লাইফ সাপোর্টে মহিউদ্দিন চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক
Untitled-1

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চট্টগ্রামের গণমানুষের নেতা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। নগরীর মেহেদীবাগের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে ৭৪ বছর বয়সী চট্টলবীরকে।
গতরাত সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস’াপনা পরিচালক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লিয়াকত আলী খান সুপ্রভাতকে বলেন, ‘লাইফ সাপোর্টে যাওয়া মানে আর কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না।’
রাজধানীর স্কয়ার হসপিটাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামে ফিরে আসেন ১৭ বছরের সিটি মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী। কিন’ ফেরার দুই দিনের মাথায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাসায় হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস’ার অবনতি ঘটে। দ্রুত তাঁকে ম্যাক্স হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। প্রথমে চিকিৎসকরা তাঁর কিডনি ডায়ালাইসিস (রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করার উপায়) করেন। কিন’ সন্ধ্যার পর তাঁর শরীরের অবস’া খুবই সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।
মহিউদ্দিন চৌধুরীর সর্বশেষ অবস’া সম্পর্কে ডা. লিয়াকত আলী খান গতরাতে সুপ্রভাতকে বলেন, ‘তাঁর শরীরের কোনো অর্গানই (অঙ্গ) কাজ করছে না। এ অবস’া থেকে তাঁর ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।’
ডা. লিয়াকত আলী খান জানান, গত এক মাস ধরে উনার হার্টের অবস’া খুবই নাজুক ছিল। তিনটা রক্তনালীর ৭০ শতাংশের উপরে ব্লক ছিল।
২১ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের অ্যাপোলো গ্লিনিগ্যালস হাসপাতালে মহিউদ্দিন চৌধুরীর হার্টের রক্ত চলাচলের বাধা দূর করতে দুটি রিং বসিয়ে অ্যানজিওপ্লাস্টি করা হয়েছিল। কিন’ এ দুটি রিং বসানোর পরেও তাঁর হৃদপিণ্ডের রক্ত চলাচলের বাধা দূর হয়নি বলে জানানা ডা. লিয়াকত আলী খান।
নগরীর দুই নম্বর গেইট চশমা হিলের নিজ বাসায় গত ১০ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে হার্ট ও কিডনিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পর চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস’ার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরদিন দুপুরে তাঁকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় নিয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হার্টের উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৬ নভেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরের অ্যাপোলো গ্লিনিগ্যালস হাসপাতালে হৃদপিণ্ডের দুটি ব্লকে রিং লাগিয়ে গত ২৬ নভেম্বর ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি। রুটিন ডায়ালাইসিস ও ফিজিওথেরাপির জন্য তাঁকে ফের স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গেল মঙ্গলবার ঢাকা স্কয়ার হাসপাতাল থেকে সড়কপথে চট্টগ্রামে ফেরার সময় সিটি গেইটে অপেক্ষমান দলীয় নেতাকর্মীদের বাধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস দেখে চোখের জল ফেলেছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। এরপর দুপুর ১টার দিকে যখন নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় পৌঁছেন তখন সেখানে সমবেত হাজারো নেতাকর্মীর উপসি’তি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। গাড়ি থেকে হুইল চেয়ারে করে নেমে হাত তুলে দলীয় নেতাকর্মীদের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে উচ্চস্বরে সালাম দিয়ে দোয়া চান তিনি।