রোহিঙ্গা ক্যাম্প ডায়রিয়া ও কলেরা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

দীপন বিশ্বাস, কক্সবাজার
Kolera-vacine-eat-in-rohing

উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় ডায়রিয়া ও কলেরা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে পাঁচ লাখ ১৫ হাজার নতুন রোহিঙ্গা এসেছে। নতুনদের মধ্যে ৬০ শতাংশ শিশু। তাদের ৩০ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। গত সপ্তাহ পর্যন্ত ক্যাম্পগুলোতে পাঁচ হাজার ১১ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য আছে প্রশাসনের কাছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভালো স্যানিটেশন, নিষ্কাশন ইত্যাদির অবকাঠামো নেই। বৃষ্টির পানি ল্যাট্রিনসহ ক্যাম্প ধুয়ে নিয়ে যায়। বর্তমানে ক্যাম্পগুলোয় জনঘনত্ব খুব বেশি। এসব কারণে রোগের প্রকোপ দেখা যাওয়ায় রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করেছে।
কলেরার টিকা
জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসেই রোহিঙ্গা
ক্যাম্পগুলোয় এক বছরের বেশি বয়সী শিশুদের কলেরার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ৭ অক্টোবর মুখে খাওয়ার নয় লাখ ডোজ কলেরার টিকা বাংলাদেশে পৌঁছে।
গতকাল মঙ্গলবার থেকে শিশুদের টিকা খাওয়ানোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছে।
ইউনিসেফের দুই হাজার ৬২৫টি টিউবওয়েল, ১৫ হাজার ৭৫০টি ল্যাট্রিন স’াপনের পরিকল্পনা আছে।
রোহিঙ্গাদের হাতে ‘অনিবন্ধিত’ সিম, নিরাপত্তা ঝুঁকি :
টেকনাফ শহরে রমরমা ব্যবসা চলছে মুঠোফোনের দোকানগুলোয়। ধুম পড়েছে মুঠোফোনের সিম বিক্রির। এসব নতুন সিম কার্ড কিনছেন মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পার হয়ে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গারা। তাদের অনেকেই সঙ্গে করে ফোন সেট নিয়ে এসেছেন। আবার অনেকে এখান থেকেও নতুন ফোন কিনছেন।
টেকনাফের মতো উখিয়াতেও সিম কার্ড বিক্রির রমরমা বাণিজ্য চলছে। টেকনাফে সিম বিক্রির ছোট-বড় দোকান আছে প্রায় ১৫০টি। এ ছাড়া পথের ধারে টুল নিয়েও অনেকে সিম বিক্রির কারবারে বসে গেছেন। নিয়ম অনুসারে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া সেলফোনের সিম কেনা যায় না। কিন’ রোহিঙ্গাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। দোকানগুলোয় এ ধরনের জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করাই আছে। চাইলেই যেকোনো কোম্পানির সিম কেনা যাচ্ছে।
আবার অনেক নতুন আসা রোহিঙ্গা তাদের পরিচিত পুরোনো রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে সিম কার্ড কিনছেন।
টেকনাফের লেদা, নয়াপাড়া, পুটিবুনিয়া, উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থাইনখালী পুরুষদের প্রায় সবার কাছে এবং নারীদের অনেকের হাতে মুঠোফোন দেখতে পাওয়া যায়। অথচ বৈধ পদ্ধতিতে নতুন রোহিঙ্গাদের মুঠোফোনের সিম কার্ড কেনার কোনো সুযোগ নেই। টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন সিদ্দিক বলেন, রোহিঙ্গাদের অনেকের হাতে মুঠোফোন দেখেছি। অনেককে কথা বলতেও দেখেছি। রোহিঙ্গাদের হাতে অনিবন্ধিত সিম থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আজ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীর (কঃ) ২৯তম ওরশ

মাইজভাণ্ডার দরবার অধ্যাত্ম শরাফতের অন্যতম প্রাণপুরুষ শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীর (কঃ) ২৯তম ওরশ আজ ১১ অক্টোবর মাইজভাণ্ডার শরিফ গাউসিয়া হক মন্জিলে ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রিয় পর্ষদের উদ্যোগে ওরস শরিফের বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে বা’দে ফজর রওজা শরিফে গিলাফ চড়ানো, খত্মে কুরআন, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহ্ফিল এবং রাত ১০টায় আলোচনা ও কেন্দ্রিয় মাহ্ফিল। কেন্দ্রিয় মাহফিলে সভাপতিত্ব ও আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করবেন সাজ্জাদানশীন হযরত আলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (মাজিআ)।
এছাড়া শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের উদ্যোগে রয়েছে ‘ইসলামের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য’ সম্বলিত দুর্লভ চিত্র ও ভিডিও প্রদর্শনী, উপদেশমূলক, দিক-নির্দেশনা সম্বলিত প্রচার, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস’া, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা, পর্যাপ্ত অস’ায়ী টয়লেটের ব্যবস’া। নগরীর মুরাদপুর থেকে দুপুর ১০টা হতে প্রতি ঘণ্টায় একটি করে বিআরটিসি’র বিশেষ বাস সরাসরি মাইজভাণ্ডার শরিফের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
উল্লেখ্য, শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) হচ্ছেন অছি-এ-গাউসুল আ’যম হযরত মাওলানা শাহ্সুফি সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারীর (কঃ) জ্যেষ্ঠ পুত্র। বহু রিয়াজত ও সাধনার পথ অতিক্রম করার পর ১৩৭৩ বাংলার ৯ মাঘ উরস্ শরিফের প্রথম দিনে গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারীর (কঃ) স্বপ্নাদেশক্রমে তাঁর পিতা পীরে কামেল অছি-এ-গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (কঃ) শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) কে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাফত দানের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ অলির আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৮৮ সালের ১২ অক্টোবর মাঝ রাতে তিনি ওফাত লাভ করেন। বিজ্ঞপ্তি