লামা-আলীকদমে খাল পুনর্খননে নয়-ছয়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, লামা

বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলায় চলতি অর্থ বছরে ১ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি খাল/ছড়া পুনর্খনন প্রকল্পর নামে কর্তৃপক্ষ অর্থ অপচয় করছেন এমন অভিযোগ করেছেন স’ানীয়রা। সরেজমিন তদন্তে দেখা মেলে খনন না পুনর্খনন ইত্যাদি দিকগুলো যাচাই না করে এই প্রকল্প অনুমোদন দেয়া একটি ঠিকাদার সিন্ডিকেটকে আঙ্গুল ফুলিয়ে কলাগাছ বানানোর সামিল বলে দাবি করছে স’ানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ নজরে আনা দরকার।
এদিকে লামা-আলীকদমের বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া মাতামুহুরী নদীর নাব্যতা হারিয়ে ৯০ শতাংশ চর জেগে উঠেছে। নদী ড্রেজিং না করে, প্রায় সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে ছড়া খনন প্রকল্প ২টি বাস্তবায়নের নামে পাহাড়ি ছড়ার প্রকৃত গতি নষ্ট ছাড়া আর কিছু নয় বলে দাবি করেছেন স’ানীয়রা। সরকারের উদ্দেশ্য মহৎ হলেও কাজের ধরন দেখে হতাশায় পড়েছে স’ানীয়রা। যেখানে মানুষদ্বারা কাজ করা প্রয়োজন সেখানে স্কেভেটর দিয়ে কাজ করায়, ছড়ার দ’ুধারের মাটি কেটে আবার তা পুনরায় ভরাট করা হচ্ছে। এর ফলে মাটি তার নিজস্ব শক্তি হারাচ্ছে, সামান্য বৃষ্টিতে ছড়ার তলদেশ আরো দ্রুত ভরাট হবে, একই সাথে পলিমাটি গিয়ে নদীও দ্রুত ভরাট হবে। জানা গেছে, শতবর্ষের ডেল্টা প্ল্যানের অংশ হিসেবে ৬৪ জেলার ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পুনর্খনন প্রকল্পের (১ম পর্যায়) আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে লামা-আলীকদম উপজেলায় প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেয়ে ঠিকাদার নিযুক্ত হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় ৮৮টি ছোট নদী, ৩শ৫২টি খাল এবং ৮টি জলাশয় খনন করা হবে। মূলত জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্য এবং বর্ষা মৌসুমে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে, শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের পানি ধরে রাখার জন্য এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। লামা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন বলেন, মাতামুহুরী নদী থেকে মধুঝিরি গ্রাম হয়ে কলেজ গেইট পর্যন্ত ছড়া পুনর্খননের নামে ফাঁকিবাজি চলছে। তিনি জানায়, ছড়ার দু’পাশে স্কেভেটর দিয়ে কাজ করলে স’ানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাহাড়ি ছড়া পুনর্খনন করার বিষয়ে স’ানীয়রা জানান, এসব ছড়া কেউ খনন করেননি। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট ছড়াগুলো নাব্যতা হারিয়েছে ঠিকই। এসব ছড়া/ঝিরির নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হলে সরকারি ম্যাপ অনুযায়ী ছড়া উদ্ধার করে কাজ করতে হবে। গত প্রায় একমাস ধরে একটি স্কেভেটর দিয়ে পৌর শহরের বাজার মার্মা পাড়ার পাশ ঘেঁষে যে পরিমাণ কাজ করেছে, তা মানুষের শ্রম দ্বারা করা অনেক সহজ ছিল। লামা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান বলেন, এই পার্বত্য জনপদ লামা ও আলীকদম উপজেলায় পরিবেশ বিদ্বেষী নানান কর্মকান্ডসহ চার দশক ধরে তামাক চাষের ফলে এই অঞ্চলের পাহাড়ি নদী, ছড়া, ঝিরি অনেকটা ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে বর্ষায় পানিতে তলিয়ে যায় জনবসতি। সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারে কাজের তীব্র সমালচনা করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মধুঝিরি ৩.৮ কিলোমিটার খনন ও ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে আলীকদমের মোস্তাকপাড়া ঝিরির ১.৩৪৫ কিলোমিটার খনন করা হবে। সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করা গেছে, আলীকদম উপজেলার মোস্তাকপাড়া ঝিরি খননের মাধ্যমে তলদেশ থেকে মাটি তুলে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ফলে ঝিরিটি নাব্যতা ফিরে পেতে চলছে। অন্যদিকে লামায় ঝিরি খননের নামে হচ্ছে ভরাট।