লস্কর নিয়োগ নিয়ে কথা বললেন নৌ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
south-container-yard-openin

অনেকে না জেনে বলছেন, আমি মন গড়া সিদ্ধান্তে বন্দরে নিয়োগ করেছি। সরকারি কোনো নিয়োগ মন গড়া নিয়মে হয় না। প্রথমে জেলা কোটায়, পরে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ করা হয়। এবার ৮৫ জন নিয়োগ পেয়েছে, এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪৫ জন ও অন্যান্য জেলা থেকে ৪০ জন।
চট্টগ্রাম বন্দরে সাউথ কন্টেইনার ইয়ার্ড উদ্বোধনে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান সমালোচনায় অজ্ঞতা পরিহার করার কথা বলতে গিয়ে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু দিন আগে একটি জাতীয় পত্রিকা আমাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছিলো। তারা সংবাদে বলেছিলো, বন্দরের কোটি কোটি টাকা খরচ করে আমি নাকি বিদেশ ভ্রমণ করেছি। আমি মামলা করেছি সেই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। মামলাটি এখনো চলছে। সেই সাংবাদিকের হয়তো আর চাকরি নেই।’
তিনি বিদেশ ভ্রমণ সম্পর্কে বলেন, ‘আমি ৮ বার বিদেশ গিয়েছি। কিন’ যখন নিউজ করেছিলো তখন আমি বিদেশ গিয়েছিলাম দুই বার। আমার কাছে সরকারি সাধারণ অনুমোদন (জিও) আছে। আর এ ভ্রমণ আমি একা করিনি। বন্দর উন্নয়নের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে গিয়েছি এবং এতে কোটি টাকা নয়, কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়েছিলো।’
বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের নামকরা বন্দর পরিদর্শন করে অভিজ্ঞতা নিয়েছেন বলেই চট্টগ্রাম বন্দরের অগ্রগতি ও উন্নয়ন হয়েছে দাবি করেছেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলেন, ‘বিদেশ গিয়ে অভিজ্ঞতা নিয়েছি বলেই বন্দরের জন্য মোবাইল স্ক্যানারের মতো আধুনিক যন্ত্র কিনতে পেরেছি। লোকসান কাটিয়ে ২০১৬ পর্যন্ত মংলা বন্দর আয় করেছে ৭০ কোটি টাকা। পায়রা বন্দর এর মধ্যে ১১টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করতে পেরেছে। এসব বন্দরকে এগিয়ে নিতে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে হয়েছে।’
তিনি সমালোচকদের যৌক্তিক সমালোচনা করার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘সমালোচনা যৌক্তিক করলে আমরা সংশোধনের সুযোগ পাবো। বিরোধের কারণে বা অজ্ঞতার কারণে সমালোচনা করলে বিরোধ বাড়বে।’
তিনি বর্তমান সরকার উন্নয়ন সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ‘প্রবাদে আছে, ‘পাপের ঘর থেকে লক্ষ্মী দরজা খুলে পালায়।’ তাই বিএনপি সরকার রাষ্ট্রের উন্নয়ন করতে ব্যর্থ। তারা এ রাষ্ট্রের শত্রুদের সাথে ঘর বেঁধেছে, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে রাষ্ট্রে অপরিমিত পাপ করেছে। উন্নয়নের প্রথম শর্ত হলো- সৎ হতে হবে। সততা ছাড়া উন্নয়ন অসম্ভব।’
তিনি বর্তমান সরকারের সততা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা উন্নয়নের স্বার্থে সকল রকমের ত্যাগ করতে রাজি। নিষ্ঠার সাথে উন্নয়নকে আরো গতিশীল করার চেষ্টা করছি।’
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের লস্কর পদে ৯২ জনের মধ্যে ৯০ নৌ মন্ত্রীর নিজ জেলা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে কথা রটেছে। এ নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। এতে ক্ষোভ বিরাজ করছে কোনো কোনা মহলে।