লামায় সেনাক্যাম্প স্থাপনের দাবিতে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিনিধি, লামা

লামা উপজেলার দুর্গম ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকায় সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের কবল থেকে রক্ষায় সেনাক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছে রাবার বাগান মালিক ও স্থানীয় গ্রামবাসী। মঙ্গলবার দুপুরে শতাধিক ভুক্তভোগী মনববন্ধন শেষে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সর্বদক্ষিণে ১ নম্বর ওয়ার্ড গয়ালমারা এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী দ্বারা আক্রান্ত। সাম্প্রতিক সময়ে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এলাকায় চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন, নারীধর্ষণ করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সন্ত্রাসীচক্রটি রাবার মালিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোটাংকের চাঁদা দাবি করে আসছে। তাদেরকে চাঁদা না দিলে প্রাণনাশসহ এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে বাগান মালিকসহ স্থানীয়দের। গত তিন মাস আগে গয়ালমারা গ্রামে এক তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছিল সন্ত্রাসীরা। এর ফলে এলাকাবাসী আতংকিত হয়ে পড়ে এবং চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।
স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়, সন্ত্রাসীদের ভয়ে গ্রামবাসী ও বাগানমালিকের প্রতিনিধিরা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকেই ইজ্জত ও প্রাণের ভয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। এ অবস্থা আর কিছুদিন বিরাজ করলে এলাকাটি মানুষের বসবাস উপযোগিতা হারাবে। সন্ত্রাসীদের আগ্রাসনের ফলে গয়ালমারা এলাকায় শত একর বাগানে রাবার কষ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অতিষ্ঠ হয়ে অনেক বাগান মালিক চলে গেছেন এবং অনেকে উৎপাদন কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ার মন স্থির করেছেন বলে জানা যায়।
জানা গেছে, এলাকাটি লামা উপজেলার সর্বদক্ষিণে নাইক্ষ্যংছড়ির কাছাকাছি হওয়ায় দুর্গম যোগাযোগহেতু পুলিশিং সেবা কষ্টসাধ্য। সাম্প্রতিক সময়ে এসব অস্থিরতার কারণে বাগান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় কয়েক হাজার রাবার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ার উপক্রম। এছাড়া বাগান মালিকরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার্জনে বিষয়টি অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বাস্তবতায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড গয়ালমারা এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাগান মালিকসহ স্থানীয়রা।