রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে করে বান্দরবানে ঘর ছাড়লেন তিন সন্তানের বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান

কোমলমতি তিন মেয়ে এবং স্ত্রী রেখে রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে করে ঘর ছাড়লেন বান্দরবানের এক ব্যক্তি। তার নাম নূর আলম। বয়স ৪০ বছর। তিনি বান্দরবান জেলা শহরের ইসলামপুরের বাসিন্দা আবুল কাশেমের পুত্র। পেশায় তিনি একজন গাড়ি চালক। গাড়ি চালানোর সুবাদে নূর আলমের সাথে পরিচয় মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নারী ছেনোয়ারা’র সঙ্গে। আর পরিচয়ের সূত্র ধরেই রোহিঙ্গা ঐ নারীকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর থেকে প্রথম স্ত্রী খালেদা বেগম এবং সন্তানদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই ঐ ব্যক্তির। রোহিঙ্গা ঐ নারীরও আগের তিন সন্তান এবং স্বামী রয়েছে। তারা বর্তমানে কক্সবাজারের বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রয়েছে বলে জানিয়েছেন নূর আলমের প্রথম স্ত্রী খালেদা বেগম।
কান্নাজড়িত কন্ঠে খালেদা বেগম বলেন, আমার তিন মেয়ে। বড় মেয়ে সায়রা আকতার সোসিনা ক্লাস নাইনে পড়ে। মেজ মেয়ে নূসরাত জাহান তানিয়া পড়তো তৃতীয় শ্রেণীতে।
ছোট মেয়ে আসমা আকতারও তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ছে। তাদের ভবিষ্যত এখন কি হবে?। দেড়মাস ধরে স্বামী তাদের কোনো খোঁজ খবর নিচ্ছেন না। রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে করে বাংলাদেশী হয়েও তার স্বামী নূর আলম আশ্রয় নিয়েছে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। আমার তিন মেয়ে বাবার জন্য খুব কান্নাকাটি করে। মেজ মেয়েকে নিয়ে আমি এখন চট্টগ্রামে বাবার বাড়িতে অবস’ান করছি। ছোট এবং বড় মেয়ে দুজন দাদার বাড়িতে থাকে। আমার স্বামীকে ফিরে পেতে আমি সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় নূর আলমের বাবা আবুল কাশেম প্রকাশ কাশেম মোল্লার সঙ্গে। তার দাবি ছেলে বান্দরবানে মহেন্দ্র জীপ গাড়ি চালাতো। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বেশ সুখেই ছিলেন এতদিন। কয়েকমাস ধরে বান্দরবানে পর্যটক কমে যাওয়ায় গাড়ি ভাড়া হয়নি নিয়মিত। বসে বসে অলস সময় কাটানোর ফলে অনেক ধার-দেনা হয়েছে ছেলের। সংসারের টানা হেচড়ায় প্রায় সময় স্ত্রীকেও মারধর করতো বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য। কিন’ রোহিঙ্গা এক নারীকে বিয়ে করে তার ছেলে ঘর ছেড়েছে এখন প্রায় দেড়মাস। স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা কারোর সঙ্গেই কোনো যোগাযোগ নেই তার। খবর পেয়েছি কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছিল এতদিন। বর্তমানে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই রোহিঙ্গা হিসাবে আশ্রয় নিয়েছে। আমার ছেলের বউ খালেদা এবং তিন নাতিন খুবই কষ্টে আছে। তাদের কষ্ট আমার সহ্য হচ্ছেনা। ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে আমাদের একটু সাহায্য করেন।
এদিকে দাদার বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলছিল ছোট্ট শিশু আসমা আকতার। বয়স তার বড়জোর নয় বছর হবে। বান্দরবানের শহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ালেখা করে সে। বাবার কথা জিজ্ঞাসা করতেই তার চোখে পানি টলমল করে উঠে। বাবা কোথায়? এ প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে ছোট্ট শিশু আসমা আকতার জানালো, বাবা তাদের ছেড়ে চলে গেছে।