পাহাড়ে আলোর দিশারী

লামায় সিএইচটিআরডিপি’র অর্থায়নে ব্যাপক উন্নয়ন

এম. বশিরুল আলম, লামা
আজিজনগর-লামা সড়কে নির্মাণাধীন ব্রিজ
আজিজনগর-লামা সড়কে নির্মাণাধীন ব্রিজ

লামা উপজেলার উন্নয়নে সিএচিটিআরডিপি কর্তৃক ২০১৬-২০১৭-২০১৮, এই তিন অর্থবছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, বিসিদ্বারা সড়ক উন্নয়ন, ড্রেন, ব্রিকসলিন সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, বাজার সেড ও দুস্থ মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি নির্মাণ ইত্যাদি।
চলমান এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে এককোটি ষাট লক্ষ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে লামামুখ থেকে শীলেরতুয়া ৩ কিমি ৩ শ মিটার ব্রিকসলিন। এক কোটি বারো লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬ শ মিটার ড্রেন নির্মাণ। ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি কালভার্ট নির্মাণ। রুপসীপাড়া থেকে মংপ্রুপাড়া পর্যন্ত ৩ কিমি আট শ পঞ্চাশ মিটার সড়ক, কয়েকটি ব্রিজ-কালভার্টসহ আট কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্যাকেজ কাজ চলমান রয়েছে। নির্মাণাধীন সড়কে কয়েকটি ব্রিজ-কালভার্ট সম্পন্ন ও সড়ক স্ট্রেক্সার- মাটির কাজ ৮০ ভাগসম্পন্ন হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, আরো নিরানব্বই লাখ টাকা ব্যয়ে লামা ইউনিয়নের মেরাখোলা আশ্রায়ন প্রকল্প পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়ন হচ্ছে। একই সাথে উপজেলায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য বিভিন্ন হাট-বাজারে এক কোটি পঁয়ত্রিশ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি বাজার সেড তৈরির কাজ চলছে। এর মধ্যে ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কুমারী বাজারের সেডটি নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ফাইতং বাজার সেডের কাজ প্রায় শেষ হওয়ার পর্যায় ও ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সরই ক্যায়াজুপাড়া বাজার সেটের কাজও শেষ পর্যায় রয়েছে বলে জানা যায়।
একইভাবে উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের বানিয়ারছড়া পয়েন্ট থেকে গজালিয়া পর্যন্ত আট কিমি সাত শ ৪০ মিটার সড়ক, ৫টি প্যাকেজে বিসিদ্বারা উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। বড় তিনটি ব্রিজসহ এ সড়কের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ষোল কোটি একষট্টি লাখ ৭৭ হাজার ৫৯৫ টাকা। হালনাগাদ সড়কের স্ট্রেক্সার, মাটির কাজ ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন।
লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডরবাসিন্দা দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা হেলু মিয়ার বসবাসের জন্য আট লাখ ১৬ হাজার টাকা ব্যয়ে একতলা বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ কাজটিও ৯৭ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছর শুরু হতে না হতেই উপজেলার শীলেরতুয়া-রুপসীপাড়া সড়কে ৯৩০ মিটার চেইনেজে ৩৩ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য এক কোটি উনাশি লাখ নয় হাজার সাতশ বিরাশি টাকা ও সরই-কোয়ান্টম সড়ক নির্মাণে দুই কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকা ইতিমধ্যে বরাদ্দ এসেছে বলে সূত্রে জানা যায়।
লামা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি লামা পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নের উন্নয়নে আরো ব্যপক পরিকল্পনা নিয়েছেন।
রুপসিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান চাছিংপ্রু মার্মা ও গজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বাথোয়াইচিং মার্মা জানান, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্গম এলাকার ঘরে ঘরে আলো পৌঁছে দিতে প্রতিমন্ত্রী প্রতিটি পরিবারের জন্য সোলার প্যানেল সরবরাহ শুরু করেছেন। তারা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সোলার প্যানেল বিতরণ করা হয়। ইতোমধ্যে এই দু’ইউনিয়নে সাড়ে চারশ সোলার প্যানেল বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকলের ঘরে সোলারের আলো জ্বলবে।
পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম বলেন, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় পৌরসভায় শহর উন্নয়ন ও জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় ব্যপক জনকল্যাণ সাধিত হবে। যার ফলে লামা পৌ শহরে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগবে।
জেলা পরিষদ সদস্য মোস্তফা জামাল জানান, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লামাকে পর্যটকদের দৃশ্যপটে আনার নতুন পরিকল্পনা করছেন। দ্রুত এর বাস্তবায়ন শুরু হলে পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়বে লামা ও আশপাশের এলাকাগুলো।
উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আগামী ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে সিএইচটিআরডিপি প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হবে। নির্মাণাধীন এসব অবকাঠামো সম্পন্ন হলে এ উপজেলায় যোগযোগের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হবে। সে সাথে আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্র প্রসার হয়ে জীবন মানোন্নয়ন হবে স্থানীয়দের।