রভাত
উখিয়া সীমান্তের তুমব্রুর গহীন অরণ্য থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলি -সুপ্রভাত

দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারি ‘রোহিঙ্গা আনসার ক্যাম্পে হামলা : ৮ মাস পরও উদ্ধার হয়নি টেকনাফে লুট হওয়া অস্ত্র’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর গত সোমবার রাত ১০টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং বস্তি থেকে দুই রোহিঙ্গাকে একটি পিস্তল ও একটি ওয়ান শুটার গানসহ আটক করে কক্সবাজার র্যা ব-৭ এর একটি দল।
ওই দুই রোহিঙ্গার একজন কুতুপালং শিবিরের নিবন্ধিত শরণার্থী মৃত মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে খাইরুল আমিন (৩৫)। অন্যজন একই ক্যাম্পের নজির আহমদের ছেলে মাস্টার আবুল কালাম আজাদ (৩০)।
এরপর আটককৃতদের তথ্য অনুসারে গতকাল মঙ্গলবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া ১০টি অস্ত্র, ১৮৯ রাউন্ড গুলি, ২৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে র্যা ব সদস্যরা। ঘটনাস’ল থেকে নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের নিবন্ধিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ হাসানকেও (৩০) আটক করতে সক্ষম হন তারা।
গতকাল দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত ঘুমধুমের গহীন তুমব্রু পাহাড়ে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে মাটির নিচ থেকে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির মধ্যে গত ২০১৬ সালের ১৩ মে টেকনাফ হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরের আনসার ক্যামেপ হামলা চালিয়ে লুট করা অস্ত্রের ৫টি এবং গুলির ১৮৯ রাউন্ড রয়েছে। এছাড়াও সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত ৩টি শুটারগান, একটি এলজি, একটি সিক্স এমএম পিস্তল ও ২৬ রাউন্ড গোলাবারুদ, ৮টি ম্যাগজিন ও অস্ত্র পরিষ্কারের সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকালের অভিযানে অস্ত্র উদ্ধারের পরপর ঘটনাস’ল পরিদর্শন করেন র্যা বের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ ও আনসার ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মিজানুর রহমান খান। পরে তুমব্রু পুরান পাড়া এলাকায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে র্যা বের প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পাহাড়ের গর্তে লুকিয়ে রাখা আনসার ক্যামেপর অস্ত্র ও গুলি সাংবাদিকদের দেখান র্যা ব সদস্যরা।
এসময় র্যা বের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, ‘আটককৃত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির গহীন পাহাড়ে অভিযান চালায় র্যা ব সদস্যরা। অভিযান চালিয়ে ১০টি অস্ত্র, ১৮৯ রাউন্ড গুলি ও ২৬ রাউন্ড দেশি বন্দুকের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি এসএমজি, ৪টি চাইনিজ রাইফেলসহ ৫টি অস্ত্র ও ১৮৯ রাউন্ড গোলাবারুদ আনসার ক্যাম্প থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্র।’
তিনি আরো বলেন, ‘টেকনাফে আনসার ক্যামেপ হামলা চালিয়ে লুট হওয়া বাকি অস্ত্রগুলোও এখানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই আগামী ২-৩ দিন এখানে অভিযান চলবে। আশা করি, বাকি অস্ত্রগুলোও পাওয়া যাবে।’
আনসারের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘নাইক্ষ্যংছড়িতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে আনসার ক্যামেপর ৫টি অস্ত্র ও ১৮৯ রাউন্ড গুলি রয়েছে। অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করায় র্যা বকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।’
ব্রিফিংকালে র্যা ব ও আনসারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দও উপসি’ত ছিলেন।
গত ১৩ মে দিবাগত রাতে টেকনাফ হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরের শালবন আনসার ক্যামেপ হামলা চালায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। ওই সময় আনসার কমান্ডার মো. আলী হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে অস্ত্রাগার থেকে ১১টি অস্ত্র ও ৬৭০ রাউন্ড গুলি লুট করে পালিয়ে যায় তারা। চলে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীদের দায়ের কোপে আহত হন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের এক নাগরিক।
এর আগেও ২০১৫ সালের ১৫ মার্চ নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ডাকাতদের সঙ্গে আনসার সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই আনসার সদস্য আহত ও এক ডাকাত নিহত হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন