র্যাব বলছে জলদস্যু, পরিবারের দাবি ফার্নিচার ব্যবসায়ী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত বাঁশখালীতে

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁশখালী

বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের দুর্গম ১ নম্বর ওয়ার্ডে গতকাল সোমবার (২৫ মার্চ) ভোররাত সাড়ে ৩টা নাগাদ ডাকাতির প্রস’তির সময় র্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. আবু তালেব (৩৫) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। ঘটনাস’ল থেকে র্যাব ৭টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছেন। গুলিবিদ্ধ নিহত ব্যক্তি চকরিয়া উপজেলার আজিজ নগর গ্রামের মৃত আবুল কাসেমের পুত্র।
২০০২ সালের পূর্বে কুতুবদিয়া উপজেলার জন্মসূত্রে বাসিন্দা ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গার বিমানবন্দর সড়কের লালদীঘি চর এলাকায় তিশা ফার্নিচার নামের একটি দোকান পরিচালনা করেন এবং ওখানে স্ত্রী-সনত্মান নিয়ে বসবাস করেন। অপর ভাইরা লোহাগড়ার পদুয়ায় ফার্নিচারের দোকান করেন। আবু তালেবের শেখে তারা (৩৪) ও মুন্নি আক্তার (২৮) নামের দুই স্ত্রী আছে। একজন পদুয়ায়, অপরজন পতেঙ্গায় থাকেন।
র্যাব-৭ এর মিডিয়া অফিসার মো. মাশকুর রহমান বলেন, বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তি মো. আবু তালেব একজন দুর্ধর্ষ জলদস্যু। ছনুয়া উপকূলে ডাকাতির প্রস’তির খবর পেয়ে গতকাল সোমবার (২৫ মার্চ) ভোররাত সাড়ে ৩টা নাগাদ অভিযান পরিচালনা করলে তা ডাকাত ও র্যাবের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে রূপ নেয়। পরিসি’তি শানত্ম হলে ঘটনাস’ল থেকে আবু তালেবের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস’ল থেকে ৭টি রিভলবার ও বন্দুক উদ্ধার করা হয়। সাথে ২২ রাউন্ড কার্তুজও পাওয়া যায়।
গতকাল সোমবার সকাল ১১ টায় বাঁশখালী থানায় আসেন নিহত আবু তালেবের দুই স্ত্রী শেখে তারা ও মুন্নি আক্তার। এদের সাথে আসেন তালেবের দুই ভাই মো. ইব্রাহিম ও মো. শাহজাহান। ঘটনার প্রাথমিক তদনেত্ম নিয়োজিত বাঁশখালী থানার এসআই আব্দুল কুদ্দুসের কাছে ওরা জানতে চান র্যাবের বন্দুকযুদ্ধে তালেব কেন নিহত হল? কী তার অপরাধ? এস আই আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ডাকাতির প্রস’তির সময় র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় র্যাবের পড়্গ থেকে অস্ত্র আইন, ডাকাতির প্রস’তি ও আহতের

ঘটনায় ৩টি মামলার প্রস’তি চলছে।
নিহত আবু তালেবের দুই স্ত্রী শেখে তারা ও মুন্নি আক্তার এবং দুই ভাই মো. ইব্রাহিম ও মো. শাহজাহান বলেন, রা্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা যাবার পর আমার ভাইকে ডাকাত বলা হচ্ছে কেন ? কোন্ থানায় আমার ভাইয়ের বিরম্নদ্ধে ডাকাতি কিংবা অন্য মামলা আছে? তা জানতে পারলে আমরা শানিত্ম পাব। ফার্নিচারের ব্যবসা পরিচালনা করতেন আবু তালেব। গত ১১ ফেব্রম্নয়ারি থেকে নিখোঁজ থাকার পর এভাবে আমরা তার লাশের খবর পাব- তা আশা করিনি। দ্বিতীয় স্ত্রী মুন্নি আক্তার দাবি করেন রাত সাড়ে ৩টায় মারা যাবার পর ৪টায় ছনুয়া থেকে এক ব্যক্তি তার মোবাইলে ফোন করে বলেন তালেব মারা গেছে। ছনুয়ায় তালেবের ফুফার বাড়ি। তালেব প্রায়সময় একজন জনপ্রতিনিধির ডাকে ওখানে যেতেন।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, এটি র্যাবের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা। র্যাব এ সংক্রানত্ম মামলা করবে। মামলার পর বিসত্মারিত জানা যাবে। লাশ ময়নাতদনেত্মর জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।