লালখান বাজার ইস্পাহানি মোড় চরম ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার

গাড়ির ফাঁকে ফাঁকে মানুষ রাসত্মা পার হয় : ডিসি ট্রাফিক    ষ শিগগিরই শুরম্ন হবে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের কাজ : চসিক কাউন্সিলর

ভূঁইয়া নজরম্নল

লাশের অপেড়্গায় লালখান বাজার ইস্পাহানি মোড়! লাশ দেখা ছাড়া যেনো এই মোড়ে রাসত্মা পারাপারে পথচারীদের নিরাপত্তায় কেউ এগিয়ে আসবে না। প্রতিদিন হাজারো মানুষ মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে রাসত্মা পার হচ্ছে।

লালখান বাজার এলাকার বাসিন্দা এ জেড এম হায়দার সম্প্রতি সকাল বেলা রাসত্মা পার হতে গিয়ে মোটরসাইকেলের আঘাতে রাসত্মায় পড়ে যান। এটি যদি কোনো বড় গাড়ির আঘাত হতো তাহলে হয়তো ঘটনাস’লেই মৃত্যু হতো এ জেড এম হায়দারের। শুধু তিনি নন, প্রতিদিন হাজারো মানুষ এভাবে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে লালখান বাজার মোড় পারাপার করছে। এই মোড়ের ঝুঁকির কথা উলেস্নখ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপড়্গের (সিডিএ) একজন নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, প্রায়ই রাসত্মার এপাড় থেকে ওপাড়ে হেঁটে যেতে হয়। আর মোড়ে ডিভাইডারে কোনো ফাঁকা না থাকায় সরম্ন রাসত্মা দিয়ে পার হতে হয়। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিতে হয় রাতে রাসত্মা পার হতে।

রাতের বেলা কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাড়ির হেড লাইটের কারণে গাড়িটি কতো দূরত্বে রয়েছে তা বুঝা যায় না। এছাড়া ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় কোনো গাড়ি চিটাগাং ক্লাবের দিকে যাওয়ার সময়

পেছন থেকে টাইগারপাসমুখী গাড়ি সজোরে চলে আসে। এতে কোন দিকে যাবো তা বুঝে উঠা যায় না।

রাতে রাসত্মা পারাপারে দুর্ঘটনার শঙ্কা শুধু সিডিএ’র সেই প্রকৌশলীর নয়, প্রায় সকল পথচারীর। কারণ, আখতারম্নজ্জামান ফ্লাইওভার থেকে গাড়িগুলো খুব দ্রম্নত গতিতে নেমে আসে। কোনো গাড়ি চিটাগাং ক্লাবের দিকে যায় আবার কোনো গাড়ি সোজা টাইগার পাসের দিকে যায়। এতে করে গাড়ির গতিবিধি বুঝা খুব কঠিন হয়ে উঠে। আর এই স’ানে রাসত্মার চওড়া অনেক বেশি। কোনোভাবে পিটস্টপ প্রানত্ম থেকে পার হয়ে রোড ডিভাইডারে গিয়ে দাঁড়ানোর জায়গা নেই। ওপ্রানত্ম ( টাইগারপাস) থেকে আসা গাড়িগুলো দ্রম্নত ওয়াসার দিকে যায়। সেখানে রাসত্মার চওড়া কম হলেও গাড়ির গতিবেগ বেশি থাকে। তাই  দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।

পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ শহীদুলস্নাহ বলেন, ‘এখানে তো মানুষ পারাপার হয় গাড়ির ফাঁকে ফাঁকে। খুবই ঝুঁকি নিয়ে মানুষ রাসত্মা পারাপার হচ্ছে। এই স’ানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশন ও সিডিএকে চিঠি দিয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, শুধু এই স’ান নয়, নগরীর ষোলশহার দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা মোড়, লালখান বাজার মোড়, টাইগারপাস মোড়সহ গুরম্নত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ প্রয়োজন। ইতিমধ্যে যেখানে যেখানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মিত হয়েছে সেগুলো মানুষ ব্যবহার করছে, যা ইতিবাচক।

এগিকে লালখান বাজার মোড় মানুষের রাসত্মা পারাপারের ঝুঁকিপূর্ণ উলেস্নখ করে ইতিমধ্যে রোববার ‘নাগর ও নাগরিক’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন পথচারীদের কাছ থেকে গণস্বাড়্গর কর্মসূচি পালন করেছে। এবিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, ‘দেশে বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে সরকারের সংস’াগুলোর টনক নড়ে না। তেমনিভাবে লালখান বাজার মোড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ মারা না গেলে এই মোড়ের নিরাপদ পারাপার রড়্গায় কেউ এগিয়ে আসবে না।’

নিরাপদ পারাপার বলতে কি বুঝাতে চাইছেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, লালখান বাজার মোড়ে একটি আধুনিক আন্ডারপাস প্রয়োজন। কারণ, এই স’ানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কথা রয়েছে। তাই সড়কের নিচ দিয়ে আন্ডারপাস হলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সমস্যা হবে না।

কিন’ এখনই আন্ডারপাস নির্মাণের সময় আসেনি উলেস্নখ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স’ানীয় ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এফ এম কবির আহমেদ মানিক বলেন, ‘এই স’ানে একটি ফুটওভার নির্মাণের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সিদ্ধানত্ম রয়েছে। এই সিদ্বানেত্মর আলোকে এখানে শিগগিরই ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।’

নগরীর মুরাদপুর মোড়ে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করেছিল সিডিএ। জিইসি মোড়ে অর্ধ নির্মাণ অবস’ায় বন্ধ করে দিয়েছে। লালখান বাজার মোড়টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে ফ্লাইওভার থেকে গাড়ি নামার কারণে। তাই এই স’ানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ‘আখতারম্নজ্জামান ফ্লাইওভার প্রকল্প শেষ। তাই সেই প্রকল্পের অধীনে আর ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশন নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের পয়েন্টের মধ্যে এই স’ানটি হয়তো থাকবে।’

উলেস্নখ্য, লালখান বাজার ইস্পাহানি মোড়ে রাসত্মা পারাপারের জন্য কোনো জেব্রা ক্রসিংও নেই। রাসত্মা পার হওয়ার জন্য পথচারীদের হয়তো ম্যাজিস্ট্রেট কলোনির সামনে দিয়ে পার হতে হয়। কিন’ এরজন্য আমিন সেন্টার পয়েন্ট কিংবা পিটস্টপ পয়েন্ট থেকে ছোটো দুটি রাসত্মা পার হয়ে অনেক দূর হেঁটে আসতে হবে পথচারীদের। আর হেঁটে এলেও এই পয়েন্ট দিয়েও ঝুঁকি রয়েছে।